প্রকাশিত: ২৯ মে, ২০২২ ২০:২৭ (শনিবার)
সিলেটে চলছে লাইসেন্সবিহীন ৩৯টি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার

সিলেটে অনিবন্ধিত ক্লিনিক, ডেন্টাল ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। এর আগে এসবের মালিক বা পরিচালককে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সময়ের মধ্যে বৈধ কাগজপত্রবিহীন স্বাস্থ্য-প্রতিষ্ঠান বন্ধ না হওয়ায় রোববার (২৯ মে) সকাল থেকে নগরীসহ সিলেটের বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে কঠোর অভিযান শুরু হয়।

রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে একটি ডেন্টাল ক্লিনিক, দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও একটি ফার্মেসিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়াও মেয়াদ উত্তীর্ণ টেস্ট সামগ্রী দিয়ে রোগীদের টেস্ট করানোর দায়ে দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা এবং একটি ক্লিনিককে সতর্ক করে দিয়ে এক মাসের সময় দেওয়া হয়। 

এসব অভিযান শেষে সিলেট জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত গণমাধ্যমকে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে আজ থেকে সিলেটে অনিবন্ধিত ক্লিনিক, ডেন্টাল ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। প্রথম আমরা শুধু অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো। পরবর্তীতে যাদের নিবন্ধন আছে কিন্তু বিভিন্ন অনিয়ম করছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামবো। 

এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জন্মেজয় দত্ত বলেন, আমাদের তথ্যমতে সিলেট শহরে ১৬টি এবং বিভিন্ন উপজেলায় ২৩টি অনিবন্ধিত ক্লিনিক, ডেন্টাল ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু আছে। আমরা পর্যায়ক্রমে সবগুলোতে অভিযান চালাবো। 

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আবেদন করার পরপরই কোনো প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া শুরু করতে পারবে না। প্রথমে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। পরে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সব ঠিক থাকলে আমাদের একটি টিম সরেজমিন পরিদর্শন করে। এরপর আমরা চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি অনুমোদন প্রদানের জন্য ফাইল ঢাকায় পাঠাই। এ ক্ষেত্রে অনুমোদন পেতে একটু দেরি হলে আবেদিত প্রতিষ্ঠানের সবকিছু ঠিক থাকলে বিলম্বিত সময়ে তারা স্বাস্থসেবা দিলেও আমরা একটু ছাড় দেই। কিন্তু যারা কোনো আবেদন না করেই প্রতিষ্ঠান খুলে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জানা যায়, রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযানে সিলেট নগরীর স্টেডিয়াম মার্কেটের একটি ডেন্টাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, দরগাহ গেইট এলাকার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ফার্মেসিকে বন্ধ এবং বিশ্বনাথের দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা করা হয়েছে। 

ভোক্তা অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদের নেতৃত্বে সিলেটে বিশ্বনাথে পরিচালিত অভিযানে উপজেলা সদরের মা মনি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১৫ হাজার এবং সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গবেষণাগারে বিভিন্ন টেস্টের বিপুল পরিমাণ মেয়াদবিহীন ও মেয়াদউত্তীর্ণ উপকরণ (রিএজেন্ট) পাওয়া যায়। 

অপরদিকে, বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সিলেট নগরীতে অভিযান শুরু করে জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত টিম। অভিযানকালে দরগাহ গেইটের (পশ্চিম) আশ-শেফা মেডিকেল সার্ভিসেস ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও আশ-শেফা ফার্মেসিকে সিলগালা করা হয়। এর মধ্যে ফার্মেসির ছিলো না ড্রাগ লাইসেন্স এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারেরও ছিলো না বৈধ কাগজপত্র।  
 
এরপর অভিযান চালানো হয় সিলেটের রিকাবীবাজারস্থ স্টেডিয়াম মার্কেটে। সেখানে ‘সিলেট ইন-ডেন্টাল ক্লিনিক ও সেন্ট্রাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে লাইনসেন্স না থাকায় সিলগালা করা হয়। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই সেটি লাইন্সেবিহীন অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ অপরাধে ‘সিলেট ইন-ডেন্টাল ক্লিনিক ও সেন্ট্রাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-কে সিলগালা করে দেওয়া হয়। 

এরপর অভিযান পরিচালিত হয় নগরীর কাজিটুলাস্থ সুর্যের হাসি ক্লিনিকে। এ ক্লিনিককে কাগজপত্র ঠিক করার জন্য এক মাসের সময় দিয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়। 

নগরীতে অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রেভিনিউ ডেপুটি কালেকটর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফসানা তাসলিম এবং ভোক্তা অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ। অভিযানে সহযোগিতা করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমটি) একটি টিম। 

এদিকে, সারাদেশে ৮৮২টি অবৈধ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংক বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে সিলেট বিভাগে ৩৫টি। রোববার (২৯ মে) সন্ধ্যায় অধিদপ্তরের এক হালনাগাদ তথ্যে বিষয়টি জানানো হয়।

অপরদিকে- সিলেট বিভাগে হবিগঞ্জ জেলায় টানা দুইদিন অভিযান চালিয়ে ১৮টি অনিবন্ধিত বেসরকারি হাসপতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শনি ও রোববার (২৮ ও ২৯ মে) জেলার বিভিন্ন স্থানে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে এসব অনিবন্ধিত হাসপাতাল ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়া হয়। রোববার বিকেলে তথ্যটি জানান হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নূরুল হক। 
 
তিনি বলেন, যে সকল হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বৈধ কাগজপত্র নেই বা অনিবন্ধিত সেগুলো অভিযানের মাধ্যমে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ক্লিনিকের মালিকদের বন্ধের পাশাপাশি জরিমানাও করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন আরো বলেন, জেলার কোথাও অনিবন্ধিত ক্লিনিক হাসপাতালের কার্যক্রম চলতে দেয়া হবে না। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। 

বন্ধ করা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- শায়েস্তাগঞ্জ পিপলস মেডিকেল সার্ভিসেস, চুনারুঘাট সুর্যের আলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার, এমকে ডায়াগনস্টিক সেন্টার, গ্রীণ লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ঢাকা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ঢাকা ডায়াগনস্টিক সেন্টার মাধবপুর, মাধবপুর তিতাস মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল, মাধবপুর সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মাধবপুর প্রাইম ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মাধবপুর এপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হবিগঞ্জ সদরের রোকেয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সিটি চক্ষু হসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডা. সানি কনসালটেশন সেন্টার, শায়েস্তাগঞ্জ এপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বাহুবল নিউ জেনারেল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডক্টরস হসপিটাল। 


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম