মাত্র মাস খানেকের ব্যবধানে টানাবর্ষণ ও ঢলের পানিতে ফের বন্যায় কবলিত হয়েছে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা। উপজেলার লামাকাজী, খাজাঞ্চী, অংলকারী, রামপাশা ও দৌলতপুর ইউনিয়নের প্রায় ৮৫% মানুষ ইতিমধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। গেল মাসের বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে উঠার পূর্বেই দ্বিতীয়বার বন্যায় কবলিত হওয়ার ফলে এসব এলাকার মানুষের দূর্ভোগের অন্ত নেই। সুরমা-কুশিয়ারা নদীসহ বিশ্বনাথের বিভিন্ন নদ-নদী ও খাল-বিল হাওরে পানি যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে বৃহস্পতিবার রাতে পুরো উপজেলা ও পৌর এলাকা বন্যায় কবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সিলেট-ছাতক রেললাইন এবং সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন সড়ক বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ার ফলে এসব সড়ক দিয়ে যান (রেল ও যানবাহন) চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বন্যার পানিতে ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে কৃষি জমি, স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ মানুষের বসত ঘর। গৃহপালিত পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সর্বসাধারণ।
সদ্য হয়ে যাওয়া বন্যার মতো উপজেলার অনেক ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক ভেঙ্গে বন্যার পানি প্রবেশ করছে। ফলে চলাচলের ক্ষেত্রেও মানুষকে বন্যা শেষ হওয়ার পর আরও বেশি দূর্ভোগ পোহাতে হবে। ইতিমধ্যে বন্যায় কবলিত হওয়া এলাকার বাসিন্দারা নৌকা ও ভোরায় চলাচলের প্রস্তুতি নিয়েছেন। আর কদিন পরেই শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহন করা নিয়ে শিক্ষার্থীরা রয়েছেন চরম উৎকন্ঠায়।
উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া বলেছেন, ইউনিয়নের সবকটি গ্রাম বন্যায় পানিতে তলিয়ে গেছে। মানুষের বাড়ি-ঘরে পানি উঠে গেছে। এই ভয়াবহ অবস্থায় মানুষ দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন। পানিবন্ধী মানুষের আশ্রয়ের জন্য ৪টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে ইতিমধ্যে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন।
খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরশ আলী বলেন, ‘৫০ বছরের মধ্যে এত বড় বন্যা কখনো দেখিনি। রেল স্টেশনে পানি দেখা দূরের কথা আজ রেল স্টেশনটিও পানিতে তলিয়ে গেছে। আমার ইউনিয়নে প্রাইমারি স্কুলগুলো নিচু তারপরও পানিবন্দি মানুষদের উচু বিদ্যালয়গুলোতে আশ্রয় নেয়ার জন্য বলে রেখেছি। এছাড়া ইউনিয়ন অফিসের দু’তলায় গরু-ছাগল রাখার জন্য বিভিন্ন গ্রামের মানুষকে বলা হয়েছে।’
অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেল জানান, ইউনিয়নের শতকরা ৮৫% ভাগ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এলাকায় পানি হু-হু করে বাড়ছে, মিনিটের মধ্যে প্লাবিত করছে নতুন নতুন এলাকা। মানুষকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বলেছি।
রামপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, এক মাসের ব্যবধানে ফের বন্যার কবলে পড়ায় সর্বসাধারণকে চরম দূর্ভোগ পড়তে হয়েছে। রাস্তাঘাট ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি ডুবছে। ফলে গরীব সাধারণসহ ইউনিয়নবাসী সীমাহীন দূর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।
দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূর উদ্দিন মেম্বার বলেন, পূর্বের বন্যার সময়ই আমাদের ইউনিয়নের জনগুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়ক ভেঙ্গে পানি ডুকে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত করেছে। এবারের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক নুসরাত জাহান বলেন, বন্যা কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছি। পানিবন্দি মানুষদের প্রত্যেকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিডি
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.