রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মন্ডল বেপারী। গত বছর ৩০ টি গরু নিয়ে সিলেট এসে লাভবান হয়েছেন। তাই এবার ঈদুল আজহায় ৪০ টি গরু নিয়ে সিলেটে এসেছেন। তবে এবার পড়েছেন লোকাসানের শঙ্কায়।
শুক্রবার দুপুরে সিলেট নগরীর টিলাগড়ের মিরাপাড়ার একটি হাটে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, ‘গত ঈদে গরু ভালো দামে বিক্রি করেছি। এবার যেহেতু সিলেট- সুনামগঞ্জে বড় বন্যা হয়েছে তাই ভেবেছিলাম সিলেটে গরু কম হবে। কিন্তু হাটে তো গরু পর্যাপ্ত আছে। তবে ক্রেতা নেই।
এই বেপারীর মতো সিলেট নগরীর অন্যান হাটের গরু নিয়ে আসা বেপারীদেরও চিত্র একই। সবাই রয়েছেন লোকসানের শঙ্কায়।
টিলাগড়ের মিরাপাড়া হাটে সজিব রানা রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে ১৫ টি গরু নিয়ে এসেছেন। তিনি জানান, বাজার এখনও অন্যবারের মতো জমেনি। এখন যারা আসছেন আসছেন, হাতে গোনা কয়েকজন গরু কিনছেন। অনেকেই দাম জিজ্ঞেস করে চলে যান। তবে আগামী শুক্র ও শনিবার কোরবানির পশুর হাট জমজমাট হবে আশা তার।
এই হাট ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতারা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। ক্রেতাদের উপস্থিতি কম। বাজারে মাঝারি থেকে শুরু করে বড় গরু দেখা গেলেও বিক্রেতারা দাম বেশি চাচ্ছেন।
দাম বেশী নিয়ে তুহিন মিয়া নামের এক বেপারী জানান, বাজারে এখন সব ধরনের পণ্যের দাম বেশি। গরুর খাবার কাঁচা ঘাস, ভুসি, খৈল, খড় এমনকি লবণের দামও বেমী। সব কিছু বিবেচনায় দাম ঠিক আছে।
কুড়িগ্রামের জুবেল আলী বেপারী বলেন, আমি এবছর ১৫টি গরু নিয়ে সিলেট এসেছি। দামাদামি করছেন অনেকে, তবে সুবিধামতো না হওয়ায় গরু বিক্রি করেননি। আশা করছি, যেহেতু আগামী ১০ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহা তাই আগামীকাল বিক্রি বাড়তে পারে।
প্রসঙ্গত- দফায় দফায় বন্যায় প্লাবিত সিলেট নগরীতে এবার ৬টি পশুর হাট বসেছে। সেগুলো হচ্ছে, দক্ষিণ সুরমাস্থ কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন খালি জায়গা, চৌকিদেখী পয়েন্ট সংলগ্ন খালি জায়গা, ঝালোপাড়া মসজিদ সংলগ্ন খালি জায়গা, মদিনা মার্কেটস্থ নববী মসজিদ সংলগ্ন খালি জায়গা, নতুন টুকের বাজার, মিরাপাড়াস্থ আব্দুল লতিফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন খালি জায়গা।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/কেআইএম/এসডি-৩৫
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.