চার মাসের মধ্যে তিনবার বন্যার কবলে পড়েছে সিলেট বিভাগ। প্রথমবার শুধু সিলেট-সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বন্যা হলেও এক মাসের ব্যবধানে দুইবার বন্যাকবলিত হয় পুরো সিলেট জেলা। এর মধ্যে তৃতীয় দফা বন্যা ছিলো স্মরণকালের ভয়াবহ। এতে নগর থেকে গ্রাম- সব জায়গার ৯০ ভাগ তলিয়ে যায় পানির নিচে। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতিতে পড়েন সিলেটবাসী। ফলে এবারের ঈদুল আযহায় অনেকেই দিতে পারছেন না পশু কুরবানি।
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের শফিক মিয়া একজন কৃষক। তার দুই ভাই প্রবাসে থাকেন। চলতি বছর স্থানীয় হাওরে প্রায় দুই একর জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছিলেন। পাহাড়ি ঢল আর ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় প্রথম দফায় বোরো ধান এবং সর্বশেষ তৃতীয় দফায় আমন ধানের ফসল তলিয়ে যায়। পাশাপাশি বন্যার পানিতে হাবিবুরের ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিন দফা বন্যায় সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া হাবিবুর প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবার পশু কোরবানি দিতে পারছেন না। এ কষ্ট এখন তাঁকে ভোগাচ্ছে। পরিবারেও নেই ঈদের আমেজ।
শফিকের মতো অবস্থা বন্যাকবলিত সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলার অনেকেরই। তাই পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে এলেও অনেক বাড়িতে নেই উৎসবের আমেজ। ভয়াবহ বন্যায় সম্বল হারানো বেশ কয়েকজন বানভাসি জানিয়েছেন, বন্যায় কারও ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে, কারও ফসল ডুবেছে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ, ডুবে গেছে দোকানপাট। অনেক এলাকা থেকে পানি নেমে যাওয়ায় এখন মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লড়াই করছেন। এ অবস্থায় টাকার অভাবে বিশেষত মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত অনেকেই পশু কোরবানি দিতে পারছেন না। এমনকি যাঁরা আগের বছরগুলোতে একাধিক পশু কোরবানি দিয়েছিলেন, এবার তাঁরাও কম পশু কোরবানি দেবেন।
চলতি বছর সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা নিম্নাঞ্চলে তিন দফায় ও জেলার বাকি প্রায় সব উপজেলায় দুই দফায় বন্যা হয়। সরকারি হিসাবে জেলায় শেষবারের বন্যায় ৪০ হাজার ৪১টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা অন্তত ৩০ লাখ। গত ১৫ জুন থেকে শুরু হওয়া বন্যায় এখনো অন্তত ৪০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত। দফায় দফায় বন্যা অনেককেই একেবারে শেষ করে দিয়েছে। আর্থিকভাবে বেশিরভাগ মানুষ খুবই করুণ অবস্থায় আছেন। ফলে অনেকেই হারিয়েছেন কুরবানি দেওয়ার সামর্থ্য।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.