প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২২ ১৭:৫৩ (শনিবার)
সিলেটে কিশোর বলাৎকার, যুবক কারাগারে

কারাগারে যাওয়া আতাউর রহমান আতাব

সিলেট সরকারি শিশু পরিবারের প্রাক্তন নিবাসী এক কিশোরকে (১৮) বলাৎকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে আতাউর রহমান আতাব নামের এক যুবককে গ্রেফতারের পর কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। 

গত ১৬ জুন ওই কিশোরকে সিলেট বাগবাড়িস্থ এতিম স্কুলের গার্ড রুমে নিয়ে বলাৎকার করে তা মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন আতাব। পরে গত ৩ জুলাই ফের ওই কিশোরকে বলাৎকার করতে গেলে আতাবকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয় জনতা। পরদিন (৪ জুলাই) নির্যাতনের শিকার কিশোর আতাবের বিরুদ্ধে সিলেট কোতোয়ালি মামলা দায়ের করেন। 

কারাগারে যাওয়া আতাউর রহমান আতাব জকিগঞ্জ উপজেলার গেচুয়া গ্রামের মৃত আব্দুল ছাত্তারের ছেলে। তিনি বাগবাড়ী এতিম স্কুল এলাকায় থাকেন। গ্রেফতারের পর তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন। 

মামলার এজাহার ও স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোর সিলেট সরকারি শিশু পরিবারের নিবাসী ছিলো। আর আতাব শিশু পরিবারের অভ্যন্তরে অবস্থিত সিলেট ইনক্লুসিভ স্কুল অ্যান্ড কলেজের নৈশপ্রহরী ছিলেন। আতাবের বড় ভাই আতিক উদ্দিন ছিলেন শিশু পরিবারের কর্মচারী। সে সুযোগে নির্যাতিত ওই কিশোরসহ শিশু পরিবারের নিবাসীদের সঙ্গে আতাবের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাছাড়া শিশু পরিবারের নিবাসীদের দেখভালের দায়িত্বে (বড় ভাইয়া পদে) থাকা আবুল কালাম আজাদের সাথে তার সু-সম্পর্ক ছিলো। শিশু পরিবারের ইলেকট্রিকসহ নানা কাজ আতাবকে দিয়ে করাতেন আজাদ। সেই সুযোগে শিশু পরিবারের অনেক ছেলেকেই শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন আতাব উদ্দিন। 

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ জুন ওই কিশোরকে এতিম স্কুলের গার্ড রুমে নিয়ে বলাৎকার করে তা মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন আতাব। পরবর্তীতে ওই কিশোরকে আবারো বলাৎকার করতে চাইলে এতে সে সম্মত না হওয়ায় ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন আতাব। কিশোরটি ভয়ে সিলেটের গোয়াইনঘাটস্থ তার বাড়িতে চলে যায়। পরে ওই কিশোরকে আনতে তার বাড়িতে গেলে আতাবকে আটক করে স্থানীয় জনতা গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। 

অভিযোগ রয়েছে, আতাবের সব অপকর্ম ঢেকে রাখতেন শিশু পরিবারের ‘বড় ভাইয়া’ আজাদ। আতাবকে তিনি শেল্টারও দিয়ে থাকেন। আতাবের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠায় তাকে ইনক্লুসিভ স্কুল থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তবু এতিম স্কুলে তার অবাধ যাতায়াত ছিলো ‘বড় ভাইয়া’ আজাদের শেল্টারে। 

নির্যাতিত কিশোরের দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেট কোতোয়ালি থানার এস.আই নিরারিকা সরকার সিলেটভিউ-কে বলেন, আতাব আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন। 


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম