প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২২ ১৫:২৪ (শনিবার)
মাল্টা চাষে সফলতা পেয়েছেন বানিয়াচংয়ের আজাদ

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল মাল্টা। প্রধানত বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে এর চাষ হলেও বর্তমানে দেশের কোথাও কোথাও সমতল ভূমিতেও মাল্টার চাষ হচ্ছে। সফলও হচ্ছেন অনেকেই। তেমনিভাবে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচংয়ে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষে পুরোপুরি সফল হয়েছেন উপজেলার অন্যতম কৃষি উদ্যোক্তা আজাদ মিয়া।

 

বানিয়াচংয়ের মাটিতে মাল্টা চাষ করে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি।

 

হবিগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কের পাশে পাড়াগাঁও এলাকায় নিজের প্রায় ২ একর জমিতে মনোমুগ্ধকর এক মিশ্র ফলের বাগান করেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী আজাদ মিয়া। বাগানে চাষ করেছেন আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, মাল্টা, নারিকেল, পেয়ারা, করমচা, লেবুসহ আরও হরেক রকম ফল।

 

এরমধ্যে অন্তত ৫০ শতাংশ জায়গায় উন্নত মানের মাল্টা চাষ করেছেন তিনি। এতে পুরোপুরি সফলও হয়েছেন আজাদ মিয়া।

 

এক প্রশ্নের জবাবে আজাদ মিয়া জানান, চার বছর আগে মিশ্র ফলের বাগানে তিনি নিজ উদ্যোগে অন্তত ২০০ টি মাল্টার চারা লাগিয়েছিলেন। সেই চারা নিয়মিত পরিচর্যায় পরিপূর্ণ ফলনে রূপান্তরিত হয়েছে শতভাগ সফল বাগানে। গতবছর গাছ থেকে মাল্টা সংগ্রহ করছেন তিনি।

 

এবছরও গাছে গাছে থোকায় থোকায় মাল্টা ধরেছে। মাস খানেকের মধ্যেই গাছ থেকে পাকা মাল্টা সংগ্রহ করবেন তিনি।

 

শুধু মাল্টাই নয়। তার ফলের বাগানে রয়েছে আম লিচু, কাঁঠাল, পেয়ারা, জামসহ আরও হরেক রকমের ফলের সমাহার। ইতোমধ্যে লিচু, আম এবং কাঁঠাল বিক্রি শেষ করেছেন তিনি। রয়েছে বিশাল আম বাগানও। তবে বাগানটির সিংহভাগজুড়ে আছে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল মাল্টার আবাদ। তাছাড়াও লেবুসহ রয়েছে কিছু সবজিও।

 

এদিকে ফলের পাশাপাশি কবুতর, দেশী মুরগী এবং গবাদি পশুর খামারও রয়েছে তার। বর্তমানে তার খামারে দুইজন লোক নিয়মিত কাজ করছেন। আর যুক্তরাজ্য থেকে অনলাইনে নিয়মিত মনিটরিং করছেন তিনি। তাছাড়া মাঝেমধ্যে ছুটিতে দেশে এসে পুরো সময়টাই তিনি ব্যয় করেন তার খামারে।

 

যুক্তরাজ্য প্রবাসী আজাদ মিয়া জনান, ভেজালের ভীড়ে এলাকাবাসীকে ভেজালমুক্ত ফল খাওয়ানোর ব্রত নিয়েই তিনি বিভিন্ন ফলের আবাদ শুরু করেছিলেন। দীর্ঘদিন গবেষণা, বিভিন্নজনের সাথে পরামর্শ এবং অনলাইনে ফলের চাষ সম্পর্কে অধ্যয়ন করার পর গত ৪ বছর আগে বাগান করার উদ্যোগ নেন তিনি। উদ্দেশ্য একটাই এলাকাবাসীকে বিষমুক্ত ফল খাওয়ানো। আর এ ব্যাপারে পুরোপুরি সফলও হয়েছেন তিনি। নিজের পরিবারের সদস্যদের চাহিদা মেটানোর পাশপাশি গতবছর মাল্টা বিক্রিও করছেন আজাদ মিয়া। এবারও মাল্টার ফলন বেশ ভালো হয়েছে। বিক্রির পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনদেরও উপহার হিসেবে নিজের বাগানের এই অর্গানিক ফল উপহার পাঠান তিনি।

 

আজাদ মিয়া বলেন, বর্তমানে ভেজালের এই ভিড়ে বিষমুক্ত ফল খাওয়াও সৌভাগ্যের ব্যাপার। তিনি মনে করেন, বিষমুক্ত ফল খেতে হলে নিজ উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। নিজের বাড়ির আশেপাশে এসব ফলের গাছ লাগিয়ে অথবা বাণিজ্যিকভাবে যে কেউ এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিলে সফল হতে পারেন। তাছাড়া দেশের বেকার জনগোষ্ঠী এ ধরনের ফল বাগান করে তাদের আর্থিক উন্নয়ন সহজে ঘটাতে পারে। সেই সঙ্গে ঘোচাতে পারে বেকারত্ব।

 

আর এ ব্যাপারে নতুন-পুরাতন কোনো উদ্যোক্তা যদি তার কাছ থেকে পরামর্শসহ যেকোনো সহযোগিতা চাইলে এগিয়ে আসবেন বলে জানিয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা আজাদ মিয়া।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/জেইউ/এসডি-০১