প্রকাশিত: ২২ জুলাই, ২০২২ ১৬:১৬ (শনিবার)
শাবিতে ক্যান্সার আক্রান্ত সহপাঠীকে বাঁচাতে বিভিন্ন উদ্যোগ

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ক্যান্সার আক্রান্ত এক শিক্ষার্থীর অর্থাভাবে যখন চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার পথে; সেই চিকিৎসার হাল ধরতে তার সহপাঠীরা নিয়েছেন বিভিন্ন উদ্যোগ। তারা আর্থিক সাহায্যের জন্য ঘুরছে মানুষের দ্বারে দ্বারে, আয়োজন করেছে বইমেলার, সহযোগিতা চেয়েছেন ভরসার জায়গায়।

 

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাহসিন তাবাসসুম ইফতি হজকিন্স ক্যান্সারে আক্রান্ত। তার বাড়ি ঢাকার মোহাম্মদপুরে। বাবা হার্টের রোগী। মা একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। ছোট এক ভাই আছে তার।

 

তার মায়ের ভাষ্য, ইফতি ক্যান্সারের চতুর্থ স্টেজে আছে। হজকিন্স ক্যান্সার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় দ্রুত ছড়ায়। ইতোমধ্যে লিভার, ফুসফুসসহ কয়েকটা অর্গানে ছাড়িয়েছে। দুর্বল হয়ে পড়ছে সেই অঙ্গগুলো। ডাক্তারের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসার জন্য প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন ১৫ লাখ টাকা।

 

তিনি জানান, 'গত নভেম্বর প্রথমে সিলেটে ও ঢাকার কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসার মাধ্যমে হজকিন্স ক্যান্সার ধরা পড়ে। কেমোথেরাপি দেওয়ার জন্য ডাক্তার বলছে। ডাক্তারের পরামর্শে আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজে এরইমধ্যে একটা থেরাপি দিয়েছি। রোগটি ছড়িয়ে পড়ায় অপারেশন যতদ্রুত সম্ভব করানোর জন্য ডাক্তার বলছে। তা না হলে যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটতে পারে।'

 

ইফতির সহপাঠীরা বলেন, তার শারীরিক অবস্থা কখনো ভালো আবার কখনো খারাপ এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কেমোথেরাপি দেওয়ার কারণে গত দুই তিনদিন আগে তার মুখ এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গ ফুলে গিয়েছিল। খুব খারাপ সময়ের এগোচ্ছে সে।

 

ইফতির মা ও তার শিক্ষকরা জানান, তার চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন অপারেশন ও কেমোথেরাপি দেওয়ার জন্য অনেক টাকা দরকার। পরিবারের পক্ষে চিকিৎসার খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে । তাই মেয়েকে বাঁচাতে মায়ের আকুতি আর শিক্ষার্থীকে বাঁচাতে শিক্ষকরাও সকলের কাছে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান করেছেন।

 

এতেও হচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত অর্থের যোগান। তাই ক্যান্সার আক্রান্ত ইফতির সহপাঠীরা আয়োজন করেছেন 'অদম্য' নামের এক বই মেলার। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জুন তলায় বইয়ের স্টল বসিয়ে সহপাঠীরা বিক্রি করছেন বই। এছাড়া ফোনে, মেসেজে, কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চিকিৎসার অর্থ জোগাড়ের চেষ্টায় আছেন তারা।

 

ইফতির সহপাঠী মো. রাকিব আহমেদ বলেন,'বই মেলার জন্য আমাদের বিভাগের সিনিয়র, জুনিয়ররা মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হল, বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের বিভিন্ন মেসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বই সংগ্রহ করেছি।প্রথমদিন অনেকেই স্বেচ্ছায় এ বই মেলার জন্য বই প্রদান করেছেন। আমরা বই সংগ্রহে বাকি হলগুলোতেও যাবো। এছাড়াও বই মেলার জন্য অনেকেই যারা সিলেট থেকে দূরে অবস্থান করছেন তারা কুরিয়ারের মাধ্যমেও বই পাঠাচ্ছেন।'

 

বইমেলার প্রথম দিন বই বিক্রি করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছেন বলে জানালেন ইফতির আরেক সহপাঠী ফারহাদুন রাইয়ান সিফতি। তার ভাষ্য, 'প্রথম দিনে অনেকেই বই কিনেছেন। আমাদের এ বইমেলা চলমান থাকবে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে দশটা থেকে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জুনতলায় আমাদের স্টল থাকবে। শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে স্টলে বসবো আমরা।

 

তিনি আরও বলেন, 'যে কেউ চাইলেই এখানে তাদের পছন্দমতো বই প্রদান করতে পারবেন এবং এখানে এসে বই কিনতে পারবেন। আমাদের এখানে কুরিয়ারের মাধ্যমেও বই পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও কেউ যদি চান তাহলে তারা এখানে ইফতির চিকিৎসার্থে অর্থ প্রদান করতে পারবেন। বই বিক্রির সব অর্থ ইফতির চিকিৎসার্থে ব্যয় করা হবে।'

 

এছাড়া তাদের বিভাগের শিক্ষকরাও এ কাজে উৎসাহিত করছেন, প্রতিনিয়ত খোঁজ খবর নিচ্ছেন এবং সব ধরনের সহযোগিতা করছেন বলে ইফতির সহপাঠীরা জানান।

 

ইফতির শিক্ষক নৃবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আ ফ ম জাকারিয়া বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহিত করছি। এছাড়া বিভাগের পক্ষ থেকে সাধ্যমত সহযোগিতার চেষ্টা করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকেও আমরা বিষয়টি জানিয়েছি।’

 

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের উদ্যোগ কি জানতে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক আমিনা পারভীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইফতির বিভাগ থেকে একটি আবেদন করা হয়েছিল। এটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/নোমান/জেপি