সিলেট বিভাগে হঠাৎ করে বেড়েছে ডাকাতদের অপতৎরতা। চলতি মাসে বিভাগের চারটি স্থান থেকে প্রস্তুতিকালে ডাকাতদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। তাই বলা যায়- সিলেটে ডাকাতদের আগে হাঁটছে পুলিশ।
এছাড়াও ডাকাতির ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে ডাকাতদের গ্রেফতর করছে পুলিশ। সর্বশেষ গত ১৫ ও ১৬ অক্টোবর অভিযান চালিয়ে মৌলভীবাজার জেলাপুলিশ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় ডাকাতির ঘটনায় ৪ ডাকাতকে গ্রেফতার করে। বিষয়টি মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) প্রেস ব্রিফিং করে গণমাধ্যমকে জানান মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার।
সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় সূত্র সিলেটভিউ-কে জানায়, শীত মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যায়। তাই শীম মৌসুম আসার আগেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতদের প্রস্তুতি বা অপতৎরতা জানতে পেরে সিলেট বিভাগজুড়ে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় ডাকাতদের ঠেকাতে বিভাগের সকল থানায় বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সিলেট বিভাগে সম্প্রতি বেড়েছে ডাকাতদের অপতৎপরতা। বিভিন্ন এলাকায় হানা দিয়ে ডাকাতরা ডাকাতির চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে বেশিরভাগ স্থানে পুলিশ দ্রুত ছুটে যাওয়ায় ডাকাতির ঘটনা ঘটছে না। অভিযানকালে ডাকাতদের গ্রেফতার করছে পুলিশ।
সর্বশেষ সিলেট জেলা পরিষদ নির্বাচনের আগের রাতে মহানগরীর জালালাবাদ থানাধীন হাটখোলা থেকে ধারালো অস্ত্রসহ দুই ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত (১৭ অক্টোবর) রাত আড়াইটার দিকে হাটখোলা ইউনিয়নের পাইকরাজ গ্রামে কয়েকজন ডাকাত জড়ো হলে খবর পেয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) জালালাবাদ থানার একটি দল তাদের ধরতে রাত সাড়ে ৩টার দিকে অভিযান চালায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে। তবে এসময় আলতা মিয়া আলতা (৫৫) নামের এক ডাকাতকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় আলতা ডাকাতের ছেলে জুবেলকে (২৯) স্থানীয় জনতা আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। আটককালে আলতা ও জুবেলের কাছ থেকে দুটি রামদা এবং ১ চাকু জব্দ করে পুলিশ।
এর আগে গত ১২ অক্টোবর সিলেটের গোলাপগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওইদিন মধ্যরাতে উপজেলার লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের ফুলসাইন্দ এলাকায় ডাকাতি করতে গেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ঘর ও তালা ভাঙার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- গোলাপগঞ্জ উপজেলার বুটিরাপাড়া গ্রামের মৃত ইসহাক আলির ছেলে মো. হারুন রশিদ (৩২), ওসমানীনগর উপজেলার পশ্চিম তিলাপাড়া গ্রামের মহিব উল্লাহর ছেলে নজরুল ইসলাম(৩৩), বালাগঞ্জ উপজেলার নশিওপুর গ্রামের মৃত তৈয়ব আলির ছেলে আবুল হোসেন রিপন (৩৪) ও কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলি থানার রসুলপুর গ্রামের মৃত ছেনু মিয়ার ছেলে মোখলেছুর রহমান(৪০)।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সাথে আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেছে। গ্রেফতারকৃত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মাদক, চুরি, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
তার আগে গত ২ অক্টোবর রাতে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ৪টি ধারালো রামদা, ১টি লোহা কাটার যন্ত্র ও ১টি রড জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের তাহির আলীর ছেলে লিমন মিয়া (৩২), একই গ্রামের মৃত ইমাম উদ্দিনের ছেলে ওয়ারিছ উদ্দিন (২৯) ও ময়না মিয়ার ছেলে আক্কাছ মিয়া (৩০)।
পুলিশ জানায়, গভীর রাতে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের জে.আই.সি স্যুট গার্মেন্টেসের উত্তর পাশে ডাকাতির উদ্দেশ্যে একদল ডাকাত অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানাপুলিশ অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তবে এসময় বেশ কয়েকজন পালিয়ে যায়।
এদিকে, আজ মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে সাংবাদিকদের জানানো হয়- মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ ৪জন ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ডাকাতদের কাছ থেকে ৪টি দা, ২টি রামদা, ১টি তলোয়ার, ১টি কিরিছ, ১টি ছুরি, ১টি হাতকরাত জব্দ এবং লুণ্ঠনকৃত ১৩টি বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোন ও নগদ ৫৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের বশির আহমেদ (৩৫), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের আবুল হোসেন (৩৫), কুলাউড়ার আলালপুর গ্রামের কইনুল ইসলাম (২৫) ও হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকার সবুজ মিয়া (৫০)। এর মধ্যে কইনুল ডাকাতদের সর্দার।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন তেরা ব্রিজ-এর মুজিবউর্তি এলাকায় ১৪/১৫ জন ডাকাত চলমান গাড়ি থামিয়ে ডাকাতি করে। এ ঘটনায় ২৯ সেপ্টেম্বর কমলগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে কমলগঞ্জ থানা ও মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দাপুলিশ (ডিবি) যৌথভাবে তদন্ত করে সিলেট বিভাগের বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে এই চার ডাকাতকে গ্রেফতার করে। তাদেরকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
সিলেটে ডাকাতদের অপতৎরতা ও পুলিশের অভিযানের বিষয়ে রেঞ্জ ডিআইজি সিলেট কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (ইন্টেলিজেন্স এন্ড ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট, অতিরিক্ত দায়িত্ব- এডমিন এন্ড ফিন্যান্স ও অপারেশনস্ এন্ড ট্রাফিক) মো. জেদান আল মুসা সিলেটভিউ-কে বলেন- সাধারণত শীত মৌসুম আসলে বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যায়। তবে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ হেড কোয়ার্টারের নির্দেশে শীত মৌসুম আসার আগেই ডাতাদের অপতৎপরতা ঠেকাতে বিশেষ অভিযানে মাঠে নেমেছে পুলিশ।
তিনি বলেন- এ বিষয়ে বিভাগের প্রতিটি থানায় ইতোমধ্যে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। যার ফলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যেখানেই ডাকাতদের ডাকাতির প্রস্তুতি কিংবা অপতৎপরতার খবর পাচ্ছে পুলিশ সেখাইন অভিযান পরিচালনা করছে এবং ডাকাতি ঠেকিয়ে দুর্বৃত্তদের গ্রেফতার করছে। যারা পালিয়ে যাচ্ছে তাদের গ্রেফতারের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
এ ক্ষেত্রে পুলিশ চিন্হিত ডাকাতদের তালিকা করে মাঠে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান রেঞ্জ ডিআইজি সিলেট কার্যালয়ের পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা। সিলেটের কোথাও ডাকাতদের আনাগোনা টের পেলে সংশ্লিষ্ট থানাপুলিশের কাছে দ্রুত ফোন দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.