প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২২ ১২:২৮ (শনিবার)
পরিকল্পনা গোপন রাখতে চান সাকিব

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারায় ৯ রানে। জয়ের এই ধারা অব্যাহত রাখতে চান সাকিব আল হাসান। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দলের পরিকল্পনা কী, সেটা গোপন রাখতে চাইলেন সাকিব।

আগামীকাল সিডনিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে সাকিবের দল। বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

এর আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন দলনায়ক সাকিব।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পেসারদের কল্যাণে জয় পায় বাংলাদেশ। তাসকিন নেন ৪ উইকেট, হাসান মাহমুদ ২ উইকেট।

আজ পেসার তাসকিনের ভূয়সী প্রশংসা করে সাকিব বলেন, ‘সে এখন (পেস বিভাগে) অন্যতম এক নেতা। মাশরাফি যাওয়ার পর গত দু–তিন বছরে বাংলাদেশের হয়ে সে অসামান্য উন্নতি করেছে। উদাহরণ তৈরি করছে। তিন সংস্করণেই আমাদের খুব ভালো ফাস্ট বোলার আছে আর তারা খুব ভালোও করছে। ফলটা এখন দেখা যাচ্ছে। আশা করছি, বিশ্বকাপে তারা এভাবেই পারফর্ম করে যাবে।’

ডাচদের বিপক্ষে বাংলাদেশের একাদশে পঞ্চম বোলার ছিল না। সৌম্য সরকার ও মোসাদ্দেক হোসেনকে খণ্ডকালীন বোলার হিসেবে কাজে লাগানো হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দলে পঞ্চম বোলার দেখা যাবে কিনা, দলের পরিকল্পনা কী, তা গোপন রাখতে চাইলেন সাকিব, ‘প্রতিপক্ষ আমাদের সহজেই আমাদের সম্বন্ধে ধারণা পাক, সেটা আমরা চাই না। আমরা প্রতিপক্ষ ও কন্ডিশন মাথায় রেখে নিজেদের প্রস্তুত করেছি। প্রতিটি ভেন্যুর আবহাওয়া থেকে প্রায় সবকিছুই তো আলাদা। আমরা এসব মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করেছি।’

নিজেদের শক্তিমত্তা-দুর্বলতা নিয়েও বেশি কিছু বলতে চাইলেন না দলনায়ক, ‘এসব জানাতে চাই না। তাহলে তো বলে দেওয়া হয়ে গেলো আমার দুর্বলতা কোথায়। সব জায়গায় উন্নতির জায়গা রয়েছে, আসলে উন্নতির তো শেষ নাই। মানে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের জ্ঞানের যেমন শেষ নেই, উন্নতির ও শেষ নেই।’

বাংলাদেশের অন্যতম সমস্যা হচ্ছে ওপেনিং। টানা কয়েক ম্যাচে ব্যর্থতার পর সর্বশেষ ম্যাচে ওপেনিং জুটি ৫.১ ওভারে ৪৩ রান তুলে। দক্ষিণ আফ্রিকার পেস অ্যাটাকে আছেন কাগিসো রাবাদা, আনরিখ নরকিয়া ও লুঙ্গি এনগিডির মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলাররা। এই বোলিং অ্যাটাকের বিপক্ষে কেমন করবে বাংলাদেশ?

সাকিব বলছেণ, ‘(গত ম্যাচের ওপেনিং জুটি) অবশ্যই এটা আত্মবিশ্বাস দেবে। প্রথম ম্যাচে তো এক নার্ভাসনেস থাকেই। সেটি কেটে যাওয়ার পর জড়তা থেকে বের হয়ে আসা উচিত। খোলা মনে খেলা উচিত। আমরা দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি খেলেছি, যদিও ওয়ানডে। আইসিসি ইভেন্টেও যখন খেলেছি, আমরা জানি ওরা আমাদের কীভাবে আক্রমণ করতে পারে। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সফল ছিলাম। সব ব্যাটসম্যান জানে কী করতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে কথা ওঠলো টস নিয়েও। তবে এ নিয়ে খুব বেশি ভাবনা নেই সাকিবের। তিনি মনে করিয়ে দিলেন, এই ম্যাচটা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়। ফলে উভয় দলই পায় ১ পয়েন্ট করে।

সাকিব বলেন, ‘টস তো আমাদের হাতে নেই। ম্যাচটা যেহেতু জেতার জন্য খেলতে নামব, আগে ব্যাটিং কিংবা বোলিং যা–ই করি, ভালো করার চেষ্টা করব।’

‘দক্ষিণ আফ্রিকার জন্যও ম্যাচটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় বাঁচা-মরার ম্যাচ। তাই ওরা একটু হলেও চাপে থাকবে। আর আমরা এমন একটা মাঠে এসেছি, যেখানে আমরা যেকোনো দলের সঙ্গে খেলতে পছন্দ করব। কারণ, অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো উইকেটের চেয়ে এখানে (সিডনি) সাধারণত স্পিনারদের জন্য সুবিধাটা বেশি থাকে।’

সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে