আগামী ১৭ ও ১৮ নভেম্বর (বৃহস্পতি ও শুক্রবার) সিলেটে ইজতেমার আয়োজন করতে যাচ্ছে অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন ‘আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’। এ লক্ষ্যে আয়োজকরা ইতোমধ্যে দক্ষিণ সুরমার পারাইরচকস্থ সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালে প্যান্ডাল ও মঞ্চ তৈরির কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছেন।
এরই মাঝে মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়- ইজতেমাটি ১৯ নভেম্বরের পরে আয়োজন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে পুলিশের এ নির্দেশার পরই ইজতেমার আয়োজনস্থলে থাকা ‘আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’র আমির মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভীসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। এসময় ইজতেমা নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী বাস্তবায়ন করার দৃঢ় ঘোষণা দেন তারা। এমতাবস্থায় সিলেটে ‘আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’র ইজতেমা নিয়ে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, আয়োজক কমিটির ‘ইজতেমা বাস্তবায়নের’ ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ রিপোর্ট লেখা (মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা) পর্যন্ত সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (অতিরিক্ত দায়িত্ব- মিডিয়া) সুদ্বীপ দাসের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুদ্দুহা পিপিএম ইজতেমাস্থল থেকে সিলেটভিউ-কে বলেন- এই মুহুর্তে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু জানানো সম্ভব নয়। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
এর আগে রাত সাড়ে ৮টার দিকে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সুদ্বীপ দাস সিলেটভিউ-কে জানান- আমাদের কাছে খবর রয়েছে, ইজতেমা ঘিরে কোনো কুচক্রি মহল অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে। তাই কমিশনার স্যারের নির্দেশনায় আমরা ইজতেমাটি কর্তৃপক্ষকে ১৯ নভেম্বরের পরে আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছি।
উল্লেখ্য, গত ১২ নভেম্বর সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ‘আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’র পক্ষ বলা হয়- ধর্মীয় ও অরাজনৈতিক এ সংগঠনের ৭৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিলেটে দুই দিনব্যাপী ইজতেমার আয়োজন করা হচ্ছে। দক্ষিণ সুরমার পারাইরচকস্থ সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালে ১৭ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) ফজরের নামাজের পরপরই শুরু হয়ে ইজতেমাটি পরদিন (১৮ নভেম্বর) বাদ জুম্মা শেষ হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.