প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর, ২০২২ ২০:৩২ (বুধবার)
জগন্নাথপুরে আ.লীগের আংশিক কমিটি: ক্ষুব্ধ ডন অনুসারীরা

দীর্ঘ ৮ বছর পর অনুষ্ঠিত জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় গত বুধবার।

 

সম্মেলনের প্রথম পর্ব শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হলেও দ্বিতীয় পর্বে কাউন্সিল অধিবেশনে কমিটি না করে রাতে ৪ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন আজিজুস সামাদ ডন সমর্থিত পদবঞ্চিত নেতা কর্মীরা।

 

তাদের অভিযোগ, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন কমিটি গঠন করা হয়নি।

 

বুধবার দুপুরে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মতিউর রহমান।

 

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূরুল ইসলাম নাহিদ।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান ও কেন্দ্রীয় সদস্য আজিজুস সামাদ আজাদ ডন।

 

প্রধান বক্তার বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবীর ইমন ঘোষণা করেন, দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলরদের নিয়ে সাবজেক্ট কমিটি বসে সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা করা হবে।

 

স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতৃবৃন্দ কমিটি গঠন নিয়ে একমত হতে না পারায় কেন্দ্রীয় সদস্য আজিজুস সামাদ আজাদ ডন সভাস্থল ত্যাগ করে চলে যান। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ পরিকল্পনা মন্ত্রীর উপস্থিতিতে কমিটি নিয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হন বলে জানা যায়। একপর্যায়ে একে একে সবাই সভাস্থলে না এসে জগন্নাথপুর ত্যাগ করেন। দ্বিতীয় অধিবেশনের নির্ধারিত স্থানে জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতৃবৃন্দ অপেক্ষা করলেও জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক  একজন ঢাকায় ও অপরজন সুনামগঞ্জ চলে যান। দীর্ঘ অপেক্ষার পর কাউন্সিলররা বিক্ষোভ করে অধিবেশনস্থল ত্যাগ করেন। রাত ৮ টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের প্যাডে উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্বের কমিটির সভাপতি আকমল হোসেন কে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজুকে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক এবং মিজানুর রশীদকে সহ সভাপতি ও আবুল হাসানকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়।

 

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজিজুস সামাদ ডন সমর্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের বিগত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জয়দ্বীপ সুত্রধর বিরেন্দ্র জানান, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়নি। কাউন্সিলরদের কোন মতামত নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ ৮ বছর পর কমিটি হওয়ায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আমিসহ ১০-১২জন প্রার্থী ছিলাম সবাই আশা করেছিলেন এবার পরিবর্তন আসবে কিন্তু কাউন্সিলরদের মতামতের সুযোগ না দিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আবারো পূরোনোদের রাখা হয়েছে। এতে আমরা খুবই হতাশ।

 

সদ্য গত হওয়া উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তাদির আহমদ মুক্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে পূরোনোদের রেখে সম্মেলনে কাউন্সিলরদের সম্মতি ছাড়াই সুনামগঞ্জ থেকে রাতে ৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়। এটা দলের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী ও অগণতান্ত্রিক কাজ। এতে স্থানীয় নেতাকর্মীরা হতাশ। সবাই আশা করেছিলেন একটা পরিবর্তন হবে এবার দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ নতুন মুখ আসবে।

 

সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামূল কবির ইমনের সাথে এ বিষয়ে আলাপ করলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে ও স্থানীয় কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

তিনি সকল মতবিরোধ ভুলে নতুন কমিটিকে সহযোগিতা করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার আহবান জানান।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/সুনু/এসডি-৩১