প্রকাশিত: ০৯ জানুয়ারী, ২০২৩ ২০:৩০ (মঙ্গলবার)
পোকা দমন করতে গিয়ে মানুষ নিজের জন্যই ডেকে আনছে বিপদ

বিশ্বে পোকামাকড়ের সংখ্যা ক্রমেই কমছে। এর প্রভাবে পরাগায়নে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি দেখা দিতে পারে। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে অন্তত তিন-চতুর্থাংশ ফসলের পরাগায়ন প্রয়োজন, তবে পোকামাকড়ের সংখ্যা তীব্রভাবে হ্রাস পাচ্ছে। ফলে পরাগায়নে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অপর্যাপ্ত পরাগায়নের কারণে বিশ্বজুড়ে ফল, সবজি ও বাদাম উৎপাদনে ৩%-৫% ক্ষতি হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, এসব খাবার কম খাওয়ার কারণে অন্তত ১% মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

তারা বলছেন, স্বাস্থ্যকর খাদ্য উপাদানের উৎপাদন কমলে স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারে মৃত্যু বৃদ্ধি পাবে।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির টিএইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডক্টর স্যামুয়েল মায়ার্স ও তার গবেষণা সহকারীরা জানান, জীববৈচিত্র্যের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানুষের স্বাস্থ্যের  সঙ্গে এটির সরাসরি সংযোগের অভাব নিয়ে কথা বলা হয় না।

 

গবেষণায় বলা হয়, পরাগরেণু-বান্ধব পরিবেশ গঠনের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। এজন্য গবেষকরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তা হলো- খামারে ফুল বৃদ্ধি, কীটনাশক ব্যবহার কমানো ও কাছাকাছি প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ বা পুনরুদ্ধার করা।

গবেষকরা বলছেন, এর সবচেয়ে বড় প্রভাব চীন, ভারত, রাশিয়ার পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার মতো মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে পড়তে পারে। 

এসব দেশে কম শারীরিক পরিশ্রমের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যান্সারের প্রভাব রয়েছে। ফলে স্বাস্থ্যকর খাদ্য উপাদান কম উৎপাদনের কারণে যদি চাহিদা বেড়ে যায় তাহলে মধ্যমআয়ের দেশগুলো তা কিনতে পারবে না। ফলে তারা বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।

 

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্সের অধ্যাপক ডেভিড গলসন বলেন, আমরা প্রচুর পরিমাণে বাতাসের পরাগায়নকারী ফসল- গম, চাল, ভুট্টা, বার্লি পেয়ে থাকি। এগুলো কার্বোহাইড্রেট কিন্তু তুলনামূলকভাবে কম পুষ্টি। ফলে এগুলো বেশি গ্রহণ করলে ডায়াবেটিসের মহামারি দেখা দেবে। আমরা পর্যাপ্ত ফল এবং শাক-সবজি খাই না, এসব ফসলের বেশিরভাগেরই পরাগায়নের জন্য পোকামাকড়ের প্রয়োজন। যেমন আপেল, চেরি, স্ট্রবেরি, স্কোয়াশ, মটরশুটি, টমেটো।

তিনি বলেন, এই গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকটি হলো, যেহেতু পোকামাকড়ের সংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে, তাই এই হারানো ফসলের ফলন ভবিষ্যতে আরও খারাপ হতে চলেছে। অথচ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম// নাজাত-১০