আগামী ১৮ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো চার প্যানেলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির।
বিগত বছরগুলোতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দুই প্যানেল ও বিএনপি-জামাতপন্থীদের একটি প্যানেল অংশ নিয়ে আসছে। কিন্তু সর্বশেষ ২০২২ সালে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে প্রার্থীতা দিতে না পারায় অন্তর্কোন্দলের জের ধরে ভেঙে যায় বিএনপি-জামাতপন্থী প্যানেল।
এদিকে পূর্বের বিএনপি-জামাতপন্থীদের প্যানেল নির্বাচনে প্রার্থীতা দিলেও প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে বিভক্ত হওয়া বিএনপিপন্থী শিক্ষক প্যানেল ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম’।
দেড় দশক ধরে নিজেদের প্যানেলে তেমন কোন শিক্ষক নিয়োগ না হওয়াই নিজেদের ‘অস্থিত্ব ধরে রাখতে’ নিশ্চিত পরাজয় জেনেও নির্বাচনে অংশ নিয়ে আসছিল বিএনপি-জামাতপন্থী শিক্ষকেরা। তবে গত নির্বাচনে নিজেদের মধ্যে অন্তর্কোন্দলের জের ধরে প্রার্থীতা দিতে না পারায় ‘বিভক্ত হয়ে পড়ে’ এ প্যানেলের শিক্ষকেরা।
এমনিতে ভোট নেই; সেখানে বিএনপি-জামাতপন্থী শিক্ষকদের বিভক্ত হয়ে পৃথক প্যানেলে নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে হাস্যকর মনে করছেন শিক্ষক মহলের অনেকেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক অনুষদের এক শিক্ষক বলেন, এমনিতে তাদের ভোট সংখ্যা ৮০-১০০ টি। আবার তার উপর তারা আলাদা হয়ে দুই প্যানেলে নির্বাচন করছে। বিষয়টি বেশ আলোচিত সমালোচিত হচ্ছে ক্যাম্পাসে।
তবে গত বছরের নির্বাচনে প্রার্থীতা দিতে না পারা, সদস্যদের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো স্বত্বেও বৈঠক না ডাকা, কিছু শিক্ষকের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সমাধান না করা ও দলীয় স্বার্থের উর্ধ্বে ব্যক্তি স্বার্থের প্রাধান্য দিয়ে স্বার্থ হাসিল করা ইত্যাদি অভিযোগ এনে গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ উদ্দিন ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ মো. আতিকুল হকের নেতৃত্বে গত ২ আগস্ট ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম’ নামে নতুন শিক্ষক সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলে নির্বাচনে প্রার্থীতা দিতে না পারায় বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে শ্রদ্ধাশীল শিক্ষকরা নির্বাচনে নিজেদের অস্থিত্বের জানান দিতে এ সংগঠন শুরু হয় বলে জানিয়েছেন বিভক্ত অনেক শিক্ষক।
নিশ্চিত পরাজয় জেনে প্রতিবছর নির্বাচনে প্রার্থীতা দিয়ে আসলেও গত বছরও নির্বাচনে প্যানেল না দেওয়ার বিষয়টি শিক্ষক মহলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলে। তবে কেন নির্বাচনে প্রার্থীতা দিতে পারে নি বিএনপি-জামাতপন্থী শিক্ষকরা? এমন বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভক্ত হয়ে নতুন গ্রুপ শুরু নেপথ্যে ছিল-ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল । এর সঙ্গে উপাচার্যপন্থী শিক্ষক প্যানেল ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তচর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ’ প্যানেলের সাথে লিয়াজু করে নির্বাচনে প্রার্থীতা না দেয়া, গ্রুপের মিটিং আহ্বান জানানো স্বত্বেও বৈঠক না ডাকা, কিছু শিক্ষকের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সমাধান না করা ও দলীয় স্বার্থের উর্ধ্বে ব্যাক্তি স্বার্থের প্রাধান্য দিয়ে স্বার্থ হাসিল করা হয়েছে- এমন অভিযোগ প্রেক্ষিতে নিজেদের মধ্যে অন্তর্কোন্দলে জড়িয়ে পড়েন এবং বিভক্ত হয়ে পড়েন।
তবে সে সময়ে গ্রুপ বিভক্তির আলোকে পৃথক এ গ্রুপের নেতৃবৃন্দ বলেছিলেন, শুধুমাত্র জাতীয়তাবাদী মূল্যোবোধে শ্রদ্ধাশীল শিক্ষকরা নিজেরা পৃথক হতে এ শিক্ষকগ্রুপ। তবে নির্বাচন ও অন্যান্য সিদ্ধান্তে এ গ্রুপ ‘মহান মু্ক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধে শ্রদ্ধাশীল শিক্ষক গ্রুপ’ থেকে আলাদা নয়।
পৃথক হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের’ আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দিন ‘সিলেট ভিউ’কে বলেন, আদর্শগত কারণে আমরা নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছি। আমরা জাতীয়তাবাদীরা এই আলাদা প্ল্যাটফর্মে থাকতে চাই। সেজন্য আমরা আলাদা প্যানেলে এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি।
তবে সাধারণ স্বার্থে যদি প্রয়োজন হয়; তাহলে পূর্বের প্যানেলের সঙ্গে কাজ করবেন বলে জানান শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে সদস্য পদে প্রার্থী এই নেতা।
বিভক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি-জামাতপন্থী শিক্ষক প্যানেলের ইন্টিয়ারিং টাস্ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিমকে একাধিকবার কল দিলে তিনি রিসিভ করেন নি।
এদিকে এবারের শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে যেসব শিক্ষকের উপর উপাচার্য ‘ক্ষুব্ধ’ তাদের বিরুদ্ধে এবং যেসব শিক্ষক উপাচার্যের ‘আস্থাভাজন’ তাদের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে উপাচার্যের বিরুদ্ধে। কিন্তু সেই অভিযোগ অস্বীকার করে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ বিষয়টি ‘ভিত্তিহীন’ ও মিথ্যাচার বলেছেন।
‘সিলেট ভিউ’কে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় নিরপেক্ষ। নির্বাচনে জয়ী হয়ে যারা নেতৃত্বে আসবে, তাদেরকে নিয়েই আমি কাজ করব।’
এছাড়া কোনো শিক্ষকের প্রতি ‘ক্ষুব্ধ নয়’ বলে জানান তিনি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/নোমান/এসডি-৩১
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.