এক সময় জালিয়াত চক্র জাল কোর্ট ফি সারা দেশের আদালতপাড়ায় বিক্রি করতো। তবে প্রশাসনের অভিযানের পর সেটি বন্ধ হয়েছে। কিন্তু এই চক্রের কারণে ভোগান্তি পিছু ছাড়ছে না সিলেটের স্ট্যাম্প ব্যবসায়ী ও কোর্টকেন্দ্রিক সেবাগ্রহীতাদের।
আসল কোর্ট ফি-গুলো ‘জাল’ উল্লেখ করে আদালতের জজশিপ থেকে মামলাসংক্রান্ত কাগজাদি ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে কোর্টকেন্দ্রিক সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। পাশপাশি বিক্রেতার রোষানলে পড়ছেন বিক্রেতারা, হচ্ছেন লোকসানের শিকার।
সমস্যাটি সমাধানের লক্ষ্যে সিলেট জেলা স্ট্যাম্প ভেন্ডার সমিতির পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে একাধিকবার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করলেও কার্যত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত এ সমস্যা সমাধান করা না হলে শীঘ্রই ‘স্ট্রাইকে’ যাবেন বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্ট্যাম্প ভেন্ডার সমিতির নেতৃবৃন্দ।
জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে সিলেটসহ সারা দেশের আদালতপাড়ায় একটি জালিয়াত চক্র ১, ২, ৫, ১০, ২০ টাকা মূল্যমানের জাল কোর্ট ফি বিক্রি করে আসছিলো। তা ঠেকাতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে সিলেটে অভিযান চালায় প্রশাসন। পরে জাল কোর্ট ফি বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। তবে এরপর বিপাকে পড়েন প্রকৃত ব্যবসায়ী ও আদালতে বিভিন্ন সেবা নিতে আসা লোকজন।
স্ট্যাম্প ভেন্ডার সমিতির অভিযোগ- অভিযানের পর জাল কোর্ট ফি আর বাজারে নেই। তবু আসল কোর্ট ফি-কে জাল উল্লেখ করে জজশিপ থেকে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। অথচ এসব কোর্ট ফি জেলা প্রশাসনের ট্রেজারি থেকে বৈধভাবে ক্রয় করা। প্রথমে এ নিয়ে সিলেট জেলা স্ট্যাম্প ভেন্ডার সমিতি ট্রেজারি অফিসারের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জজশিপ থেকে ফেরত আসা কোর্ট ফি জমা দিতে বলেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টির সুরাহা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু বিষয়টির সমাধান করা হয়নি। এরপর জেলা স্ট্যাম্প ভেন্ডার সমিতির পক্ষ থেকে তিন তিন বার জেলা প্রশাসক বরাবরে এ বিষয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত বিষয়টির সমাধান হয়নি। সর্বশেষ নেতৃবৃন্দ চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি লিখিত অভিযোগ দেন।
এতে তারা উল্লেখ করেন- ‘প্রায় পাঁচ মাস যাবত সিলেটে কোর্ট ফি সংক্রান্ত জটিলতার কোনো সমাধান না হওয়ায় সমস্যাটি আরও তীব্র হচ্ছে। ইতিপূর্বে আমরা ২২/৯/২০২২ ও ১৬/১১/২০২২ ইং তারিখে জেলা প্রশাসক বরাবরে বিষয়টি সুরাহার জন্য আবেদন জানিয়েছিলাম। গত বছরের ডিসেম্বরে আদালত অবকাশকালীন বন্ধ থাকার পর বছরের প্রথম থেকেই ট্রেজারি থেকে সরবরাহকৃত বিভিন্ন মূল্যমানের কোর্ট ফিগুলো আবারও বিভিন্ন আদালত থেকে সঠিক নয় বলে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু ইতিপূর্বে আদালত থেকে ফেরত আসা সবগুলো কোর্ট ফি ট্রেজারি শাখায় পরীক্ষা করে সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে এবং তা প্রমাণসহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সংরক্ষিত আছে। এমতাবস্থায় আমরা স্ট্যাম্প ভেন্ডারগণ খুবই ভোগান্তিতে পড়েছি। কারণ- কোর্ট ফি বিক্রয়ে সেটি ফেরত আসার পর প্রতিদিনই সেবাগ্রহীতাদের পক্ষ থেকে নানারকম হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছি। সমস্যাটির দ্রুত সমাধান না হলে আমাদের পক্ষে কোর্ট ফি বিক্রি বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।’
জেলা স্ট্যাম্প ভেন্ডার সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম সিলেটভিউ-কে বলেন, মূল বিষয় হচ্ছে জজশিপ বিষয়টি নিয়ে খামখেয়ালিপনা করছেন। জজশিপে নিম্নমানের টর্চ লাইট দিয়ে উপস্থিত সময় কোর্ট ফি পরীক্ষা রা হয়। এতে কোর্ট ফি’র অনুজ্জ্বল জলছাপ ফুটে উঠে না। কিন্তু ভালো মানের টর্চ লাইট দিয়ে পরীক্ষা করলে সেগুলো স্পষ্টভাবে দেখা যায়। কিন্তু সেখানে সেটি করা হয় না। ফলে আসল কোর্ট ফি-কে নকল বলে ফিরিয়ে দেয়া হয়। এতে ক্রেতাদের রোষানলে পড়তে হয় আমাদেরকে। প্রতিদিনই ক্রেতাদের সঙ্গে এ নিয়ে আমাদের বাকবিতণ্ডা হয়। বিষয়টির দ্রুত সমাধান না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।
এ বিষয়ে ট্রেজারি অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শ্বাস্বত নন্দি সোমা সিলেটভিউ-কে বলেন, বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বললে ভালো। ফোনে বিস্তারিত বলা যাবে না।
এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
তবে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরুল হাসান সিলেটভিউ-কে বলেন, স্ট্যাম্প ভেন্ডার সমিতির পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে এটা ঠিক। জজশিপ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া কোর্ট ফি-গুলো ট্রেজারিতে উন্নতমানের মেশিনে পরীক্ষা করে আসল বলে নিশ্চিতও হওয়া গেছে। তবে ছাপার তারতম্যের কারণে নরমাল লাইট দিয়ে কোর্ট ফি’র অনুজ্জ্বল জলছাপ দেখা যায় না। শীঘ্রই এ বিষয়ে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম /এসডি-২৯
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.