প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারী, ২০২৩ ১৬:৫৭ (রবিবার)
যা ঘটতো সিলেট মিরাবাজারের সেই বাসায়

সিলেট মহানগরের মিরাবাজারের আগপাড়ার মৌসুমী আবাসিক এলাকার ৮৫/বি নং বাসার চতুর্থ তলায় চলছিলো অসামাজিক কার্যকলাপ। বাসার অন্য ভাড়াটেরা বিষয়টি টের পেয়ে কেয়ারটেকারকে অবগত করলেও এতে তিনি কর্ণপাত করেননি। অবশেষে স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে সে বাসায় অভিযান চালিয়ে ৩ নারী ও ২ পুরুষকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়োলি থানাপুলিশ। 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সিলেটের জালালাবাদ থানার বাদাঘাট এলাকার নজরুল ইসলামের স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৩১), তার ছেলে মুন্না আহমদ (১৮), সিলেটের ওসমানীনগর থানার কাশিকাপন গ্রামের মো. আব্দুল মতিন তালুকদারের ছেলে মাসুদ আহমদ তালুকদার, জৈন্তাপুর উপজেলার ফেরিঘাট গ্রামের আব্দুল করিমের মেয়ে সুলতানা বেগম (২৪) ও নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার বেপারিবাড়ি গ্রামের মো. আজিজুল হকের মেয়ে প্রিয়ামনি (১৮)। 

গ্রেফতারের পর রাবেয়া বেগমকে আসামি করে মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরে বুধবার (২৫ জানুয়ারি) বিকালে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়। বিষয়টি সিলেটভিউ-কে নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবুল কাহের। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৌসুমী আবাসিক এলাকার ৮৫/বি নং বাসাটি ৪ তলা। এর মালিক দুদু মিয়া প্রবাসে থাকেন। কিশোরগঞ্জের এক ব্যক্তি বাসাটির দেখভাল করেন। এ বাসার চতুর্থ তলার ইউনিটটি এক মাস আগে রাবেয়া বেগম ভাড়া নেন। ভাড়া নেওয়ার সময় তার স্বামী প্রবাসে আছেন বলে জানান। রাবেয়া বাসাটি ভাড়া নেওয়ার পরই চতুর্থ তলায় দিনে-রাতে  পুরুষদের আনাগোনা দেখা যায়। এই বাসায় নিয়মিত চলতো অসামাজিক কার্যকলাপ। 

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রাবেয়ার ঘরে হঠাৎ ৭-৮ জন যুবক জোরপূর্বক ঢুকতে গেলে সেখানে অবস্থান করা সুলতানা বেগমসহ কয়েকজন ‘ডাকাত- ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু করেন। এসময় স্থানীয় লোকজন এসে তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। তবে এসময় ৪-৫ জন যুবক পালিয়ে যান। 

খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে যায় কোতোয়ালি থানাপুলিশ। এসময় স্থানীয়রা এই বাসায় দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে বলে অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে এ বাসার বিভিন্ন কক্ষ থেকে অসামাজিক কাজে ব্যবহৃত জিনিসপত্র জব্দ করে পুলিশ। 

স্থানীয়দের অভিযোগ- ৮৫/বি নং বাসাটির দেখভাল করেন কিশোরগঞ্জের এক ব্যক্তি। এ বাসার চতুর্থ তলার ইউনিটটি এক মাস আগে এক নারী ভাড়া নেন। ভাড়া নেওয়ার সময় তার স্বামী প্রবাসে আছেন বলে জানান। ওই নারী এ বাসায় ভাড়া আসার পরই তার ঘরে দিন-রাতের বিভিন্ন সময় পুরুষদের আনাগোনা দেখে বাসাটির অন্যান্য ভাড়াটে কেয়ারটেকারের কাছে অভিযোগ করলেও তিনি এতে কর্ণপাত করেননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ- ওই বাসার কেয়ারটেকার এই অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত। বাসাটির অন্যান্য ভাড়াটে কেয়ারটেকারের চতুর্থ তলায় অসামাজিক কাজ চলছে বলে অভিযোগ করলেও তিনি এতে কর্ণপাত করেননি। কেয়ারটেকারকেও গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।

এদিকে, পুলিশের একটি সূত্র বলছে- ওই বাসায় তরুণী-যুবতীদের দিয়ে পতিতাবৃত্তি করাতেন রাবেয়া বেগম। তিনি সিলেট থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এদের নিয়ে আসতেন। এ বাসায় নারীদের যৌন নির্যাতনও করা হতো।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম