সিলেটে প্রবাসী দুই ভাইকে ফাঁকি দিয়ে একাই মায়ের সম্পত্তি আত্মসাতচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে দেশে থাকা অপর এক ভাই অহিদ আহমদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়- অহিদ তাঁর মায়ের মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে গত ৫ ডিসেম্বর শিবগঞ্জের শামিম আহমদ নামের একজনের কাছে ওই বাসাটি বিক্রিও করে দেন। এরপর থেকে শামিম ও তার সহযোগিরা ওই বাসায় থাকায় থাকা দুই প্রবাসীর স্বজনদের নানাভাবে হয়রানি করছেন।
সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন দুই প্রবাসী ভাইয়ের খালা ২৫/সি খারপাড়া মিরাবাজারের মিনু বেগম। তারপক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রহিম আহমদ।
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, মিনু বেগমের বড় বোন ফাতেমা বেগম ক্রয় ও দানসূত্রে মিরাবাজার খারপাড়া মিতালী ২৫/সি নং বাসার মালিক। ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে দীর্ঘদিন অজ্ঞান অবস্থায় শয্যাশায়ী ছিলেন। এর আগে ব্রেন স্ট্রোক করে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অসুস্থ থাকাকালে তিনি কাউকে চিনতেন না। তার সন্তারদেরকেও তিনি চিনতেন না। তার মৃত্যুর অনেক আগ থেকে মিনু বেগমের বড় বোনপো সহিদ আহমদ সপরিবারে কানাডায় এবং মেঝো বোনপো আলী হোসেন সপরিবার ইতালি চলে যান। আর ছোট বোনের ছেলে অহিদ আহমদ পরিবার থেকে বিচ্যুত হয়ে তার পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করে ঢাকায় বসবাস করে আসছেন। মায়ের কোনো খোঁজখবরও তিনি নিতেন না।
এক পর্যায়ে মায়ের অবস্থা বেশি খারাপ হলে দেখতে আসেন অহিদ আহমদ। গত ১২ ডিসেম্বর ফাতেমা বেগম মারা যান। এরপর থেকেই প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বাসাটি একাই আত্মাসাত করার পায়তারা শুরু করেন অহিদ আহমদ। প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে ২০২২ সালের ৩০ মার্চ নিজ নামে বাসার একটি দলিল তৈরি করেন অহিদ আহমদ।
এসময় তিনি দাবি করেন- তার মা তাকে বাসাটি লিখে দিয়েছেন। অথচ ফাতেমা বেগম গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় থাকাকালে তার পাশে সবসময় আত্মীয়-স্বজনরা ছিলেন। যারা বিষয়টি সম্পর্কে মোটেই জানতেন না।
এদিকে অহিদ আহমদও বাসা-বাড়িতে থাকতেন না। এখন সবার প্রশ্ন- কীভাবে একজন মৃত্যুপথযাত্রী মা তার দুই সন্তানকে বঞ্চিত করে এক সন্তানের নামে সম্পত্তি লিখে দিয়ে যাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়- অহিদের ‘প্রতারণা’র বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কানাডা প্রবাসী শহিদ আহমদ।
সংবাদ সম্মেলনে বোনের ছেলে দুই প্রবাসীর সম্পত্তি রক্ষা এবং অহিদ ও শামিমের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান মিনু বেগম।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.