দুপুর পেড়িয়ে হল বিকেল। খরা রোদের তেজ কমিয়ে সূর্য যখন পশ্চিম আকাশের দিকে ধাবমান। চতুর্দিকে বিস্তৃত সবুজ ফসলের মাঝখানে ফুটেছে সহস্রাধিক হলুদ রংয়ের সূর্যমুখী ফুল।
প্রতিদিন এমন বৈচিত্রময় সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিভিন্ন প্রান্ত হতে ছুটে আসছে দর্শনার্থীরা। সূর্যমুখী ফুলের এ বাগানটি এখন সৌন্দর্যপ্রেমীদের কাছে দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। সৌন্দর্য উপভোগ করতে নানান বয়সের বিভিন্ন পেশার মানুষ তাদের বন্ধু বান্ধব, পরিবার পরিজন নিয়ে ভিড় করছে। তারা এই স্মৃতি ধরে রাখার জন্য নানা ভঙ্গিতে মোবাইল কিংবা ক্যামেরায় ছবি তুলছেন।
ক্যামরাবন্দী দর্শনার্থীদের ছবি ও ভিডিওগুলো সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ছে ফেইসবুক ও টিকটিকে। ইন্টারনেটে প্রকাশিত চিত্রগুলো দেখে দুর দুরান্তের মানুষের আরও দৃষ্টি আকর্ষণ বাড়ছে।
সরেজমিনে সুনামগঞ্জ জেলার শেষপ্রান্তে হাওরাঞ্চল শাল্লা উপজেলা পরিষদ ভবনের নিকটবর্তী সূর্যমুখী ফুলের বাগানে গিয়ে মনোমুগ্ধকর এই পরিবেশ দৃশ্যত হয়।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, শাল্লা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু তালেব সূর্যমুখী ফুলের এই বাগান করছেন।
তাঁর সাথে আলোচনা প্রসঙ্গে প্রতিবেদকে জানান, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ এক ইঞ্চি জায়গা যেন অনাবাদি না থাকে। আমি সেই লক্ষ্যে যেহেতু এই জায়গাটা পতিত রয়েছে সেজন্য বিভিন্ন জাতের সবজির পাশাপাশি সরিষা ও সূর্যমুখী ফুলের গাছ লাগিয়েছি। বর্তমানে সময়ে ভোজ্যতেলের মূল্য বেশি তাই সূর্যমুখী ও সরিষা চাষাবাদের মাধ্যমে কিছুটা হলেও ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটানো যাবে এবং বিনোদনের একটা ব্যবস্থা করতে মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া। আর নিজের চাষকরা জমির টাটকা সবজি খেতে ভাললাগে আবার অনেক টাকা সাশ্রয় হয়। আমি টিএনটির জায়গায় সবজির বাগান করছি যাতে এগুলো দেখে অন্যরাও উৎসাহিত হয়।
তিনি প্রতিবেদকে আরও জানান, আমার জানামতে আরো অনেকেই উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ভুট্টা, সরিষার চাষ করছেন। আমি আসলে কাজের বাহিরের সময়টা বাগান, খেলাধুলা, গান ও ভ্রমনের প্রতি যথেষ্ট মনোনিবেশ। এগুলো করে আমি আত্মতৃপ্তি পাই।
কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এখানে ২ বিঘা জায়গাজুড়ে গত নভেম্বরের শেষ দিকে বপন করা হয়েছে বাংলাদেশী জেপিএস সীড জাতের সূর্যমুখী জাতের কয়েক হাজার সূর্যমুখী ফুল। আর রৌয়া গ্রামে ১৩-১৫ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে এবং উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে অনেক জায়গায় সরিষার চাষ করে উত্তোলনও প্রায় শেষ।
সূর্যমুখী ফুলের বাগান দর্শনার্থী সলিল তালুকদার জানান, আমাদের ইউএনও স্যারের প্রচেষ্টায় এই বাগানটা করেছেন। দূর থেকে অপরূপ সুন্দর লাগে, সৌন্দর্য উপভোগ এবং স্মৃতির জন্য বাগানের কাছে এসে ছবি তুললাম। আমার মতো আরও হাওড়ের মধ্যে মনোমুগ্ধকর ফুলের সৌরভ নিতে পর্যটকরা আসছেন। আমি শ্রদ্ধেয় স্যারকে এই উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।
ভবেশ দাশ নামের এক দর্শনার্থী জানান, ভাটি এলাকার মধ্যে এত অপরুপ সৌন্দর্য্য অবলোকন করে মনটা ভরে যায়। তাই মাঝে মধ্যে বন্ধুদের নিয়ে দেখতে আসি।
কিশোরগঞ্জের দর্শনার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি বাইকে শাল্লা সদরে আসার পূর্বে সূর্যমুখীর বাগানটা দেখে ছবি তোলার ইচ্ছে হলো। ভাবতেছি আগামী সপ্তাহে আমার পরিবার নিয়ে এখানে আসবো।
ক্রীড়াবিদ কালিপদ রায় বলেন, শাল্লায় এই প্রথম সদরের পাশে ফুলের সৌরভে আমরা মুগ্ধ হয়েছি। আমার পরিবারের সবাইকে নিয়ে ফুলের সাথে ছবি তুলে স্মৃতিচারণ করলাম। ইউএনও আবু তালেব স্যারের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
কলেজ শিক্ষার্থী পার্থ ও বাবলু জানান, আমরা এই প্রথম শাল্লা উপজেলা ভবন ও কলেজের সামনে সূর্যমুখী ফুলের বাগান হয়েছে। এতে চারদিকের পরিবেশে আরও সুন্দর লাগছে। আমরা বন্ধুরা মিলে প্রায় সময়ই ফুলের বাগানে ছবি তুলতে যাই।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/সন্দীপন/এসডি-১৪
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.