শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অন্যতম নাট্য সংগঠন 'দিক থিয়েটার' উদ্যোগে 'ক্ষুদিরামের বসু' নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছে।
সোমবার রাত সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এই নাটকটি মঞ্চায়িত হয়।
নাটকটি রচনা করেছেন মান্নান হীরা। এতে নির্দেশনায় ছিলেন জগদীপ দাশ, পুনঃ নির্দেশনা ছিলেন আর্নিকা দেব, সহকারী নির্দেশক হিসাবে ছিলেন আবু রাকিব হাসান ও অনন্যা ঘটক।
.jpg)
নাটকের কাহিনী সংক্ষেপ সম্পর্কে পুনঃনির্দেশক আর্নিকা দেব বলেন, আমাদের আজকের নাটকটি, ইতিহাসের প্রায় মুছে যাওয়া এক সময়ের বহিঃপ্রকাশ। সামরিক শাসকের সাম্প্রদায়িক ও বাণিজ্যিক শিক্ষানীতির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে তখনকার ছাত্রসমাজ। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ড. মজিদ খান ১৯৮২ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর একটি নতুন শিক্ষানীতির প্রস্তাব করেন। সেখানে প্রথম শ্রেণি থেকেই আরবি ও দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে ইংরেজি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়। উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য মাপকাঠি করা হয় মেধা অথবা পঞ্চাশ শতাংশ ব্যয়ভার বহনের ক্ষমতা। এই নীতি ঘোষণার পর থেকেই আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। ছাত্রসমাজের দাবি ছিল একটি অবৈতনিক বৈষম্যহীন শিক্ষানীতি। কিন্তু মজিদ খান যে নীতি ঘোষণা করেন, সেখানে বাণিজ্যিকীকরণ আর ধর্মীয় প্রতিফলন ঘটেছে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। তাই শুরু থেকেই ওই নীতির বিরোধিতা করতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ই ফেব্রুয়ারিতে স্মারকলিপি দিতে শিক্ষার্থীরা মিছিল করে সচিবালয়ের দিকে যাবার সময় পুলিশ গুলি চালায়। এতে জয়নাল ও দীপালি সাহাসহ নিহত হন অন্তত ১০জন। তবে হতাহতের এই সংখ্যার বিষয়ে তখন সরকারিভাবে কোন বক্তব্য দেওয়া হয়নি। মান্নান হীরা এ নাটকে সংগ্রামী চেতনার প্রতিক হিসেবে ক্ষুদিরাম চরিত্রটিকে উপস্থাপন করেছেন।এছাড়াও তুলে ধরেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যকার আন্তঃকোন্দল এবং একটি ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ কিভাবে তাদের স্বার্থ হাসিলের খসড়া বানাচ্ছে। ইতিহাসের এসব ঘটনাকে আপনাদের সামনে তুলে ধরতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
তিনি আরোও বলেন, ক্ষুদিরামের দেশে নাটকে মূলত অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনের বিপ্লবের চিত্র ফুটে উঠেছে। এই শিক্ষানীতি বিরোধী আন্দোলন আজকের দিনেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে নতুনরুপে, নতুনভাবে। এই নাটকে পাগলের ধিক্কার, বাদশার আত্মত্যাগ, বৃদ্ধ বাবার আর্তনাদ আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় অন্যায়ের সাথে আপোষ না মানার কথা। ১৪ই ফেব্রুয়ারির সেই আগুনঝরা সময়টি আজ বিস্মৃতপ্রায়। অথচ দাবিগুলো আজও প্রাসঙ্গিক এবং সমস্যাগুলো বর্তমান।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/নোমান/এসডি-২০
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.