সিলেটের কানাইঘাটে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে আপন ভাতিজা-ভাতিজির বিরুদ্ধে ঘর পুড়ানোর মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযো পাওয়া গেছে।
শনিবার (৪ মার্চ) কানাইঘাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন উপজেলার গড়াইগ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের মেয়ে ফেরদৌসী বেগম জেবিন।
তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন- জেবিনের মরহুম পিতা আব্দুর রহমান অনুমানিক ২ বছর পূর্বে মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার পর থেকে তার আপন চাচা এলাকার প্রভাবশালী আব্দুর রব ও তার পুত্র মাসুম আহমদ, আমিন উদ্দিন গংরা তার পিতার খরিদ সূত্রে বসত বাড়ীতে মালিকানাধীন ভোগ দখলীয় ২২ শতক ভূমির রাস্তার সামনের বড় অংশ জোর পূর্বক জালজালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে জবর দখল করার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।
সংবাদ সম্মেলনে ফেরদৌসী বেগম জেবিন কান্না জড়িত কণ্ঠে আরো বলেন, গত ৫/১/২৩ইং তারিখে তার আপন চাচা আব্দুর রব তার ছেলেদের নিয়ে রাতের আধারে তার অপর ছেলে জাকারিয়ার টিনশেডের জরাজীর্ণ একটি ঘরের সমস্ত মালামাল দিনের বেলা অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে ঘরে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে ফেলে। নিজেরা ঘর পুড়িয়ে ভিট বাড়ীর জায়গা জবর দখল করার জন্য কানাইঘাট থানায় তার আপন চাচা আব্দুর রব বাদী হয়ে তাকে সহ তার সহজ সরল ভাই শাহিন আহমদ সহ আরো ৯ জনকে আসামী করে একটি অভিযোগে দায়ের করলে প্রভাবশালী মহলের চাপে পুলিশ বাধ্য হয়ে ১৪/১/২২ইং তারিখে মামলাটি এফআইআর করে।
উক্ত সাজানো, মিথ্যা ঘর পুড়ানোর মামলা দায়েরের পর আমি সহ ৫ জন আসামী সিলেটের বিজ্ঞ আদালতে উপস্থিত হলে আদালত আমাদের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন লাভের পর থেকে আমার চাচা ও চাচাতো ভাইয়েরা অব্যাহত ভাবে আমাদের পরিবারের সদস্যদের প্রাননাশের হুমকি ও আরো মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানী করবে তাদের এমন হুমকির মুখে আমার বৃদ্ধ মা ছাড়া বাড়ী ছেড়ে আমি ও আমার প্রবাসী ভাইয়ের স্ত্রীরা পিত্রালয়ে আশ্রয় নেই। এই সুযোগে গত বৃহস্পতিবার সকালে আমার চাচা ও চাচাতো ভাইয়েরা এবং তাদের স্বজনরা আমার পিতার ভিট বাড়ীর খরিদা ভূমির ৮/৯ শতক জমি জোর পূর্বক ভাবে জবর দখল করে তথায় ৭০/৮০ জন শ্রমিক লাগিয়ে ফেলুডার, স্কেভেটর দিয়ে মাটি ভরাট করে তথায় টিনশেডের ঘর নির্মান করেন। আমার বৃদ্ধ মা সৈয়দুন নেছা বাধা প্রদান করলে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করলে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহন করেন।
এ ঘটনায় আমার প্রবাসী ভাইয়ের স্ত্রী ঐ দিন রাতে থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি দরখাস্ত মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানা পুলিশ শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আমার চাচাকে আমাদের খরিদা ভূমির উপর স্থাপনা নির্মান না করার জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু পুলিশের নির্দেশ উপেক্ষা করে আমার চাচা ও চাচাতো ভাইয়েরা স্থাপনার কাজ করে যাচ্ছেন। যার কারনে একদিকে মিথ্যা মামলার কারনে আমরা হয়রানীর শিকার হচ্ছি অপর দিকে আমাদের সম্পত্তি রক্ষা করতে পারছি না।
এমতাবস্থায় সংবাদ সম্মেলনে ফেরদৌসী বেগম জেবিন মিথ্যা ঘর পুড়ানোর মামলাটি অধিকতর তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন এবং তাহাদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান এবং পিতার খরিদা সম্পত্তি চাচার কবল থেকে উদ্ধারসহ জানমালের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / মাহবুব / ডি.আর
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.