প্রকাশিত: ২৮ মার্চ, ২০২৩ ১৯:২৮ (রবিবার)
কাঁচা মরিচ চাষে চমক দেখালেন আজমিরীগঞ্জের তোফাজ্জল

হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর শিবপাশা ইউনিয়নের পশ্চিমভাগ গ্রামের সবজি চাষি তোফাজ্জল মিয়া। প্রতিবছর নিজের জমি এবং কিছু জমি লিজ নিয়ে চাষ করে থাকেন বিভিন্ন রকমের সবজি। এবছর অন্যান্য সবজির পাশাপাশি তিন কানি জমিতে কাঁচা মরিচের আবাদ করে এলাকায় রীতিমত তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি।
 

সরেজমিন তার কাঁচা মরিচের ক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন জাতের বাহারি কাঁচা মরিচ ঝুলছে গাছে। মরিচের ভারে নুয়ে পড়েছে  কাঁচা মরিচের ব্যাপক ফলন হয়েছে তার জমিতে। শ্রমিকরা সংগ্রহ করছেন মরিচ। তোফাজ্জল মিয়ার মরিচের ফলন দেখে এখানকার কৃষকরা ব্যাপক পরিমানে মরিচ চাষের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তার জমিতে উৎপাদিত কাঁচা মরিচ হবিগঞ্জ জেলা সদর, পার্শবর্তী উপজেলা বানিয়াচং এবং আজমিরীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
 

তোফাজ্জল মিয়া জানান, তিন কানি জমিতে মরিচের আবাদ করতে তার খরচ হয়েছে মাত্র ১ লক্ষ বিশ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে চার থেকে সাড়ে চার লক্ষ টাকার মরিচ বিক্রি করেছেন তিনি। আরও অন্তত ৫ লক্ষ টাকা মুনাফা অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
 

তোফাজ্জল মিয়া আরও জানান, গত বছর অল্প পরিমাণে মরিচের আবাদ করে সফল হয়েছিলেন তিনি। তাই এবার জমির পরিমাণ বাড়িয়ে তিন কানি জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন।

মরিচের বাম্পার ফলনে আনন্দিত এবং বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, “কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে আমার জমিতে। এত ভালো ফলন হবে আমি কখনও ভাবিনি। তাছাড়া বাজারে আমার মরিচের চাহিদাও বেশি।”
 

এক প্রশ্নের জবাবে জবাবে তোফাজ্জল মিয়া জানান, প্রতি কেজি ৮০ টাকা পাইকারি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি করছেন তিনি। আর মরিচ বিক্রির জন্য তাকে বাজারেও যেতে হয় না। হবিগঞ্জ-বানিয়াচংসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা তার ক্ষেত থেকে মরিচ কিনে নিয়ে যান।
 

তিনি আরও জানান, “মালচিং পদ্ধতিতে হাইব্রিড-১৭০১, মেথিলা, ফায়ারবক্স এবং শিখা এই চার জাতের মরিচের চাষ করেছি। চারা রোপণের ৩ মাসেই ফলন পেয়েছি। আমার ক্ষেতের মরিচ দেখতে যেমন আকর্ষনীয় তেমনি ঝালে, স্বাদে এবং ঘ্রাণেও অতুলনীয়। তাই বাজারে চাহিদাও বেশ ভালো।”
 

বানিয়াচংয়ের বড়বাজারের সবজি বিক্রেতা আফরোজ মিয়া। তোফাজ্জল মিয়ার মরিচের নিয়মিত বিক্রেতা তিনি।

তিনি জানান, তোফাজ্জল মিয়ার ক্ষেতের মরিচের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে ক্রেতাদের কাছে। দেখতে আকর্ষনীয় এই মরিচ প্রতি কেজি একশ’ টাকা দরে খুচরা বিক্রি করছেন তিনি।


 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/জসিম/এসডি-১৬