প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল, ২০২৩ ২২:৪৯ (বুধবার)
কীর্তিমান মানুষ চির অমর তার কর্মেই মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকেন

আমার পিতা মরহুম সোনাহর আলী (কাচা মিয়া) মেম্বার সাহেব এর ৩৫তম মৃত্যু বার্ষিকি হিসাবে তাঁর কর্মজীবনের প্রতি আলোপাত করতে আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস।
 

তিনি বিশ্বনাথের ৪নং রামপাশা ইউনিয়নের পালের চক গ্রামে এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে ১৯১৭ইংরেজী সনে জন্ম গ্রহন করেন।তিনি ছিলেন অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী পালেরচক গ্রাম প্রসাশনিক ভাবে রামপাশা সার্কেলের অন্তগত তদানিন্তন বৃটিশ ভারত থেকে তৎকালিন পাকিস্তানে ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারী পর্যন্ত মরহুম সোনাহর আলী (কাচা মিয়া) ছিলেন রামপাশা সার্কেলের (প্রসাশনিক ইউনিট)সহকারী প্রধান। পরবর্তীতে ১৯৬০ সালের প্রথম ইউনিয়ন কান্সিল নির্বাচনে রামপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।১৯৬৫সালের ২য় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মত ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন।১৯৭৭ সালে আবার তৃতীয় বারের মত ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন।তিনি জীবনাদ্দশায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে গেছেন,রামপাশা সার্কেলের (প্রসাশনিক ইউনিট)সহকারী প্রধান ও ইউপি সদস্য থাকাকালীন দীর্ঘ ৩০ বৎসর তিনি দক্ষতা ও সততার সহিত দায়িত্ব পালন করে গেছেন এবং সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষঠার লক্ষে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন, এমনকি একজন ন্যায় পরায়ন গ্রাম্য সালিশ বিচারক হিসাবে গোটা বিশ্বনাথ উপজেলা ও তথা সিলেট অঞ্জলে সুনাম অর্জন করে গেছেন।
 

রাজনীতিতে ও তিনির অনেক অবদান রয়েছে।বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির প্রতিষঠাদাতাকালীন সদস্য ছিলেন তিনি একজন শিক্ষানুরাগী ছিলেন। পালেরচক প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষঠাকালিন সময় দীর্ঘদিন পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। একাধারে উওর বিশ্বনাথ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি, একলিমিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য, তেলিকোনা দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি, সৎপুর কামিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি, বিশ্বনাথ আলিয়া মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য, ও আশুগঞ্জ বাজার প্রতিষঠাদাতাকালীন সদস্য ও পরিচালনা কমিটি সভাপতি ছিলেন।এবং পালের চক পুরাতন ও নতুন জামে মসজিদ ও দীপবন্দ পশ্চিম জামে মসজিদ এর ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কি বিশ্বনাথের অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষঠানের সাথে অভূতপূর্বভাবে জড়িত ছিলেন।তিনি কর্মময় জীবনে অনেক সু খ্যাতি সুনাম রয়েছে।

তিনি জীবনদ্দশায় ৪ পুএ ৪ কন্যা, স্ত্রী সহ অসংখ্য গুনাগারী রেখে বিগত ১৯৮৮ ইং সনের ২২শে এপ্রিল রমজান মাসে তারাবির নামাজ শেষে মসজিদে ইন্তেকাল করেন।  ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।
 

আজ এই দিনে আমার বাবার ৩৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকি উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে খতমে কোরআন মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।দোয়া পরিচালনা করেন মরহুমের দৌহিত্র সৎপুর কামিল মাদ্রাসার তৃতীয় বর্ষের ছাএ হাফিজ আহমদ তুহিন।মরহুমের মাগফিরাতের দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন তিনি বড় ছেলে পালেরচক নতুন জামে মসজিদের মোতায়ল্লী ফারুক আহমেদ, রামপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ও আশুগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটি সভাপতি আনোয়ার হোসেন সৌদিআরব প্রবাসী গৌছ আলী এবং বেলজিয়াম বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলম হোসেন ও মরহুমের দৌহিত্র সিলেট জেলা ছাএদলের সাবেক সদস্য আমেরিকা প্রবাসী রাব্বি আহমদ রবিন ও বিশ্বনাথ উপজেলা ছাএদলের যুগ্ম আহবায়ক রেদোয়ান আহমদ ডালিম ও পরিবারের অন্যান্য সদস্য বৃন্দ।
 

পরিশেষে মহান আল্লাহতালা আমার পিতা মরহুম সোনাহর আলী কাচা মিয়া কে জান্নাতের মেহমান হিসাবে কবুল করুন এবং জান্নাতুল ফেরদাউন দান নছিব করুন। আমিন ছুমমা আমিন।


 

লেখক: মো. আলম হোসেন, বেলজিয়াম প্রবাসী।