প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল, ২০২৩ ১৭:৩২ (শনিবার)
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের পর্যটকদের ঢল, রাজস্ব বৃদ্ধি

দীর্ঘ ১ মাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর ও তার পরের দিন পরিবার পরিজন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে চলে এসেছে ভ্রমন পিপাসুরা। ঈদের দিন থেকে আজ পর্যন্ত পর্যটকদের ঢল নেমেছে মাধবপুর উপজেলা অংশ বিশেষ ও চুনারুঘাট উপজেলা সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে।
 

ঈদের দিন বিকেলে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, দলবেধে পর্যটকরা বনের ভেতরে প্রবেশ করে ঘুরা ফেরা করছেন। অনেকে আবার চা বাগানের টিলায় দলবেধে ছবি তুলছেন। টিকেট কাউন্টারের সামনে ছিল লম্বা লাইন। হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলা পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। চার পাশে রয়েছে সবুজ গালিচা মুড়ানো চোখ জুড়ানো দৃষ্টি নন্দন চা বাগান। টিলার পাশে রয়েছে ছড়া। এসব ছড়াতে বালি চিকচিক করে। এসব মনোরম স্থান পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ছে। এবাররে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ও চা বাগানে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব স্থানে প্রাকৃতিক রুপে প্রিয়জনদের নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দটা পর্যটকরা উপভোগ করছেন বিভিন্ন ভাবে।
 

পাহাড়ি এলাকার পাশাপাশি শহরের নানা স্থানেও প্রিয়জনদের নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ছিল দেখার মত।
 

ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র তাবিব সিলেটভিউ'কে জানান, সাতছড়িতে এসে আমার খুব ভালই লেগেছে। এখানে সব কিছু একেবারে ন্যাচারাল। বিভিন্ন ধরণের বন্য প্রাণী আর বিরল প্রজাতির গাছ রয়েছে। যে গুলোর নাম বই পুস্তকে পড়েছি কিন্তু আজ বাস্তব চোঁখে দেখতে পেরেছি। পাখির নানা রকম ডাক মন ভরে যাচ্ছে। সব কিছু মিলিয়ে জায়গাটি অসাধারণ।
 

এদিকে, পর্যটক সমাগমে সাতছড়ি র্কতৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল জোরদার। প্রকৃতরি সৌর্ন্দয মন্ডিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান অভয়ারণ্য। এসব বনের ভিতরে এঁকেবেঁকে চলেছে বালুময় ছড়াগুলো। ঢাকা ও সিলেট থেকে সড়ক পথে মাত্র ৪ অথবা সাড়ে ৩ ঘন্টার পথ। জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বর এলাকায় নেমে ৩০ মিনিট অথবা শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজে নেমে সেখান থেকে ৫০ মিনিট যাওয়া সম্ভব সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে। তেলিয়াপাড়া রেল গেইট পার হলেই চোখে পড়ে নিপুন শিল্পীর হাতে গড়া সবুজ চা বাগান।

ঈদের ছুটিতে উদ্যানে প্রচুর পর্যটকের সমাগম হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তা রয়েছে। প্রায় ১০ হাজার একর র্দুগম পাহাড়ি জমি নিয়ে গঠিত রঘুনন্দন। ২০০৫ সালে ৬০০ একর জমিতে জাতীয় উদ্যান করা হয়। এ উদ্যানের ভেতরে রয়েছে অন্তত ২৪টি আদিবাসী পরিবার। রয়েছে বন বিভাগের লোকজন। পর্যটকদের জন্য প্রজাপতি বাগান, ওয়াচ টাওয়ার, হাঁটার ট্রেইল, খাবার হোটেল, রেস্ট হাউস, মসজিদ, রাত যাপনে স্টুডেন্ট ডরমিটির সবই চালু আছে। উদ্যানে দুই শতাধিক প্রজাতির উদ্ভিদের মধ্যে শাল, সেগুন, আগর, গর্জন চাপালিশ, পাম, মেহগনি কৃষ্ণচূড়া, ডুমুর, জাম, জামরুল, সিধা জারুল, আওয়াল, মালকোস, আকাশমনি বাঁশ, বেঁত ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
 

১৯৭ প্রজাতির জীব-জন্তুর মধ্যে প্রায় ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ৬ প্রজাতির উভচর। আরো আছে প্রায় ২০০ প্রজাতির পাখি। রয়েছে লজ্জাবতী বানর, উল্লুক, চশমা পড়া হনুমান, শিয়াল, কুলু বানর, মোছা বাঘ, মায়া হরিণের বিচরণ। সরীসৃপের মধ্যে আছে কয়েক জাতের সাপ। কাও ধনেশ, বন মোরগ, লাল মাথা ট্রগন, কাঠঠোকরা, ময়না, ভিমরাজ, শ্যামা, ঝুটিপাঙ্গা, শালিক, হলদে পাখি, টিয়া প্রভৃতি।
 

এবারের ঈদে পর্যটকদের কাছ থেকে সরকারি রাজস্ব ১ লাখ ৭০ হাজার ৪০৯ টাকা আদায় হয়েছে বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।



 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/শামীম/এসডি-০৮