প্রকাশিত: ০৯ মে, ২০২৩ ২০:০৩ (বুধবার)
দক্ষিণ সুরমার মুমিন যেভাবে জড়ালো ‘জঙ্গিবাদে’

সিলেটে সোমবার (৮ মে) রাতভর অভিযান চালিয়ে পাহাড়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চার ‘জঙ্গিকে’ গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৯। এর মধ্যে একজন সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার যুবক। তার নাম আব্দুল্লাহ মায়মুন মুমিন (৩৪)। তিনি একজন আলেম-হাফেজের ছেলে।

মঙ্গলবার (৯ মে) দুপুরে র‍্যাব-৯ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে এই চারজনকে গ্রেফতার ও তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন প্রেস বিফিংয়ে সিলেটের মুমিন সম্পর্কে জানান- নতুন ‘জঙ্গি সংগঠন- জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারকীয়্যা’র শুরা সদস্য ও দাওয়াতি শাখার প্রধান আবদুল্লাহ মায়মুন (মুমিন)-এর বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমায়। মামুন সিলেটের স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে দাখিল সম্পন্ন করেন। অনলাইনে ফিলিস্তিন, মায়ানমার ও ইরাকসহ বিভিন্ন স্থানে মুসলামাদের উপর নির্যাতনের ভিডিও দেখে তিনি ‘উগ্রবাদে’ আকৃষ্ট হন।

২০১৩ সালে মুমিন স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে ‘আনসার আল ইসলাম’ নামের জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেন। তিনি এ সংগঠনের সিলেট বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। ওই সংগঠনের শীর্ষ জঙ্গি নেতা চাকরিচ্যুত মেজর জিয়ার সঙ্গে মুমিনের নিয়মিত যোগাযোগ ছিলো। এমনকি জঙ্গি জিয়া তার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। ২০১৯ সালে বগুড়ার একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় মুমিন গ্রেফতার হন এবং ১ বছরের বেশি সময় কারাভোগ করে ২০২০ সালের শেষের দিকে জামিনে মুক্তি পান।

পরবর্তীতে তার জামিন বাতিল হলে মুমিন আত্মগোপনে চলে যান। ২০২১ সালে ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারকীয়া’ নামের নতুন ‘জঙ্গি সংগঠনের’ শুরা সদস্য রণবীর ও মানিকের মাধ্যমে ওই সংগঠনে যোগ দেন মুমিন এবং পাহাড়ে চলে যান। ‘আনসার আল ইসলামের’ সিলেট বিভাগীয় প্রধান হওয়ায় সে ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারকীয়া’র শুরা সদস্য ও দাওয়াতি শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান মুমিন।

এছাড়াও তিনি সিলেট অঞ্চলে সংগঠনটির দাওয়াতি ও প্রশিক্ষণসহ সার্বিক কার্যক্রম তত্ববধান করতেন। মুমিন সাংগঠনিক কাজে বিভিন্ন সময়ে পাহাড়ে আসা-যাওয়া করতেন। সিলেট বিভাগের যারা এই ‘জঙ্গি সংগঠনে’ ইতোমধ্যে যুক্ত হয়েছেন- এই মুমিনের মাধ্যমেই হয়েছেন।

শুরুর দিকে তার মাধ্যমে ‘আনসার আল ইসলাম’ ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারকীয়া’-কে ১৫ লক্ষ টাকা অনুদান দেয়। মূলত মুমিন ‘আনসার আল ইসলামের’ নতুন এই জঙ্গি সংগঠনের সেতুবন্ধন তৈরি করেন। এছাড়াও মুমিন তার পরিচিত প্রবাসে থাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে এবং নিজের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারকীয়া’-কে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা সংগ্রহ দেন। এছাড়াও ৩-৪ মাস পর পর মুমিন বিদেশে অবস্থানরত তার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে ৩০/৩৫ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করে ওই সংগঠনকে দিতেন।

সম্প্রতি ওই জঙ্গি সংগঠনের অপতৎরতার খবর পেয়ে র‍্যাব পাহাড়ে অভিযান শুরু করলে মুমিন সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সিদ্ধান্তে সেখান থেকে পালিয়ে এসে ঢাকা ও নারায়নগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। অতি সম্প্রতি তিনি পরিচয় গোপন করে ভুল তথ্য দিয়ে সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন বড়শালা এলাকার একটি বাড়িতে আরও ৩ জঙ্গিকে নিয়ে অবস্থান শুরু করেন।

তারা ওই বাড়িতে আত্মগোপনে থেকে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে যোগাযোগ রেখে সাংগঠনিক বিভিন্ন কাজ করতে থাকেন এবং আনসার আল ইসলামের সঙ্গে সমন্বয় করে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

খবর পেয়ে সোমবার রাতভর অভিযান চালিয়ে বড়শালার ওই বাড়ি থেকে মুমিনসহ ৪ জঙ্গিকে গ্রেফতার করে র‍্যাব-৯। বাকি তিন জঙ্গি হলেন- ফরিদপুর জেলার চরভদ্রসন গ্রামের মৃত. শেখ আব্দুস ছালাম মাস্টারের ছেলে মো. আবু জাফর তাহান,  চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর গ্রামের মৃত  মোস্তফা কাজীর ছেলে মো. আক্তার কাজী সাইদ (আইজল) (৩৮) ও গোপালগঞ্জ জেলার মুকসেদপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাক মোল্লার ছেলে সালাউদ্দিন রাজ্জাক মোল্লা (৩২)।

গ্রেফতারকালে তাদের কাছ থেকে নগদ ২ লক্ষ টাকা ও কয়েকটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জব্দ করে র‍্যাব।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম