ছবি : আহমেদ শাহিন
পহেলা মে। বিশ্বব্যাপী শ্রমিকরা দিনটি নিজেদের মতো পালন করেন। নিজেদের নানা অধিকার আদায়ের স্লোগান দেন রাস্তায় নেমে।
১ মে বেশিরভাগ শ্রমিকই কাজে যান না। একটু যেন জিরিয়ে নেন এদিন। এমনই চিত্র দেখা গেলো সিলেট মহানগরের শিবগঞ্জ এলাকার একটি কলোনির সামনের উঠোনে, গাছের নিচে ছায়ায়। আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে ৪ জন লোক ওই গাছের নিচে বসে ছক্কা-লুডু খেলছেন। তাদের ঘিরে গোল হয়ে বসে-দাঁড়িয়ে খেলা দেখছেন আরও ১০-১২ জন। কীভাবে খেললে জয়ী হওয়া যাবে- এমন পরামর্শ দিচ্ছেন খেলোয়াড়দের। আজ তাদের কাজ নেই। হাতে যেন অফুরন্ত সময়। মনে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।
তাদের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তারা বললেন- ‘আইজ তো খাম-খাজর দিন নায়। আইজ এখটু জিরানির দিন। খাম তো হারা বছর খরি। আইজ সবে মিলিয়া এখটু আনন্দ-ফুর্তি কররাম।’
তবে তারা বলেন- সকালে মে দিবসের র্যালিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
এদিকে, এই দিনে অনেক শ্রমিক বসেও নেই। জীবিকার তাগিদে বৈশাখের তীব্র গরমকেও উপেক্ষা করে নামতে হয়েছে কাজে। বিশেষ করে বাস ও লেগুনাসহ যাত্রীবাহী পরিবহনগুলোর শ্রমিকদের বিরাম নেই। অনেকটা বাধ্য হয়েই তাদেরকে কাজে আসতে হয়েছে।
সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ফারুক আহমদ নামের এক পরিবহন শ্রমিকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, তাপদাহ কিংবা মে দিবস যাই হোক- কাজে তো আসতেই হবে। তা না হলে ঘরে চুলায় আগুন জ্বলবে না। দিন শেষে মজুরির টাকা হাতে পেলে তা দিয়ে সদাই-পাতি নিয়ে ঘরে যেতে পারবো।
এছাড়া বুধবার (১ মে) দুপুরের দিকে সিলেট মহানগরের বিভিন্ন সড়কে মে দিবস ও তাপদাহের মধ্যেও শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, ১৮৮৬ সালের এদিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ওই সময়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ঘিরে থাকা পুলিশের প্রতি অজ্ঞাতনামা কেউ বোমা নিক্ষেপ করলে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর গুলি চালায়। এতে ১০-১২ জন শ্রমিক ও পুলিশ নিহত হয়। ওইদিন তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বিশ্বে শ্রমিক শ্রেণির অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অর্থাৎ শিকাগোর হে মার্কেটে দিনে ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করতে গিয়ে কয়েকজন শ্রমিককে জীবন দিতে হয়। তবে দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয় আরও পরে। ১৮৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবের শতবার্ষিকীতে প্যারিসে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১৮৯০ সাল থেকে শিকাগো প্রতিবাদের বার্ষিকী আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশে পালনের প্রস্তাব করেন রেমন্ড লাভিনে। ১৮৯১ সালে আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে এ প্রস্তাব গৃহীত হয়। এরপর ১৮৯৪ সালে মে দিবসের দাঙ্গার ঘটনা ঘটে।
এই ধারবাহিকতায় ১০০ বছর পর ১৯০৪ সালে আমস্টারডাম শহরে অনুষ্ঠিত সমাজতন্ত্রীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ উপলক্ষ্যে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। ওই প্রস্তাবে বিশ্বজুড়ে সব শ্রমিক সংগঠন ১ মে ‘বাধ্যতামূলকভাবে কাজ না করার’ সিদ্ধান্ত নেন। এরপর থেকে সারা বিশ্বে দিনটি ‘মে দিবস’ হিসাবে পালিত হয়ে আসছে।
এবারে বাংলাদেশে মে দিবসের প্রতিপাদ্য-‘শ্রমিক-মালিক গড়ব দেশ, স্মার্ট হবে বাংলাদেশ।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.