প্রকাশিত: ১৯ মে, ২০২৪ ০১:৩৪ (শুক্রবার)
লন্ডনের পর এবার ইতালিও দিলো অ্যাসাইলামকারীদের জন্য দু সং বা দ ! 

ইউরোপের দেশ যুক্তরাজ্যের পর এবার ইতালিও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দিলো দুসংবাদ। ইউরোপের পঞ্চম জনসংখ্যার দেশ ইতালিতে থাকা অবৈধ অভিবাসীদের তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। 

 

ইতালিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন। এর মধ্যে অনেক সিলেটিও আছেন। তাঁদের অনেকে অবৈধভাবে গিয়ে সেখানে থাকার আবেদন করেছেন। কিন্তু গত ১০ মে ইতালির পুলিশের কর্মকর্তা ক্রিস্টিয়ানো ম্যরিনোর বরাত দিয়ে মিলানের সংবাদমাধ্যম স্কাই টিজি টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের প্রায় ৭৮ শতাংশকে ফেরত পাঠানো হবে। 

 

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ বাংলাদেশির সেখানে থাকার আবেদন নাকচ হচ্ছে। এ ছাড়া মিসর (৯০ শতাংশ), তিউনিসিয়া (৯০ শতাংশ), মরক্কো (৮৪ শতাংশ) ও গিনির (৬৪ শতাংশ) অভিবাসীরাও একই ঝুঁকিতে রয়েছেন। 

 

স্থানীয় পুলিশ বলছে, ২০২২ সালের আগের ১৪ বছরে অবৈধ হয়ে পড়া অভিবাসীদের মধ্যে ৬০ শতাংশের আশ্রয় চেয়ে করা আবেদন বাতিল হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৮ শতাংশকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। প্রতি বছর যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমাচ্ছেন সিলেটের অনেকেই। সিলেটের মানুষের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাজ্য।

 

যুক্তরাজ্য যাওয়ার পর ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও তার বিভিন্ন ভাবে থেকে যাচ্ছেন সেখানেই। প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি ছাত্র গত বছর ভ্রমণ কিংবা কাজের ভিসায় যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে তারা বসবাসের জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। দেশটিতে প্রাথমিক আশ্রয়ের জন্য তাদের মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশের আবেদন মঞ্জুর হয়। বাকি ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। 

 

আবেদন খারিজ হওয়া এসব আশ্রয়প্রার্থীদের এখন বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ ফাস্ট ট্র্যাক রিটার্ন চুক্তির আওতায় এই বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো সহজ করতে চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশের সঙ্গে এ নতুন চুক্তি করেছে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্যের অবৈধ অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী মাইকেল টমলিনসন বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ফাস্ট-ট্র্যাক রিটার্ন চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এর আগে লন্ডনে স্বরাষ্ট্র বিষয়ক প্রথম যৌথ ইউকে-বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপে উভয় পক্ষ রিটার্ন চুক্তির বিষয়ে সম্মত হয়। উভয় দেশ পারস্পরিক অংশীদারিত্বের পাশাপাশি অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিষয়ে সহযোগিতার ব্যাপারে জোরালো অঙ্গীকার করে।

 

এই চুক্তির আওতায় আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) আবেদন প্রত্যাখান হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের ‘ফাস্ট-ট্রাক’(দ্রুত) পদ্ধতিতে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। এছাড়া যারা অপরাধী ও ভিসা নিয়ে দেশটিতে প্রবেশের পর বাড়তি সময় থাকছেন তাদেরও ফেরত পাঠানো সহজ করবে চুক্তিটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিবাসীরা গত বছরের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, কর্মী বা ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর শুধুমাত্র স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয় দাবি করেন। 

 


এতে আরও বলা হয়, ভিসা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্য দেশের মানুষকে যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি দেয়। কিন্তু যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পর কেউ আশ্রয়ের আবেদন করলে সেখানে তার অবস্থান অনির্দিষ্ট হয়ে যায়। ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত রেকর্ড ২১ হাজার ৫২৫ জন ভিসাধারী যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেন যা আগের বছরের তুলনায় ১৫৪ শতাংশ বেশি। এতে আরও বলা হয়, ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পর আশ্রয় প্রার্থীর শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান, এরপরের অবস্থানে আছে বাংলাদেশ, ভারত, নাইজেরিয়া ও আফগানিস্তান। গত বছর যুক্তরাজ্য থেকে বিভিন্ন দেশের ২৬ হাজার নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডি.আর/ নোমান