প্রকাশিত: ৩০ মে, ২০২৪ ২৩:১৩ (বৃহস্পতিবার)
সিলেটে ফের বন্যার কারণ কী

সিলেটে গত কয়েক যুগের মধ্যে সবচেয়ে বড় বন্যা হয়েছিলো ২০২২ সালে। ষাট থেকে সত্তরোর্ধ্ব অনেকে তখন বলছেন, তাঁরা বন্যার এত পানি এর আগে দেখেননি। এর ঠিক দুই বছরের মাথায় সিলেটে ফের ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হু হু করে বাড়ছে সিলেটের নদ নদীর পানি। সিলেটের ৫টি উপজেলায় হঠাৎ করেই বন্যা হয়েছে। তবে সিলেটে ফের বন্যার করণ কি।



বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে মূলত আকস্মিক বন্যা হয়। এছাড়া সিলেটের প্রতিটি নদ-নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে নাব্যতা হারিয়েছে। হাওরে অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ, রাস্তা ও স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছে। নির্বিচারে কাটা হচ্ছে পাহাড়-টিলা। মূলত, ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির জন্য মোটাদাগে এসব কারণই প্রধানত দায়ী।
 


ভারী বৃষ্টি ও হঠাৎ উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সিলেটে গোয়াইনঘাট, জকিগঞ্জ, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। বন্যা দেখা দিয়েছে বিশ্বনাথ, বিয়ানীবাজারে ও গোলাপগঞ্জে। তবে এই তিনটিতে ভয়াবহতা এখনো তীব্র হয়নি। এইসব উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জলমগ্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) বিকেল ৬টা পর্যন্ত সিলেটের নদ-নদীর পানি জেলার পাঁচটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
 


গত বুধবার বিকেল থেকে এসব উপজেলায় পানি বাড়তে শুরু করে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েন লাখো মানুষ। মধ্যরাতে অনেকের ঘরে হাটু পানি থেকে কারো ঘর গলা পানিতে ডুবেছে। অনেকের ঘর-বাড়ি তলিয়ে যায়। ভেসে যায় গবাদি পশু ও পুকুর-খামারের মাছ।



এদিকে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় নানা প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে গোয়াইনঘাট, জকিগঞ্জ, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ- এই ৫টি উপজেলায় মোট ২১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে গোয়াইনঘাটে ৫৬, জৈন্তাপুরে ৪৮, কানাইঘাটে ১৮, কোম্পানীগঞ্জে ৩৫ ও জকিগঞ্জে ৫৮টি। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে মঙ্গলবার বিকাল থেকে মানুষজন উঠতে শুরু করেছেন।
 



এছাড়া বন্যাকবলিত লোকজনের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ২০০ বস্তা করে মোট ১ হাজার বস্তা শুকনো খাবার, ১৫ মেট্রিক টন করে ৭৫ মেট্রিক টন চাল, ৫০ হাজার টাকা করে আড়াই লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে।



সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে হওয়া বৃষ্টির কারণে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। ভারতের বিভিন্ন রজ্যে ভারী বৃষ্টি ও সেখান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মূলত আকস্মিক বন্যা হয়।



পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেশ কয়েকটি পয়েন্টে নদীর পানি ইতিমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যে গত ২৪ ঘন্টায সাড়ে ৬শ মি.মি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে নদ নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।




সিলেটভিউ২৪ডটকম / নাজাত / ডি.আর