প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:১৩ (রবিবার)
ব্যতিক্রমী খন্দকার মুক্তাদির

ঘড়ির কাটা তখন দুপুর ১২টা। পুরো হল জুড়ে সুনসান নীরবতা।চলছে প্রশিক্ষণ কর্মশালা। এসময় হলে উপস্থিত হন একজন বিএনপি নেতা। সামনের সারিতে বসার জায়গা দেয়ার জন্য কয়েকজন চেয়ার ছেড়ে দিতে চাইলেন। ডানবাম না চেয়ে সোজা হলের ভেতর মধ্যম সারিতে খালি একটি চেয়ারে এসে বসে পড়লেন।

 

হলের নেতাকর্মীরা চেয়ে আছেন তাঁর দিকে। মঞ্ছ থেকে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হল। সামনের সারিতে যাওয়ার আহবান করলেন উপস্থাপক। তিনি সামনের সারিতে না গিয়ে এক ব্যতিক্রম দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। নজর কাড়লেন সবার।

 


তিনি হলেন-খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা। ২০১৮ সালে সিলেট-০১ আসনে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন।খন্দকার মুক্তাদির সিলেটে বেশ জনপ্রিয়। দলের নেতাকর্মীরা তাঁকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে ডাকেন। সপ্তাহে অন্ত্যত তিন দিন ঢাকা থেকে সিলেট এসে নির্বাচনী এলাকার মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। কথা বলছেন, গ্রাউন্ড লেবেল পর্যন্ত। দলের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ এবং দলের নেতাকর্মীদের কাছে।


খন্দকার মুক্তাদিরের প্রতিটি বক্তৃতায় শ্রুতিমধুর ও অর্থবহ কথা বলেন। দলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, তিনি (মুক্তাদির) দল ও দেশ নিয়ে যথেষ্ট স্টাডি করেন। যারজন্য সবসময় ব্যতিক্রমী দেখা যায় তাঁকে। যেমনটি দলের সিলেট বিভাগীয় প্রশিক্ষণ কর্মশালায় কাউকে ডিস্টার্ব না দিয়ে মধ্যখানে খালি একটি চেয়ারে বসে পড়লেন।

 


আজ মঙ্গলবার সিলেট শিল্পকলা একাডেমিতে ছিল বিএনপির সিলেট বিভাগীয় কর্মশালা।‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’ ও জনসম্পৃক্তি নিয়ে আয়োজিত এ কর্মশালায় সিলেট বিভাগের চার জেলা ও সিলেট মহানগর বিএনপি, যুবদল,স্বেচ্ছাসেবক দল,ছাত্রদল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ ৫ নেতাদের নিয়ে ছিল এই আয়োজন।সকাল ১০টায় শুরু হওয়া কর্মশালাটি শেষ হয় সন্ধ্যা সোয়া ৫টায়।

 


বিভাগীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।এসময় তিনি বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার লেজ রয়ে গেছে।ভারতে বসে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে,বিএনপি কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে,ক্ষতিগ্রস্ত হবে সমগ্র দেশ ও দেশের মানুষ। এছাড়া ৩১ দফা নিয়ে নেতাদের নানা প্রশ্নের উত্তরও দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

 


বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেনের পরিচালনায় কর্মশালায় প্রধান প্রশিক্ষক ছিলেন বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা.অধ্যাপক মওদুদ হোসেন পাভেল।মঞ্চে ছিলেন কেবল ঢাকা থেকে আগত  প্রশিক্ষক প্যানেল।আর সিলেট বিভাগীয় দুই সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও মিফতাহ্ সিদ্দিকী।

সামনের সারিতে বসা ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য তাহসিনা রুশদির লুনা, ড.এনামুল হক চৌধুরী,বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা.সাখাওয়াত হাসান জীবন,সহ সম্পাদক শাম্মী আক্তার ও আব্দুর রাজ্জাক, নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা.শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী,মিজানুর রহমান চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহবান ফজলুল হক ময়ুন, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী,মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নজিবুর রহমান নজিব।

 

ঢাকা থেকে একটি ফ্লাইটে সিলেটে এসে দুপুর ১২টায় কর্মশালায় যোগদেন খন্দকার মুক্তাদির। এসময় সামনের সারিতে তাকে বসার জন্য ডাকলেও তিনি হলের মধ্যখানের একটি চেয়ারে বসে পড়েন। এমনকি মধ্যাহ্ন বিরতির পরও তিনি জায়গা বদল করে সামনের সারিতে যাননি। এমন এই ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত দেখে মুক্তাদিরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ দলের নেতাকর্মীরা।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / জুনেদ