পাঁচ আগস্টের পর সিলেটের সীমান্তজুড়ে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) প্রতিদিনই সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা থেকে গড়ে কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ করছে। ধরা পড়ছে চোরাকারবারি ও সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যাতায়াতকারীরা।
প্রতি অভিযানে ভারত থেকে চোরাই পথে আসা কাপড়, প্রসাধনীসামগ্রী, গরু, মহিষ ও চিনিসহ নানা রকমের মালামাল ধরা পড়ছে। তবে সম্প্রতি বিজিবি’র অভিযানে জব্দ হওয়া ৩ ধরনের ডিভাইসে আটক গেছে সচেতন মহলের চোখ। দানা বাঁধছে নানা সন্দেহ, দেখা দিয়েছে একাধিক প্রশ্ন। এসব ডিভাইস কী উদ্দেশ্যে এবং কোন কাজে ব্যবহারের জন্য চোরাই পথে সিলেটে নিয়ে আসা হচ্ছে? মিলছে না এসব প্রশ্নের উত্তর।
এ বিষয়ে পুলিশেরও নেই কোনো তৎপরতা।
জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত ও মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দিনের বিভিন্ন সময় বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের বিভিন্ন বিওপি’র জোয়ানরা অভিযান চালিয়ে ভারত থেকে চোরাই পথে আসা কাপড়, প্রসাধনীসামগ্রী, গরু, মহিষ ও চিনিসহ নানা ধরনের প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার মালামাল জব্দ করেন। এসব মালের মধ্যে ছিলো ইন্টারনেট-প্রযুক্তির অত্যাধুনিক ৩ রকমের ডিভাইস। সেগুলো হচ্ছে- রিপিটার, ডুপ্লেক্স ও রেডিও সেট।
প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এই রকমের ডিভাইসগুলো উচ্চ গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট যোগাযোগব্যব্স্থা স্থাপন, ইন্টারনেটবিহীন এলাকায় সংযোগ ও কোনো এলাকায় ইন্টারনেট জ্যাম্যারসহ নানা কাজে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া অবৈধ কল সেন্টার এবং ফোন নাম্বার ক্লোনিংয়ের কাজেও ব্যবহার করা যায় ডিভাইসগুলো।
সীমান্তে এমন ডিভাইস বিজিবি’র হাতে ধরা পড়ার পর সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারা আনছে এসব ডিভাইস? কী উদ্দেশ্যে? সিলেটকে কি কোনো ‘টার্গেটে’ পরিণত করা হচ্ছে? ডিভাইসগুলো যদি সন্ত্রাসী বা অপরাধী গোষ্ঠীর হাতে পড়ে তখন কী হবে? উঠছে এসব প্রশ্ন।
বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান (পিএসসি) সিলেটভিউ-কে বলেন- ‘জব্দের পর আমরা জানতে পেরেছি- এসব ডিভাইস ইন্টারনেট-প্রযুক্তির নানা কাজে ব্যবহৃত হয়। ডিভাইসগুলো অত্যাধুনিক। আমরা পরবর্তীতে সেগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সিলেটভিউ-কে বলেন- ‘এসব ডিভাইস কারা নিয়ে আসছে, কী উদ্দেশ্যে আনছে- এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দায়িত্ব মূলত অন্য বাহিনীর। আমরা ডিভাইসগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পেয়েছি, সঙ্গে কাউকে আটক করতে পারিনি। পারলে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব বিষয় জানার সুযোগ ছিলো। বিষয়টি নিয়ে অন্য বাহিনীর তদন্ত করার সুযোগ রয়েছে।’
তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ বাহিনীর তেমন ‘মাথাব্যথা’ নেই। রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে নেই এ বিষয়ে কোনো তথ্য।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সিলেট রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মুশফেকুর রহমানের সরকারি মুঠোফোন নাম্বারে একাধিকবার কল দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ইন্টেলিজেন্স এন্ড ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. কামরুল ইসলাম সিলেটভিউ-কে বলেন- এ বিষয়ে কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় এ বিষয়ে বলতে পারবে সম্ভবত।
পরে সিলেট জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান সিলেটভিউ-কে বলেন- ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা আসলে তেমন কিছু জানি না। খবর নিয়ে দেখতে হবে।’
তিনি বলেন- ‘যেহেতু ডিভাইসগুলো সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে, সেহেতু এগুলো আর বেহাত হবে না। আশঙ্কারও কিছু নেই। তারপরও আমরা সতর্ক আছি।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডি. আর
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.