ভেনি, ভিডি, ভিসি। এলাম, দেখলাম, জয় করলাম! রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের মুখ নিঃসৃত এই বিখ্যাত তিন শব্দের সাথে হামজা দেওয়ান চৌধুরী চাইলে মিল খোঁজে পেতে পারেন। যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে তোলা হামজা এসেই জয় করে নিয়েছেন জনহৃদয়। হ্যাঁ, আক্ষরিক অর্থে মাঠের জয়টা পাওয়া হয়নি। কিন্তু তাকে নিয়ে জনমানসে যে প্রত্যাশা, সেই প্রত্যাশার ব্যারিয়ার কিন্তু ঠিকই পেরিয়ে গেছেন হামজা। এ দেশের ফুটবলে বহুদিন পর রীতিমতো যে ঝড় ওঠেছিল, সেই ঝড়ে হাওয়া যোগানোর কাজটা করেছেন এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ফুটবলার।
হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার স্নানঘাট গ্রামে হামজা দেওয়ান চৌধুরীর মায়ের বাড়ি। বহু বছর ধরে তার মা যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। মায়ের সূত্রেই বাংলাদেশের নাগরিক হামজা। ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা হামজার মূল দল লেস্টার সিটি। এই দলের হয়েই তিনি খেলেছেন দুনিয়ার শীর্ষস্থানীয় ফুটবল আসর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে। বর্তমানে ধারে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলছেন তিনি। বাংলাদেশের ফুটবলে হামজাই প্রথম, যিনি প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন। ইংল্যান্ড অনূধ্ব-২১ জাতীয় দলেও খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে তার।
গেল ১৭ মার্চ যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেন হামজা চৌধুরী। দুইদিন সিলেট ও হবিগঞ্জে কাটিয়ে ঢাকায় গিয়ে যোগ দেন দলের সাথে। এরপর এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে দলের সঙ্গে শিলংয়ে যান তিনি।
হামজার আগমনকে ঘিরে দেশের ফুটবলে মোটামুটি সুনামি বয়ে যায়। না, নেতিবাচক অর্থে নয়; বরঞ্চ এই সুনামি ছিল দেশের ফুটবলের ঘুম ভাঙার জন্য অত্যন্ত জরুরি। হামজার আগমনের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে আলোচনা উত্তুঙ্গে ওঠে। এই মিডফিল্ডারের নাড়িনক্ষত্র নিয়ে পোস্টের বন্যা বয়। যেদিন তিনি দেশে এলেন, রোজার সময় হলেও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফুটবলপ্রেমীদের ভিড় লেগে গেল। মিছিল হলো, স্লোগানও ছিল। সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের অগুনতি বুম-ক্যামেরা। সিলেট হয়ে হামজা গেলেন মাতৃভিটা হবিগঞ্জে। সেখানেও হাজারো জনতার স্রোত তার বাড়িতে। মঞ্চ তৈরি করে রীতিমতো সংবর্ধনাই দেওয়া হলো তাকে। ঢাকায় গিয়ে হামজা যখন জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিলেন, সব আলো কেড়ে নিলেন তিনি। তাকে ঘিরেই আবর্তিত হতে থাকলো দল, দলের পরিকল্পনা। তখনও মাঠে নামা বাকি হামজার, সেখানে তিনি কী করেন সেটা নিয়ে তুমুল আগ্রহ। বাংলাদেশ দল ভারতে যাওয়ার পর দেশটির কোচ, খেলোয়াড়েরা রীতিমতো সমীহ করলেন হামজাকে, প্রাপ্য সম্মানই দেখালেন। প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড় বাংলাদেশ দলে খেলা মানে শুধু এ দেশেরই ফুটবলই নয়, বরঞ্চ সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলই উপকৃত হবে বলে মন্তব্য করলেন ভারতের কোচ।
হামজাকে ঘিরে যে হাইপ ওঠেছিল, সেটার প্রতিদান ম্যাচে দারুণভাবে দিলেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে সেই ম্যাচের প্রথমার্ধে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে ডাবল পিভট হোল্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেললেন হামজা। দ্বিতীয়ার্ধে ৪-৪-২ ডায়মন্ড শেইপে খেললেন একমাত্র হোল্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে। হামজায় উজ্জীবিত বাংলাদেশ শুরু থেকেই ভারতের রক্ষণকে কাঁপাতে থাকে। সুযোগ আসতে থাকে একের পর এক। কিন্তু কখনো মজিবর রহমান জনি, কখনো শাহরিয়ার ইমন, কখনোবা মোহাম্মদ হৃদয়রা হেলায় নষ্ট করেন গোলের সুযোগ। ম্যাচের ২০ মিনিটের মধ্যেই চোটগ্রস্ত তপু বর্মণকে মাঠ ছাড়তে হয়। চাপ বাড়ে হামজার জন্য। তবে দায়িত্ব নিলেন তিনি। তরুণ ও অনভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শাকিল হাসান তপুকে আগলে রাখলেন যতনে। হোল্ডিং মিডফিল্ডার হয়েও রক্ষণকে বাঁচালেন ভারতের প্রেসিং ফুটবল থেকে। ভারতের সুপারস্টার সুনীল ছেত্রীর কাছে আসা পাসিং লাইনগুলো বন্ধ করলেন দক্ষতায়; দলটির এই প্রাণভোমরাকে একেবারে বোতলবন্দি করেই যেন রাখলেন পুরোটা সময়। দুই প্রান্ত থেকে আতঙ্ক ছড়ানো ক্রস ও কাটব্যাক ঠেকালেন ক্ষিপ্রতায়। ভারতের অ্যাক্রমণ দানা বাঁধার আগেই ইন্টারসেপশনে নস্যাৎ করলেন সেসব। ম্যাচের ২৬ মিনিটে ভারতের শুভাশীষ বোস যখন উন্মুক্ত বামপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে ছুটে বিপদ সংকেত দিচ্ছিলেন, তখন দৌড়ে গিয়ে তার কাছ থেকে বল কাড়েন হামজা। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের শেষ ৪ মিনিটে অন্তত দুবার বাংলাদেশের পোস্ট রক্ষা করেন তিনি। যোগ হওয়া সময়েও দুবার একই চিত্র দেখা গেছে। ম্যাচে হামজা কতোটা কার্যকরী ছিলেন, তার ‘আইকনিক’ দৃশ্য হতে পারে ৪৭ মিনিটে তার দুর্দান্ত ট্যাকল। মাঝমাঠের ওপর থেকে বল পেয়ে বাঁ উইং ধরে ক্ষিপ্র গতিতে ছুটছিলেন ভারতের লেফট উইঙ্গার লিস্টন কোলাচো। তাকে রুখতে চেয়েও পারেননি রহমত মিয়া। বাঁ উইং তখন ফাঁকা। বিপদ টের পেয়ে দেরি করেননি হামজা। প্রায় মাঝমাঠ থেকে গতির ঝড় তুলে দৌড়ে এসে লিস্টনকে ঠেকিয়ে দেন তিনি! এমনকি কোনো ফাউলও করেননি!
হামজার হাওয়ায় উদ্বেল বাংলাদেশ মাঠের খেলায় ছিল দারুণ। গোল যদিও পাওয়া হয়নি ম্যাচে, তথাপি খেলার মানের উন্নতি স্পষ্ট ছিল। মাঠের বাইরেও হামজার দুর্দান্ত প্রভাব লেগেছে বাংলাদেশের ফুটবলে। হামজার আগমনীকে সামনে রেখে প্রায় এক যুগ পর জাতীয় দলের স্পন্সর পায় বাংলাদেশ! একটি বেসরকারি ব্যাংক টানা পাঁচ বছরের জন্য স্পন্সর হিসেবে চুক্তি করেছে বাফুফের সাথে। শুধু টিম স্পন্সরই নয়, বাফুফে পেয়ে গেছে জার্সি স্পন্সরও! তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বাধীন বাফুফের ভূমিকা তো অবশ্যই ছিল, কিন্তু স্পন্সররা যে হামজার মতো বড় মাপের ফুটবলার যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে সেটা বলাই অনাবশ্যক।
মানুষের আগ্রহের কথাও বলা দরকার। অন্তত দুই দশক ধরে এ দেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ক্রিকেট। বাফুফের স্বেচ্ছাচারিতা, পরিকল্পনাহীনতা, জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে ভাটাসহ নানা কারণে ফুটবল আকর্ষণ হারায় এখানে। সেই ফুটবলে নতুন জোয়ার যেন এসেছে হামজাকে ঘিরে। তার আগমনের পূর্বাপার বিশ্লেষণ করলেই চিত্রটা স্পষ্ট পাওয়া যায়। বাংলাদেশে বড় পর্দায় হাজার হাজার মানুষ একসাথে খেলা দেখছে, গলা ফাটাচ্ছে, উৎসব লেগে গেছে—এমন প্রেক্ষাপট তো বিশ্বকাপ আর ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনার ম্যাচের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কিন্তু গেল ২৫ মার্চ না ছিল কোনো বিশ্বকাপ, না ছিল লাতিন ফুটবলের ডাক। তারপরও সেদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় পর্দায় ফুটবল ম্যাচ দেখেছে হাজার হাজার মানুষ, করেছে উল্লাস। আর ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের! কল্পলোকের গল্প যেন হামজার কারণে বাস্তব হয়ে ধরা দিল বাংলাদেশের ফুটবলে।
ফুটবলে ব্র্যান্ড ভ্যালু বেশ আলোচিত বিষয়। এক্ষেত্রে ফুটবলারদের ব্যক্তিগত ভ্যালু যেমন আছে, তেমনি দলীয় ভ্যালুও রয়েছে। হামজা চৌধুরী স্কোয়াডে যুক্ত হওয়ায় ব্র্যান্ড ভ্যালুতে বেশ বড়সড় লাফ দিয়েছে বাংলাদেশ। ফুটবলের দলবদল বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘ট্রান্সফারমার্কেট’-এর তথ্য অনুসারে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ৫.৮৮ মিলিয়ন ইউরো মূল্যমান নিয়ে ভারত ছিল সবচেয়ে দামি দল। কিন্তু হামজা চৌধুরী যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের মূল্যমান বেড়ে হয়েছে ৮.৫৯ মিলিয়ন ইউরো, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। হামজার একারই ব্র্যান্ড ভ্যালু ৪.০৯ মিলিয়ন ইউরো।
হামজার আগেও বাংলাদেশ দলে প্রবাসী ফুটবলাররা খেলেছেন। শুরুটা হয়েছিল ডেনমার্ক প্রবাসী জামাল ভূঁইয়াকে দিয়ে, ২০১৩ সালে। পরে তারিক কাজী যোগ দেন ফিনল্যান্ড থেকে এসে। তবে হামজার মতো আলোড়ন তাদের সময়ে ওঠেনি। তাদের পথ ধরে অন্য কোনো প্রবাসী ফুটবলার বাংলাদেশের হয়ে খেলতে আগ্রহ দেখাননি। কিন্তু হামজার দেখানো পথে আরো অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার, যারা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত, তারা খেলতে চাইছেন লাল-সবুজের জার্সি পরে। সম্প্রতি বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম জানিয়েছেন, ১২টি দেশের অন্তত ৩২ জন ফুটবলার বাংলাদেশের হয়ে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, পর্তুগাল, ইতালি, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে বসবাস করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এসব ফুটবলার। তাদের নিয়ে আগামী জুনে ঢাকায় ট্রায়াল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেখান থেকে উপযুক্ত ফুটবলার খোঁজে নেবে বাফুফে।
প্রবাসী ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম বড় নাম সামিত সোম। কানাডায় বাস করা এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার সময় নিয়ে ভেবেচিন্তে বাংলাদেশের হয়ে খেলার সম্মতি দিয়েছেন। আগামী জুনের ১০ তারিখে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ঢাকায় সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের আগে সামিতকে দলে পেতে চায় বাফুফে। সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। সামিত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ফুটবলার নন, তবে তিনিও প্রিমিয়ার লিগে খেলেন কানাডায়। সে লিগের কালাভরি এফসি ক্লাবের মিডফিল্ডার তিনি। কানাডার জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতাও আছে তার। ২০১৬ সালে কানাডা অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে ৭টি ও ২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে ৪টি ম্যাচ খেলেন সামিত। ২০২০ সালে কানাডার জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার, খেলেন দুটি ম্যাচ। এরপর অবশ্য দেশটির জাতীয় দলে ডাক পাননি সামিত সোম। তবে ২৭ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার বাংলাদেশের জন্য বড় অন্তর্ভূক্তি হতে পারেন। আরেকজন আছেন তালিকায়—কিউবা মিচেল। ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার ইংল্যান্ডের সান্দারল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলে খেলছেন। এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বেশ প্রতিভাবান বলে জানিয়েছেন বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি ইমরুল হাসান। কিউবা মিচেল বাংলাদেশ দলে খেলতে সম্মতি দিয়েছেন, তাকে অন্তর্ভূক্তির প্রক্রিয়া চলমান বলে জানিয়েছে বাফুফে। এছাড়া ইতালি প্রবাসী ফাহমিদুল ইসলামও আছেন পাইপলাইনে। জাতীয় দলের আগামীর ক্যাম্পে তাকে ডাকা হতে পারে, এমনটাই আভাস মিলেছে।
হামজা যোগ দেওয়ার পর দলের চিন্তাধারায়ও পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন ফুটবলবোদ্ধারা। একদিকে একাদশে জায়গা পেতে ভালো খেলার তাড়না, অন্যদিকে হার এড়ানোর মানসিকতায়ও বদল। জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও কোচ গোলাম সারোয়ার টিপু বলছিলেন, ‘কিছুদিন আগেও আমরা ভাবতাম, কিভাবে হার এড়ানো যায়। কিন্তু হামজা আসার পর সেই চিন্তাধারা বদলে গেছে। হামজার কাছাকাছি মানের আরও কয়েকজন এলে সেটা আমাদের ফুটবলের জন্য দারুণ হবে। সব ম্যাচই আমরা তখন জয়ের জন্য খেলতে নামব।’ হামজার পথ ধরে সামিত সোম, কিউবা মিচেলরা যুক্ত হলে দলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে বলে মনে করছেন গোলাম সারোয়ার টিপু, ‘এখন তো অনেকেই নিজেকে দলে অটোমেটিক চয়েস ভেবে থাকেন। প্রবাসীরা এলে এটা আর ভাবার সুযোগ থাকবে না। তখন একাদশে সুযোগ পাওয়া নিয়ে নিজেদের মধ্যে লড়াই হবে। স্থানীয়রা অনুশীলনে তখন পরিশ্রম বাড়িয়ে দেবে এবং দলে ঢুকতে সেরা নৈপুণ্য দেখাতে চাইবে।’
হামজার হাওয়া বাংলাদেশের ফুটবলে যে ইতিবাচক চিন্তা, পরিবর্তন নিয়ে এসেছে, সেটা স্পষ্ট। এই ইতিবাচকতাকে এগিয়ে নিতে, সাফল্য পেতে বাফুফেকে হতে হবে যত্নশীল, সুপরিকল্পনার বাহক। বাফুফে যতো দক্ষতার সাথে কাজ করবে, ফুটবল ততোই এগোনোর পথ পাবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.