প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২৫ ১৯:১০ (বৃহস্পতিবার)
গোয়াইনঘাটে জনতা ব্যাংকের শাখা স্থাপনের দাবি নিয়ে কিছু কথা

সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাট একটি জনবহুল, সম্পদসমৃদ্ধ ও অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় অঞ্চল। পাহাড়, নদী, বালু, পাথর, কৃষিজ পণ্য—সবকিছুর সমন্বয়ে এখানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক লেনদেন হয়ে থাকে। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার মানুষ রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক পিএলসি-এর সেবা থেকে বঞ্চিত।


উপজেলা সদরে আজও জনতা ব্যাংকের কোনো শাখা নেই। ফলে শিক্ষক, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে ব্যাংকিং সেবার জন্য সিলেট শহরে যেতে হয়। এতে সময়, অর্থ ও শ্রমের অপ্রয়োজনীয় অপচয় ঘটে, যা নাগরিক জীবনে এক বড় ভোগান্তি তৈরি করেছে।
 

এমপিওভুক্ত  শিক্ষকদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি:
বর্তমানে দেশের সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। এর মধ্যে সিলেট জেলার অধিকাংশ উপজেলা জনতা ব্যাংক পিএলসি-এর আওতায় রয়েছে। কিন্তু গোয়াইনঘাটে শাখা না থাকায় এখানকার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন তুলতে সিলেট শহরে যেতে হয়।

ফলে তাদের কর্মদিবসে পূর্ণদিবস কিংবা অর্ধদিবস ছুটি নিতে হয়—যার প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রমে। পাঠদানে বিঘ্ন ঘটে এবং শিক্ষা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
 

ব্যাংক সেবার ব্যাপক প্রয়োজন:
গোয়াইনঘাট উপজেলায় রয়েছে ১৩টি ইউনিয়ন, শতাধিক সরকারি, এমপিওভুক্ত ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস, বিপুলসংখ্যক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় বাজার। প্রতিদিনের এই আর্থিক লেনদেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও অবসরভাতা, সরকারি ভাতা, কৃষিঋণসহ নানা ক্ষেত্রে ব্যাংক সেবার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেশি।

বর্তমান রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো পর্যাপ্ত সেবা দিতে পারছে না। এর ফলে সাধারণ মানুষকে নানা ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। উপরন্তু, প্রচুর আর্থিক লেনদেন নগদে সম্পন্ন হওয়ায় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বাড়ছে।
 

জনতা ব্যাংক শাখা স্থাপন সময়ের দাবি:
এই প্রেক্ষাপটে গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরে জনতা ব্যাংক পিএলসি-এর একটি পূর্ণাঙ্গ শাখা স্থাপন সময়ের অনিবার্য দাবি হয়ে উঠেছে।
 

একটি শাখা স্থাপিত হলে:
সাধারণ মানুষ সহজেই ব্যাংকিং সেবা পাবে।ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা ঋণসহ আর্থিক সহায়তা পাবে। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা উত্তোলন সহজ হবে এবং গোয়াইনঘাট অঞ্চলের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।


স্থানীয়দের একান্ত প্রত্যাশা:
গোয়াইনঘাটের সর্বস্তরের জনগণ বহুদিন ধরেই এই দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা আশা করেন, ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সদয় বিবেচনায় নিয়ে শীঘ্রই গোয়াইনঘাট উপজেলা সদর এলাকায় জনতা ব্যাংক পিএলসি-এর একটি শাখা স্থাপন করবেন। এটি কেবল একটি ব্যাংক স্থাপন নয়, বরং গোয়াইনঘাটবাসীর অর্থনৈতিক মুক্তির একটি নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।
 


লেখক: মো. রুহুল আমিন, শিক্ষক, সমাজকর্মী ও কলামিস্ট।