COPD একটি শ্বাসকষ্ট জনিত রোগ যা বিশ্বব্যাপী অসুস্থতা এবং মৃত্যুর একটি প্রধান কারণ | বহু লোক এই রোগে ভুগে এবং কম বয়সে এই রোগ অথবা এ রোগের জটিলতায় মৃত্যুবরণ করে | বর্তমানে COPD বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম চতুর্থ কারণ | বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আগামী ২০২০ সাল নাগাদ সি ও পি ডি বিশ্বব্যাপী রোগের বিস্তৃতি হিসেবে পঞ্চম এবং মৃত্যুর কারণ হিসেবে তৃতীয় স্থান দখল করবে।
সিওপিডি রোগ আমাদের দেশে একটি অন্যতম স্বাস্থ্য সমস্যা | বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং রোগী উভয়ের জন্য একটা চ্যালেঞ্জিং বিষয় এবং কখনো হতাশা জনক ও বটে | কারণ বেশিরভাগ রোগী প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন না এবং রোগের সাময়িক উপশমের পর চিকিৎসকের উপদেশ মেনে চলেন না |
সিওপিডি হল ফুসফুসের এমন একটি রোগ যেখানে শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধাগ্রস্ত হয় | ফলে রোগী শ্বাসকষ্টে ভুগে | এই শ্বাসকষ্ট দিন দিন বৃদ্ধি পায়, যা আর কখনো সম্পূর্ণভাবে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে না |
কাদের COPD বেশি হয়
সিওপিডি রোগের জানা কারণ গুলোর মধ্যে ধূমপান হচ্ছে প্রধানতম | সাধারণত যে যত দীর্ঘ সময় ধূমপান করবে তার COPD হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি |
কর্মক্ষেত্রে জৈব এবং অজৈব ধূলিকণা বেশি হলে |
রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে যারা কাঠ, শুকনো লাকড়ি ব্যবহার করেন |
বায়ু দূষণ বেশি হলে |
ফুসফুসের সংক্রমণ হলে যেমন ঘন ঘন ভাইরাস সংক্রমণ |
যাদের আর্থসামাজিক অবস্থা নিম্ন এবং যারা অপুষ্টিতে ভুগছে | সাধারণত নারীদের তুলনায় পুরুষরাই বেশি সিওপিডিতে আক্রান্ত হয় |
তা ছাড়া জন্মগতভাবে ফুসফুস ঠিকমতো গড়ে না উঠলে এবং আলফা ওয়ান এন্ট্রি ট্রিপসিন নামক এনজাইমের ঘাটতি হলেও সি ও পি ডি রোগ হতে পারে |
সিওপিডি রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ
শ্বাসকষ্ট ও কাশি সি ও পি ডি রোগের প্রধান লক্ষণ | শ্বাসকষ্ট সাধারণত কমবেশি সার্বক্ষণিক বিদ্যমান থাকে এবং চলাফেরায় বৃদ্ধি পায় | সঠিক চিকিৎসা না নিলে শ্বাসকষ্ট দিন দিন বাড়তে থাকে |
কাশির সাথে কফ থাকতে পারে এবং কোন কোন সময় শ্বাসকষ্ট, কাশি এবং কফের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে | বেশিরভাগ রুগীর ক্ষেত্রে ধূমপানের বেশির ক্ষেত্রে ইতিহাস থাকে |
চিকিৎসা Treatment
সাধারণত বেশিরভাগ সিওপিডি রুগী প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসকের কাছে আসেন না | তাই কার্যকর চিকিৎসার জন্য দরকার
রোগের তীব্রতা নির্ণয় এবং পর্যবেক্ষণ |
রোগের কারণসমূহ নির্ণয় এবং সম্ভব হলে কারণ সমুহ দূর করা |
সিওপিডি রোগের সঠিক ঔষধ ব্যবহার এবং রোগীদের সঠিক পুনবাসন COPDরোগ সম্পূর্ণ নিরাময় যোগ্য নয় | কিন্তু সঠিক চিকিৎসায় রোগের লক্ষণ যেমন: শ্বাসকষ্ট ও কাশি ইত্যাদি অনেক কমে যায়, রোগীর কার্যক্রমতা বৃদ্ধি পায়, রোগীর রোগ বৃদ্ধি এবং জটিলতা হ্রাস পায় |
COPD রোগীর চিকিৎসা সাধারণত ওষুধ দ্বারা এবং বিভিন্ন রকম পূর্ণবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা হয় | রোগের তীব্রতা অনুযায়ী ঔষধ প্রয়োগ করা হয় | সাধারণত শ্বাসকষ্ট কমানোর জন্য বিভিন্ন রকম ইনহেলার ব্যবহার করা হয় | যেমন সালবিউটামল, ইপ্রাট্রপিয়াম, কটি কু স্টেরয়েড ইত্যাদি | জীবাণু সংক্রমণ ঘটলে এন্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে |
রোগের তীব্রতা বেশি হলে রোগীকে অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন হয় | এছাড়া রোগীকে ইনফ্লুয়েঞ্জ এবং নিউমোনিয়া রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হলে ঘন ঘন রোগ বৃদ্ধি এবং জটিলতা অনেকাংশ কমে যায় |
সিওপিডি রোগ যেহেতু দীর্ঘ মেয়াদি এবং সম্পূর্ণ নিরাময় যোগ্য নয়, তাই সিওপিডি রোগীদের সামাজিক স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য পূর্ণবাসন প্রক্রিয়া চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ | এই প্রক্রিয়ার প্রথম পর্যায়ে হল রোগীকে তার রোগ, রোগের কারণ এবং তার পরিণতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়া | রোগবৃদ্ধির কোন সমূহ অবহিত করা এবং কখন চিকিৎসকের সাথে সাক্ষাৎ করবেন সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া | ধুমপায়িদের ক্ষেত্রে ধূমপান বর্জনের সাহায্য করা পূর্ণবাসন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ |
পরবর্তী পর্যায়ে বিভিন্ন রকম ব্যায়াম, যেমন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত হাটা , শ্বাস-প্রশ্বাসে বিভিন্ন ব্যায়ামের মাধ্যমে রোগীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করা | ব্যায়ামের সাথে সাথে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ জরুরি | কারণ COPD রোগীরা সাধারণত অপুষ্টিতে ভুগে এবং তাদের বিএমআই রোগ কম থাকে |
COPDরোগীদের নির্দিষ্ট সময় অন্তর চিকিৎসকের কাছে ফলোআপ করা প্রয়োজন | এতে রোগীর শারীরিক উন্নতি বা অবনতি দ্রুত সনাক্ত করা যাবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হয় |
লেখক: মনজুরুল মাআবুদ, এম পি এইচ (হেলথ এন্ড নিউট্রেশন ), এসএমসি ব্লু স্টার স্বাস্থ্য সেবা দানকারী।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.