প্রকাশিত: ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০০:০০ (শুক্রবার)
সিলেটে চোরাই ফোন ব্যবসার ‘এপার ওপার’ নেটওয়ার্ক

বাংলাদেশ থেকে চুরি হওয়া ফোন সীমান্ত পেরিয়ে চলে যায় ভারতে। আর ভারতের ফোন আসে বাংলাদেশে। আইএমআই নাম্বার পরিবর্তন করে সেই ফোন বিক্রির জন্য যায় বাজারে। আইএমআই নাম্বার পরিবর্তনের জন্য রয়েছে শক্তিশালী চক্র। বাসা-বাড়িতে বসে এরা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পরিবর্তন করে মোবাইল ফোনের আইএমআই। লন্ডন থেকেও সিলেটে আসছে চোরাই আইফোন। 

সিলেটে চোরাই মোবাইল ফোন ব্যবসায়ের এমন আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা তৎপরতার পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওই চক্রের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট থেকে যেসব মোবাইল ফোন চুরি ও ছিনতাই হয় সেগুলো হাত বদলে চলে যায় আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের কাছে। ওই চক্র দামি ফোনগুলো পাঠিয়ে দেয় ভারতে। সিলেট সীমান্তের ওপারে ভারতের শিলং নিয়ে সেগুলো বিক্রি করা হয়। একইভাবে ভারত থেকে চোরাই ফোন নিয়ে আসে চক্রের এ দেশিয় সদস্যরা। পরে সেগুলোর আইএমআই নাম্বার পরিবর্তন করে সিলেটে বিক্রি করা হয়।


 
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চোরাচালান চক্রটি দামি ফোন পাচারের আগে আইএমআই নাম্বার পরিবর্তন করে। পার্টস খুলে বিক্রি করা হয় অপেক্ষাকৃত কম দামি ও পুরনো ফোনগুলো। আইএমআই নাম্বার পরিবর্তন ও পার্টস আলাদা করার জন্য চক্রটির নিজস্ব দক্ষ কারিগর রয়েছে। বাসা-বাড়িতে বসে ওই চক্রের সদস্যরা এ কাজ করে থাকে। ভারত থেকে আনা বা দেশের অভ্যন্তরের যেসব দামি ফোনের আইএমআই নাম্বার পরিবর্তন করা হয় সেগুলোর বেশিরভাগই চলে যায় সিলেট নগরীর ফোনের মার্কেট হিসেবে পরিচিত বন্দরবাজারের করিমউল্লাহ ও সিটি হার্টে।

মোবাইল ফোন চোরাচালানে জড়িত আন্তর্জাতিক চক্রটিকে ধরতে দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে আসছিল সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৮ ডিসেম্বর গোয়েন্দা পুলিশ দক্ষিণ সুরমার মোমিনখলার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে সুজ্জাত নামের এক যুবককে আটক করে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৩৮টি চোরাই ফোন। 

একই দিন পার্শ্ববর্তী শিববাড়ি জৈনপুর এলাকার একটি বাসা থেকে ২৬টি চোরাই ফোনসহ আবদুস শহিদ ও আকরাম আলী নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে দীর্ঘদিন ধরে তারা চোরাই ফোনের আইএমআই নাম্বার পরিবর্তনের কাজের সাথে জড়িত। আটককৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নগরীর বন্দরবাজারস্থ করিমউল্লাহ মার্কেটের ৩য় তলার ‘স্মার্টফোন গ্যালারি’ ও সিটিহার্ট শপিং সেন্টারের ২য় তলার ‘তোহা টেলিকমে’ অভিযান চালানো হয়। 

অভিযান চালিয়ে তোহা টেলিকম থেকে ২০৪টি ও স্মার্টফোন গ্যালারি থেকে ১৫৪টি চোরাই ফোন উদ্ধার করা হয়। এসব ফোনের বেশিরভাগেরই আইএমআই নাম্বার পরিবর্তন করা। উদ্ধারকৃত ৪২২টি ফোনের মধ্যে অধিকাংশই ভারত থেকে চোরাই পথে আনা হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এসএমপির মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, চোরাই ফোন ক্রয়-বিক্রয়ে সিলেটে আন্তর্জাতিক চক্র সক্রিয় রয়েছে। ৪২২টি চোরাই ফোনসহ ওই চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। সীমান্তের উভয় পাড়ে এই চক্রের সদস্য রয়েছে। ওই চক্রের অন্য সদস্যদের সনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ