প্রকাশিত: ০৫ জানুয়ারী, ২০২৬ ০০:০০ (শুক্রবার)
সিলেটে ভোটের মাঠে লড়বেন তাঁরা

ছবি: সিলেটভিউ গ্রাফিক্স।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র। ছয়টি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন দাখিল ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে এখন প্রায় চূড়ান্ত- কারা থাকছেন ভোটের মাঠে। নানা নাটকীয়তা, স্থগিতাদেশ ও বাতিলের মধ্য দিয়ে এগিয়ে আসা বৈধ প্রার্থীদের নিয়েই জমে উঠতে যাচ্ছে সিলেটের নির্বাচনী লড়াই। ইতোমধ্যে সিলেট অঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে নির্বাচনী হাওয়া। নির্বাচনে এই ছয়টি সংসদীয় আসনে আটজন প্রার্থীর বাতিল হওয়া মনোনয়ন আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

 

সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর সিলেটের ছয়টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে অর্ধশতাধিক মনোনয়নপত্র বিক্রি হলেও শেষ পর্যন্ত জমা পড়ে ৪৭টি মনোনয়নপত্র। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করা এসব মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রথম দিনে ৩৫টি মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। পরদিন স্থগিত থাকা আরও পাঁচটি মনোনয়নের মধ্যে চারটিকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ফলে দুই দিনে মোট ৩৯টি মনোনয়ন বৈধতা পায়। যাচাই-বাছাইয়ের পুরো প্রক্রিয়া শেষে মোট আটজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

 

নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, বাতিল হওয়া প্রার্থীদের জন্য আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে আপিল নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় আরও দুই-একজন যুক্ত হতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনের যাচাই-বাছাই শেষে ৩৯টি মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং আটজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা আগামী ২২ জানুয়ারির পর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

 

মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ। দলীয় সমর্থন, জোট রাজনীতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের শক্ত অবস্থান-সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন সিলেটে হতে যাচ্ছে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

 

এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে রবিবার একদিনের ব্যক্তিগত সফরে সিলেটে আসেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সফরের শুরুতে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে সন্ধ্যায় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে; তবে তা সর্বদলীয় সরকার হবে না। দুই-এক দিনের মধ্যেই তারেক রহমানকে দলের চেয়ারপারসনের পদে অধিষ্ঠিত করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে রাজকীয়ভাবে প্রস্থান করেছেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের যে স্বপ্ন তিনি দেখতেন, আগামী দিনে সেই বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’

 

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

 

সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের পুরো প্রক্রিয়া আইন ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তাদের জন্য আপিলের সুযোগ রয়েছে। আমরা চাই, সিলেটে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।’

 

যদিও যাচাই-বাছাই শেষে ঘোষিত প্রার্থীদের সংখ্যা কমার সম্ভাবনা নেই, তবে বাতিল হওয়া মনোনয়নগুলোর বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত তালিকায় আরও দুই-একজন প্রার্থী যুক্ত হতে পারেন। আপিল প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হলে সিলেটের ছয়টি আসনে কারা কারা ভোটের মাঠে থাকছেন তা পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে যাবে। এরপরই শুরু হবে জোরালো প্রচার-প্রচারণা, যেখানে ভোটারদের মন জয় করার লড়াইয়ে নামবেন প্রার্থীরা।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া