প্রকাশিত: ০৮ জানুয়ারী, ২০২৬ ০০:০০ (বুধবার)
সিলেট-১ আসন যার ‘সরকার তার’

সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকা ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-১ নির্বাচনি এলাকাকে বলা হয় মর্যাদার আসন। ভোটের রাজনীতিতে প্রচলিত একটি মিথও আছে। বলা হয়, ‘সিলেট-১ আসন যার- সরকার তার’। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সব কটি জাতীয় নির্বাচনে এই মিথ একবারের জন্যও মিথ্যে হয়নি। মর্যাদার এই আসনে যে দল বিজয়ী হয় সেই দলই সরকার গঠন করে আসছে। সেই ধাাবাহিকতা এখনও চলমান রয়েছে।


অর্থাৎ সিলেট-১ আসনটি যার সরকারও তার। হযরত শাহজালাল (রহ:) ও হযরত শাহপরাণ (রহ:)সহ ৩৬০ আউলিয়ার স্মৃতি বিজড়িত পূণ্যভূমির এই আসনটি সব দলেরই কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মূলত এটা মাথায় রেখে মাজার জিয়ারত এবং জনসভার মধ্যে দিয়ে সিলেট থেকেই শুরু হয় সব দলের নির্বাচনি প্রচারণা। সরকার গঠন করার বিষয়টি মাথায় রেখে মর্যাদাপূর্ণ এ আসনে শক্তিশালী প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ১৯টি আসনের মধ্যে বিএনপির হয়ে খন্দকার আব্দুল মালিক শুধু সিলেট-১ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন। এরপরও বিএনপিই সরকার গঠন করে।


সূত্র জানায়, ১৯৭৩ সাল থেকে মিথ প্রচলিত হলে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার সূত্রপাত হয় আশির দশকে জাতীয় নির্বাচন থেকে। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে সিলেট অঞ্চলের ১৯টি আসনের মধ্যে শুধু সিলেট-১ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মালিক। বিএনপিই সরকার গঠন করে। এরপর স্পিকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান, দুই মেয়াদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত নির্বাচন করে বিজয়ী হন। সরকার গঠন করে যথাক্রমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ২০১৮ সালে এ আসনে নির্বাচন করে বিজয়ী হন মুহিতের ছোট ভাই ড. এ কে আব্দুল মোমেন। আওয়ামী লীগ তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করলে মোমেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সিলেট-১ আসনে একতরফা নির্বাচনে এ কে আব্দুল মোমেন জয়ী হন। তখনো আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে আছে বিএনপি-জামায়াত। সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দলটির বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদে আছেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী দল জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।


এছাড়া সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচন করছেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আনোয়ার হোসেন,বাসদের প্রণ জ্যোতি পাল, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের শামীম মিয়া, গণ অধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান, খেলাফত মজলিসের তাজুল ইসলাম হাসান, বাংলাদেশ সামাজতান্ত্রিক দলের সঞ্জয় কান্তি দাস। এছাড়া সিলেট-১ আসনে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতায় মনোনয়ন স্থগিত হয়েছে এনসিপির এহতেশামুল হকের। হলফনামা অনুযায়ী এহতেশাম যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছিলেন। ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেন।


জানা যায়, সিলেট-১ আসনই শুধু নয়, কালের সাক্ষী হয়ে আছে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ‘আলিয়া মাদ্রাসা’ মাঠও। এ মাঠেই জনসভা করে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ২১ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপরই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। আর বিএনপির এই আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করবে সিলেট থেকে।


এদিকে, আগামী ২২ জানুয়ারি দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট সফরে আসবেন। ওইদিন তিনি হযরত শাহাজলাল ও হযরত শাহপরাণ (র.) এর মাজার জিয়ারত করবেন এবং পরে সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন। সেসময় পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে বিএনপির সকল প্রার্থীদের। প্রয়াত এমপি খন্দকার মালিকের উত্তরসূরি তার ছেলে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি ২০১৮ সালে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন। মিথে ভর করে বলা যায়, সেবার তিনি জিততে পারেননি বলে তার দল ক্ষমতায় যেতে পারেনি। এবার মিথ রক্ষা ও বাবার আসন পুনরুদ্ধারের চেষ্টা একীভূত হয়েছে মুক্তাদিরের।



সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিটি/এসডি-২৯