প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬ ০০:০০ (শুক্রবার)
অভিযান নেই! নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সিলেট

ছবি: সিলেটভিউ গ্রাফিক্স।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচন্ড ব্যস্ত সিলেটের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতি, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও বিভিন্ন বাহিনীর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলায় নগরজুড়ে বিভিন্ন অভিযান কার্যত বন্ধই হয়ে গেছে। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নগর ব্যবস্থাপনায়। আবারও দখল হয়ে যাচ্ছে ফুটপাত, বেড়ে যাচ্ছে অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম্য, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সিলেট মহানগরবাসী।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেটজুড়ে এতদিন যেসব অভিযান চলছিল তা এখন অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে। সিলেটে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হয়েছিল ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, অবৈধ যানবাহন উচ্ছেদ এবং নগরীর ভেতরে অবৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও লেগুনা স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান।

 

তবে আসন্ন নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ এবং বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ব্যস্ততা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এসব কারণে গত কয়েকদিন ধরে নগরীতে পরিচালিত এসব অভিযানে ভাটা পড়েছে।

 

অন্যদিকে সিলেট মহানগর পুলিশ নগরীর দোকান-পাটগুলোর ক্ষেত্রে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। যেখানে বলা হয়েছিল- রাত সাড়ে ৯টার পরে হাসপাতাল, ফার্মেসী ও রেষ্টুরেন্ট ছাড়া অন্যসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। কিছুদিন বেশ জোরালো তদারকি বা অভিযান চললেও ইদানিং এসব ক্ষেত্রেও প্রশাসন অনেকটাই শিথিল। গত কয়েকদিনেতো সেরকম কোনো খবরই পাওয়া যায়নি।

 

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আপাতত সকল ধরনের অভিযান অঘোষিতভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অধিকাংশই বর্তমানে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। ফলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত জনবল ও সময় পাওয়া যাচ্ছে না।

 

এদিকে সরজমিনে দেখা যায়, সিলেট মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান জিন্দাবাজার, বন্দর বাজার, চৌহাট্টা, আম্বরখানা, রিকাবী বাজার, ওসমানী মেডিকেল রোড, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, উপশহরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান বন্ধ থাকায় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাতে ফের দখলদারিত্ব বাড়ছে। মহানগরীর তালিকাভূক্ত ৩০টি বৈধ স্ট্যান্ড ছাড়াও নতুন করে কোথাও কোথাও অবৈধ স্ট্যান্ড বসিয়ে যানবাহন দাঁড় করানো হচ্ছে। যা সৃষ্টি করছে দীর্ঘ যানজটের। এতে পথচারী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি মিডিয়া (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযান চলমান রয়েছে। তবে কার্যত কিছু কারণবশত অনেক সময় আমাদের অভিযান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রোগ্রাম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বাচনী বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের কারণে অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আমাদের সদস্যদের অনেক সময় প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হয়। সে কারণে নিয়মিত অভিযান কিছুটা সীমিত রাখা হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া