সংগৃহিত
ভোটার কর্মী ও সমর্থকরা তাই বলছেন। বলছেন, তারা অনেকটাই নির্ভার। ধানের শীষের এই ৪ প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে বলেও মনে করছেন না অনেকে। আর এই ৪ প্রার্থী হলেন সিলেট-১ আসনের খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, সিলেট-২ আসনের তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেট-৩ আসনের এমএ মালিক ও সিলেট-৪ আসনের আরিফুল হক চৌধুরী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকী আর মাত্র ১১দিন। এরপরই শুরু হবে ভোটের লড়াই। তবে এ লড়াইকে অনেকেই একটা অসম প্রতিযোগীতা বলে মনে করছেন।
এই যেমন ধরুন সিলেট-১ (নগর-সদর) আসনের কথা। এ আসনে কোনোকালেই জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ভালো করতে পারেন নি। এবার দলটি থেকে প্রতদ্বিন্দ্বীতা করছেন মাওলনা হাবিবুর রহমান। ব্যক্তি ইমেজ যেমন হউক না কেন দল হিসাবে এবারও যে এ আসনে ভালো করতে পারবে জামায়াত, তেমন কোনো লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয় সাধারণ মানুষের মধ্যে। তারা ধরেই নিচ্ছেন, ৬ লাখ ৭৪ হাজার ১৭১ জন ভোটারের এই আসনে ধানের শীষ এগিয়ে যোজন যোজন। মানে, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর অনেকটাই নির্ভার।
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমনাীনগর) আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী দেয়নি। তবে তাদের জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী। স্থানীয় ভোটাররা মনে করছেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী আর বিএনপির দলীয় জনপ্রিয়তার সঙ্গে তুলনা করলে এ আসনেও আসলে তেমন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীতা হওয়ার কথা নয়। মানে, লুনা ও তার কর্মী সমর্থকরা অনেকটাই নির্ভার বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৯জন।
সিলেট- ৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) আসনের আবস্থাও তাই। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জোট রাজনীতির বলি হতে হয়েছে তাকে। জামায়াত সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দীন রাজুকে। তিনি আল্লামা গহরপুরী (র.) এর সন্তান হিসাবে তার একটা ভোট ব্যাংক আছে, সেটা সবাই স্বীকার করছেন। তবে সেটা বিএনপি প্রার্থী এমএ মালিকের জন্য চ্যালেঞ্জর পর্যায়ে যে নেই, সে কথাও বলছেন তারা। মানে, ৪ লাখ ২৯ হাজার ৭৭৪ ভোটারের এ আসনে এমএ মালিকও নির্ভার।
অনেক ভোটারই বলছেন, মালিকের জন্য শক্ত চ্যালেঞ্জ হতে পারতেন মাওলানা লোকমান আহমদ।
সিলেট-৪ ( গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ-জৈন্তাপুর) আসনেও নির্ভার বিএনপি প্রার্থী। এ আসনে ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন আরিফুল হক চৌধুরী। আর জামায়াতের প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন। শুরুর দিকে বিএনপির প্রার্থী বিষয়ক জটিলতা দেখে সবাই ধরে নিয়েছিলেন সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী হয়ত শক্ত চ্যালেঞ্জে পড়তে যাচ্ছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপির গৃহবিবাদ এখন আর নাই। ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ সবাই। এ অবস্থায় জামায়াতের জয়নাল আবেদীন খুব একটা ম্যাজিক দেখাতে পারবেন বলে মনে করছেন না কেউ-ই। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ২ হাজার ৬৫২ জন।
তবে এসব সাধারণ মানুষের মন্তব্য এবং চিন্তা-ভাবনা। আর তাই মুক্তাদীর-লুনা-মালিক বা আরিফ, কেউ কিন্তু নিজেদের নির্ভার মনে করছেন না। তারা নির্বাচনী ময়দান চষে বেড়াচ্ছেন দিনরাত। জামায়াতের মহিলা কর্মীদের প্রচারণার কথা মাথায় রেখেই তারা কাজ করছেন। অনেকের গিন্নিরাও মাঠে নেমেছেন। স্বামীদের জয় বলে কথা!
এদিকে সিলেট-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদ বা চাকসু মামুন, বিএনপি সমর্থিত জমিয়ত প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল হক ও জামায়াত সমর্থিত মাওলানা আবুল হাসনাতের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে বলেও শক্ত ধারনা স্থানীয় ভোটারদের।
তবে সিলেট-৬ আসনে জামায়াতের সেলিম উদ্দিন আর বিএনপির অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইকে
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.