প্রকাশিত: ১০ মার্চ, ২০২৬ ১৬:০৪ (রবিবার)
ঈদের যাত্রাপথে বমি প্রতিরোধে করণীয়

অনেকেই আছেন গাড়িতে চড়ার সময় কাছে বা দূরের যাত্রাপথে মাথা ঘুরায় | একই সঙ্গে বমি বমি ভাব চলে আসে অথবা কারোর বমি হয়ে যায় | এটাকে মেডিকেলের ভাষায় বলা হয় ‘মোশন সিকনেস’ | এ সমস্যা থেকে চাইলেই সুস্থ থাকা সম্ভব।


অনেকেই অবহেলা করেন অথবা সঠিক পরামর্শ পান না | যার ফলে দীর্ঘদিন এ রকম সমস্যা নিয়েই যাতায়াত করেন | আবার কেউ কেউ দূরের যাত্রাকে ভয় পান | 

 কিছু বিষয় খেয়াল করলে এবং কিছু নিয়ম মেনে চললে এ সমস্যা খুব সহজে এড়িয়ে চলা যায় | ভ্রমণকালে অনেকেরই মাথা ঘোরা ও বমিভাব হয়ে থাকে | গতি ও জড়তার ফলে মস্তিষ্কে সমন্বয়হীনতার বাহনগুলোতে বমির সমস্যা হতে পারে | অন্তঃকর্ণ আমাদের শরীরের গতি ও জড়তার ভারসাম্য রক্ষা করে |


যখন কেউ কোনো যানবাহনে চলাফেরা করেন তখন অন্তঃকর্ণ মস্তিষ্কে খবর পাঠায় যে সে গতিশীল | তবে চোখ বলে ভিন্ন কথা | কারণ তার সামনের বা পাশের মানুষগুলো কিংবা গাড়ির সিটগুলো থাকে স্থির | আমাদের চোখ আর অন্তঃকর্ণের এই সমন্বয়হীনতার কারণে মোশন সিকনেস হয় | এছাড়াও অ্যাসিডিটি, অসুস্থতা, গাড়ির ধোঁয়া কিংবা বাজে গন্ধের কারণেও গাড়িতে বমি বমি  ভাব বা বমি  হতে পারে |

বমি বা মোশন সিকনেস প্রতিরোধে করণীয়


  # গাড়ি যেদিকে চলে তার উল্টো দিকের সিটে না বসা | কারণ উল্টো দিকে বসলে বমিভাব বেশি হয়ে থাকে |

# গাড়ির সামনের দিকে বসার চেষ্টা করা | কারণ পেছনে বসলে গাড়িকে বেশি গতিশীল মনে হয় | যার ফলে দ্রুত ভারসাম্য নষ্ট হয় ও মোশন সিকনেস দেখা যায় |

 # জানালার পাশে বসার চেষ্টা করা এবং জানালা যেন খোলা থাকে | এসি পরিবহন হলে এ ক্ষেত্রে অবশ্য কিছু করার নেই | আর জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকার চেষ্টা করা | এক্ষেত্রে  আপনাকে অনেক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে | এতে মোশন সিকনেস হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে |

# বমির কথা চিন্তা না করা | এতে বমির ট্রিগার হতে পারে | পাশে পরিচিত কেউ থাকলে তার সঙ্গে কথা বলা |

 # যাত্রাপথে কারো দেওয়া কোনো খাবার গ্রহণ করা যাবে না | এতে বিপদ হতে পারে | যাত্রা অনিরাপদ হয়ে যেতে পারে |

 # চোখ বন্ধ রাখা যেতে পারে | কিংবা ঘুমিয়ে যাওয়া | যাত্রার আগের দিন ঠিকমত ঘুম হওয়া জরুরি | অনেক সময় ঠিকভাবে ঘুম না হওয়ার কারণে মাথাব্যথাও বমির কারণ হতে পারে |

# গাড়িতে উঠার আগে হালকা কিছু খেতে নেওয়া | যাতে খালি পেটে ভ্রমণ করতে না হয় | তবে ভ্রমণের আগে বেশি খাবার খাওয়া যাবে না | যাত্রাপথে যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো |

 # বমি ভাব দূর করার জন্য আদা, লেবু, দারুচিনি, লবঙ্গ, তেতুলের চাটনি, আচার, কমলা বা টক জাতীয় যেকোনো ফল সঙ্গে রাখা যেতে পারে | এতে বেশ ভালো ফল পাওয়া যায় |

# লেবু পাতাও রাখা যেতে পারে | এর ঘ্রাণ বমিভাব দূর করে | বয়স্ক নারী ও গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে যাত্রাপথে বিশেষ যত্ন রাখতে হবে | খেয়াল রাখতে হবে কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা |

#  যখনই বমি ভাব হবে মুখে এক টুকরা লবঙ্গ দিন | এতে বমি ভাব চলে যাবে | চুইংগাম, লজেন্স খেলেও বমি ভাব হবে না |

#  বমিরোধে কিছু সাধারণ ওষুধ সঙ্গে রাখা যেতে পারে। বাজারে জয়ট্রিপ Joytrip 150 mg/300 mg নামে ট্যাবলেট পাওয়া যায় |  অথবা অনডেনসেট্রন  Emistat 8 mg/ 4 mg জাতীয় ওষুধ গাড়িতে উঠার আগে বা খাওয়ার আগে খেয়ে বমিভাব থাকে না | ডমপেরিডন/  ভমিটপ  ১০ মিলিগ্রাম জাতীয় ওষুধও খাওয়া যেতে পারে | তবে এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে | চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত বা অযথা বমির ট্যাবলেট খেলে বিপদ এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকে |

# মোশন সিকনেস নিয়ে খুব বেশি সমস্যা হলে ও বার বার একই রকম হলে তাদের উচিত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দূরের পথে যাত্রা করা | চিকিৎসার মধ্যে থেকে এই সমস্যা থেকে ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠা।
 


লেখক: মনজুরুল মাআবুদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ (হেলথ এন্ড  নিউট্রেশন) বি ফার্মা, বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল, এসএমসি"র ব্লুস্টার স্বাস্থ্য সেবা দানকারী।