খলিলুর রহমান স্টালিন, ক্যানবেরা (অষ্ট্রেলিয়া) :: ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। আর ঈদের দিন ছবি অথবা সেলফিতে ঈদের আনন্দ ফুটে ওঠে আরো কয়েকগুন বেশি। প্রিয়জনদের সাথে কাটানো মুহূর্ত, রঙিন পোশাক আর উৎসবের আবহে ডিজিটাল মাধ্যমে ঈদের আনন্দ প্রকাশ করেন সবাই। কিন্তু ঈদের দিনে তোলা ছবি অথবা সেলফির আড়ালে লুকিয়ে আছে হাজারো বেদনা। শত কষ্ট বুকে চাপা দিয়ে ছবি অথবা সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করে ঈদের আনন্দ খুঁজে বেড়ায় প্রবাসীরা।
শনিবার (২১ মার্চ) অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীদের সাথে কথা বলে এবং তাদের ঈদ আনন্দ ভাগাভাগির দৃশ্য উপভোগ করে এমন তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিনে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার গাঙ্গালিন মসজিদ প্রাঙ্গনে গিয়ে দেখা যায়, সকালে ঈদের নামাজ আদায় করে মসজিদ প্রাঙ্গনে একে অন্যদের সাথে কোলাকুলি করছেন। আবার কেউ কেউ ছবি ও সেলফি তোলে স্মৃতি ধরে রাখা চেষ্টা করছেন। কিন্তু এ সময় সবার চোখে-মুখে বেদনার চাপ লক্ষ্য করা গেছে।
শুধু তাই নয়, ঈদের নামাজ আদায় করে কেউ কেউ কাজের উদ্দেশ্যে মসজিদ ত্যাগ করতে দেখা গেছে। আবার কেউ কেউ বাসা গিয়ে সেমাই, পিন্নি, পিঠাসহ নানা ধরনের খাবার পরিবেশন ও খাইতে দেখা গেছে। এ সময় স্মার্ট ফোনে ছবি ও সেলফি তোলে স্মৃতি ধরে রাখেন অনেকেই। তবে কেউ কেউ ওইসব ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করে হাজারো মাইল দূরে থাকা বাবা-মা ও স্বজনদের সাথে ঈদের আনন্দ শেয়ার করেন।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ক্যানবেরার গাঙ্গালিন এলাকার বাসিন্দা মজুমদার তুষার ও ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরীর বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, ঈদ উপলক্ষ্যে বাসার প্রতিটি রুম নতুন রূপে সাজানো হয়েছে। এছাড়া লাচ্ছা সেমাই, ফিরনি, পিঠা, লুচি, চটপটি, নুডলসসহ নানা ধরনের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। এমনকি ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে তাদের বাসায় এসেছেন অনেক মেহমান। আর এসব স্মৃতিও মোবাইল ফোনে ছবি ও সেলফি তোলে রাখতে দেখা গেছে।
মজুমদার তুষার ও ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী জানান, লেখাপড়ার সুবাধে স্ব-পরিবারে তারা অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরাতে বসবাস করেন। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে তারা ঈদের দিন এই আয়োজন করেছেন। কিন্তু প্রবাসে থেকে এমন আয়োজনেও তেমন কোনো আনন্দ পাওয়া যায় না। আনন্দের মাঝেও লুকিয়ে থাকে হাজারো অজানা বেদনা।
.gif)
মজুমদার তুষারের সহধর্মীনি সানজিদা আক্তার সিলেটভিউকে বলেন, লেখাপড়ার করার সুবাধে আমি হোস্টেলে থেকেছি। এ সময় রমজান মাসে রোজা হোস্টেলে থেকে রাখা হয়েছে। কিন্তু সব সময় ঈদ বাড়িতে বাবা-মায়ের সাথে উদযাপন করেছি। তবে এবার আমি দেশের বাহিরে প্রথম ঈদ করছি। তাই ঈদে বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজন সবাইকে আমি অনেক বেশি মিস করছি। তারপরও ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার চেষ্টা করছি।
ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরীর সহধর্মীনি ফাইজা নাহিয়ান সিলেটভিউকে বলেন, এবার প্রথমবারের মতো রোজা ও ঈদ বাবা-মা থেকে হাজার মাইল দূরে এসে পালন করেছি। তাই অনেক বেশি কষ্ট হচ্ছে। সব সময় তাদের মিস করছি।
কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, রমজান মাসের শুরুর দিকে বাবা-মাকে অনেক মিস করছি। অনেক সময় বাসায় বসে নীরবে কান্না করছি।
দেশে থাকলে ঈদের দিন কেমন কাটতো জানতে চাইলে ফাইজা নাহিয়ানের স্বামী ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমি গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতাম। ঈদের দিন আত্মীয়-স্বজন সবাই আসতো তাদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতাম।
তাদের বাসায় বেড়াতে আসা আলিদ হাসান নামের এক বাংলাদেশি নাগরিক সিলেটভিউকে বলেন, গত তিন বছর থেকে অস্ট্রেলিয়াতে ঈদ করছি। তবে বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনদের ছেড়ে ঈদ করতে ভালো লাগে না। তারপরও ঈদ আসলে ঈদ করতে হয়।
তিনি আরো বলেন, প্রথম বছর ঈদে আমি একা ছিলাম। কিন্তু পরের বছর ঈদে আমার ছোট ভাই খালিদ হাসানও স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়াতে আসছে। তাই এখন দুই ভাই এক সাথে ঈদের নামাজ আদায় করতে মসজিদে যাই। নামাজ শেষে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এখানে এসেছি। তাই একটু ভালো লাগছে।
এদিকে, একই দিন শনিবার দুপুরে ক্যানবেরার ফ্র্যাঙ্কলিন এলাকার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আমীর ও আব্দুর রহমান আমীরের বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, ঈদ উপলক্ষ্যে তারাও ফিরনি, মিষ্টি, ফ্রাইড রাইসসহ নানা ধরনের খাবারের আয়োজন করেছেন। তাদের বাসাও মেহমান আসছেন। খাবার পরিবেশনের সাথে তারাও ছবি ও সেলফি তোলে ঈদের দিনকে স্মৃতিময় করে রাখার চেষ্টা করছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আবদুল্লাহ আমীর ও আব্দুর রহমান আমীর বলেন, লেখাপড়ার সুবাধে আমরা ক্যানবেরাতে বসবাস করি। এবার আমাদের ছোট ভাই আনাসও লেখাপড়া করতে ক্যানবেরাতে এসেছে। এছাড় আমাদের আত্মীয় ফাহিমও আছে। আমরা সবাই মিলে ঈদের দিন রান্না করেছি। এভাবেই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছি।
আবদুল্লাহ আমীর ও আব্দুর রহমান আমীরের বাসায় বেড়াতে আসা কাজী টিএ তাইরিন সিলেটভিউকে বলেন, আমার স্বামী অস্ট্রেলিয়াতে লেখাপড়া করছেন। সেই সুবাধে আমিও অস্ট্রেলিয়াতে বসবাস করছি। কিন্তু ঈদের দিনও আমার স্বামীর ক্লাস আছে। তিনি ঈদের নামাজ আদায় করে ক্লাসে চলে যান। এক পর্যায়ে ক্লাসের ফাঁকে আমার স্বামী শাহরিয়ার ফাহিমকে নিয়ে তাদের বাসায় এসেছি। এভাবেই চলছে আমাদের ঈদ আনন্দ!।
সিলেটভিউ/ কেআরএস/ এসডি-১৪
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.