সংগৃহিত
যুদ্ধ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে। সেই যুদ্ধে টালমাটাল গোটা বিশ্ব। তার আঁচ লেগেছে বাংলাদেশেও। তবে সিলেটে সেই উত্তাপটা একটু বেশিই টের পাওয়া যাচ্ছে। অবশ্য তা পাওয়ারই কথা। এ অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠির ঠিকানাতো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ। সেখানে তারা রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসাবে নিজেদের শ্রমে-ঘামে দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড সোজা রাখতে অবদান রাখছেন। অবদান রাখছেন নিজেদের পরিবারের জন্যও।
তবে ইরানে মার্কিন- ইসরাইলি আগ্রাসনের পর বহুমুখি চাপে আছেন বৃহত্তর সিলেটের মানুষ। বিশেষ করে প্রবাসী আয় নির্ভর পরিবারের সদস্যরা।
যুদ্ধের শুরুতেই সিলেট অঞ্চলে শুরু হয়েছিল ব্যাপক উদ্বেগ উৎকন্ঠা। নিজেদের প্রবাসী স্বজনদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন সবাই। সেই শঙ্কা এখনো আছে। ইহুদিবাদী হামলার প্রতিবাদে ইরান তার ঘোষণা অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা শুরু করে। সৌদি- কুয়েত- দুবাই- কাতার- বাহরাইনসহ সবদেশেই হচ্ছে হামলা। এতে এই শঙ্কা বেড়ে যায় আরও কয়েকগুণ। আর তা যে মোটেও অমুলক শঙ্কা নয়, ইতিমধ্যেই ৬জন বাংলাদেশী নিহত হওয়ার মধ্যদিয়ে তা প্রমাণিত হয়েছে। এরমধ্যে একজন ছিলেন বৃহত্তর সিলেটের মৌলভীবাজারের বড়লেখার। তার পরিবার এখন মারাত্মক আর্থিক সমস্যায় অস্থির।
এদিকে যুদ্ধের প্রতিটি দিন গড়ানোর সাথে সাথে এই আর্থিক সমস্যা তীব্র থেকে আরও তীব্রতর হচ্ছে। অনেকেই ওইসব দেশে এখন কর্মহীন অবস্থায় আছেন। কাজ না থাকলে টাকা আসবে কোথা থেকে? যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে এই অনিশ্চয়তা ততই বাড়তে থাকবে। একেতো প্রবাসীদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা, তার উপর আর্থিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে অস্বাভাবিক অবস্থা অধিকাংশ প্রবাসী নির্ভর পরিবারের সদস্যরা।
তারপর আছে জ্বালানী সংকট। সরকার পর্যাপ্ত জ্বালানী মজুদের কথা বললেও পেট্রোল পাম্পগুলোতে যানবাহনের ভীড় লেগেই আছে। চলছে অতিরিক্ত জ্বালানী মজুদের প্রতিযোগীতা। সরকার শক্ত হাতে পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা করছে। প্রতিদিনই সিলেটের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত মূল্য আদায় বা মজুদের অপরাধে পাম্প মালিকদের জরিমানা করা হচ্ছে।
এরকম পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সিলেটে পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনের মালিকরা ধর্মঘট ডেকে বসেন। তাদের মতে, ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে তাদেরকে অযথা হয়রানি করছে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৬ ঘন্টা পর প্রশাসন ও রাজনীতিবিদদের আশ্বাসে তারা দুপুর ২টায় ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। তার আগেই গোটা সিলেটে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাস্তাঘাটে যানবাহন বলতে গেলে ছিলইনা। জনজীবনে নেমেছিল চরম অস্থিরতা।
এই অস্থিরতাকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয় বুধবার রাতের ট্রেন দুর্ঘটনা। হবিগঞ্জের মাধবপুরে জ্বালানী ভর্তি একটি ট্রেন সিলেট আসার পথে মনতলা স্টেশন পার হওয়ার পর ৫টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। এই বগিগুলোতে ছিল ডিজেল। স্থানীয়রা পড়ে যাওয়া সেই ডিজেল সংগ্রহ করতে হুলুস্থুল বাঁধিয়ে দিলে পরিস্থিতি সামাল দিতে র্যাব বিজিবিকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। জ্বালানী সংকটের এই কঠিন সময়ে নিঃসন্দেহে এটা একটা বড় ধাক্কা।
সাধারণ সিলেটবাসীর জন্য খারাপ সংবাদ আরও আছে। এই যুদ্ধাবস্থায় জ্বালানী সাশ্রয়ে সরকারকে সহযোগীতা করতে রাত ৮টার পর থেকে সিলেটসহ সারাদেশে দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। তবে এই সিদ্ধান্ত কোনদিন থেকে কার্যকর হবে সে কথা এখনো জানায়নি তারা।
যেদিন থেকেই কার্যকর হোক, এ সিদ্ধান্ত জ্বালানী সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও জনজীবনে বিরাজমান অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দিবে।
এই অস্থিরতার অবসান কবে- জানেনা কেউ।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইকে
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.