ক্যানবেরা থেকে: অস্ট্রেলিয়ায় ইস্টার হলিডে লম্বা ছুটি পেয়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা। ওই সুযোগে তারা ঘরোয়া নানা আয়োজনের মাধ্যমে তাদের প্রিয়জনদের সাথে সময় অতিবাহিত করেছেন। আবার কেউ কেউ ওই সুযোগে বাড়তি আয়ের জন্য নিয়মিত কাজের পাশাপাশি অন্য কাজেও ব্যস্ত সময় পার করেন। অস্ট্রেলিয়াতে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, ইস্টার হলিডে বা ইস্টার উৎসব হলো খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব যা যিশু খ্রিস্টের পুনরুত্থানকে ওরা উদযাপন করে। এটি প্রতি বছর বসন্তকালীন পূর্ণিমার পর প্রথম রবিবারে ওই উসৎব পালিত হয়। এ ধারাবাহিকতায় এবারও এপ্রিলের শুরুতে এ উৎসব পলিত হয়। তাই সরকারিভাবে টানা চারদিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়। আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) ছুটি শেষ হয়েছে। আর এই ছুটিতে অস্ট্রেলিয়াতে বসবাসরত বাংলাদেশীরা তাদের মতো করে সময় অতিবাহিত করেন।
জানতে চাইলে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরাতে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিক কাজী টিএ তাইরিন ও তার স্বামী শাহরিয়ার ফাহিম সিলেটভিউকে বলেন, অস্ট্রেলিয়াতে আসার পর থেকেই অনেক ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। এখানে সরকারি ছুটির মধ্যে কাজ করতে হয়। তবে এবার টানা চার দিনের ছুটি ছিল। ওই ছুটিতে আমাদের বাসায় ঘরোয়া একটি আড্ডার আয়োজন করি। এতে আমাদের বন্ধু ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
শাহরিয়ার ফাহিম বলেন, ওই আড্ডায় ডিনার পরিবেশনের পাশাপাশি খেলাধুলা ও নাচ-গানের আসর বসানো হয়েছিল। তবে এ সময় কোনো পেশাদার শিল্পী না থাকলেও ছৌ নাচের মতো লোকসংস্কৃতি বা আধুনিক গানে মেলবন্ধনে আনন্দ ছড়ায় বলেও জানান তিনি।
ক্যানবেরার আরো দুই বাসিন্দা মজুমদার তুষার ও ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমাদের ঈদের সময় ছুটি ছিল না। তাই এবারের ইস্টার হলিডেতে অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি পর্যটন এলাকায় স্ব-পরিবারের ঘুরতে গিয়েছিলাম। এছাড়াও ছুটিতে আমাদের বন্ধুর বাসায় দাওয়াত খাইতে গিয়েছি।
অস্ট্রেলিয়া ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ও ৩৩ তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সোহাগ সাহা সিলেটভিউকে বলেন, অস্ট্রেলিয়াতে সরকারি ছুটিগুলোর মধ্যে ইস্টারের ছুটি অন্যতম। ওই ছুটিতে আমরা সিডনিতে ঘুরতে গিয়েছিলাম।
অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড শহরের বাসিন্দা এস এম আশরাফুজ্জামান আপন সিলেটভিউকে বলেন, ইস্টারের ছুটিতে একদিন কাজ ছিল। বাকি দিনগুলো ঘরোয়া নানা আয়োজনে সময় অতিবাহিত করেছি। এর মধ্যে সমুদ্রের পাড়ে তাবু ক্যাম্পিং একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তিনি বলেন, ছুটিতে আমার স্ত্রীকে নিয়ে মুদ্রের পাড়ে তাবু ক্যাম্পিংয়ের আয়োজন করি। এ সময় সমুদ্রের গর্জন আর খোলা আকাশের নিচে তাঁবুতে রাত্রিযাপন মানসিক প্রশান্তি দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন আপন।
সিডনির লাকেম্বায় এলাকার বাসিন্দা ফাহাদ হক সিলেটভিউকে বলেন, এবারের ছুটিতে কোনো কাজ ছিল না। তাই কয়েকটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদান করি। এছাড়াও দেশে রেখে আসা পরিবারের সদস্যদের সাথে ফোনে কথা বলে সময় অতিবাহিত করেছি।
ইদ্রিস আলী নামের আরেক প্রবাসী জানান, ছুটিতে বাড়তি আয়ের আশায় তিনি কাজ করেছেন। এছাড়া কাজের ফাঁকে বন্ধুদের সাথে আড্ডাও দিয়েছেন।
সিলেটভিউ/কেআরএস/এসডি-২৯
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.