পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে শহীদ আলতাব আলী স্মরণ দিবস। তবে নানা আয়োজনের মধ্যেও বাংলাদেশ হাইকমিশনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন প্রবাসীরা।
পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্ক। ১৯৭৮ সালে বর্ণবাদী হামলায় নিহত শহীদ আলতাব আলীর স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানটি আজও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক। প্রতি বছরের মতো এবারও ০৪ মে, সোমবার দিনটি উপলক্ষে এখানে জড়ো হন বিভিন্ন দেশের মানুষ, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সকাল থেকেই শুরু হয় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন। পরে এক মিনিট নীরবতা পালন করে শহীদের প্রতি সম্মান জানান উপস্থিত সবাই। এসময় আয়োজিত হয় র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বক্তারা বলেন, “আলতাব আলী শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি আমাদের সংগ্রামের প্রতীক। তার আত্মত্যাগ আমাদের এখনো অনুপ্রাণিত করে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে।”
তবে এত বড় একটি আয়োজনেও বাংলাদেশ হাইকমিশনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তারা বলছেন, প্রবাসে বাংলাদেশের ইতিহাস ও গৌরব তুলে ধরতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আরও সক্রিয় ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।
কমিউনিটি নেতারা বলেন, “এটা খুবই দুঃখজনক। এমন একটি দিনে অন্তত হাইকমিশনের উপস্থিতি থাকা উচিত ছিল।”
বক্তারা বলেন, আলতাব আলীর আত্মত্যাগ কেবল একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি আন্দোলনের সূচনা। তার স্মরণে আয়োজিত এসব কর্মসূচি নতুন প্রজন্মকে সচেতন করে তুলছে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া তরুণদের অনেকেই জানান, তারা ইতিহাস জানার পাশাপাশি বর্ণবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রেরণা পাচ্ছেন এখান থেকে।
তরুণ অংশগ্রহণকারীরা জানান, “আমরা চাই এই ইতিহাস সবাই জানুক। এতে আমরা ভবিষ্যতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্তভাবে দাঁড়াতে পারবো।”
“প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে আলতাব আলীর ইতিহাস পৌঁছে দিতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে রাষ্ট্রীয় অংশগ্রহণ আরও জোরদার হলে এই বার্তা আরও শক্তিশালীভাবে পৌঁছাবে বলেও মত তাদের।”
সবশেষে, আলতাব আলীর আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং বর্ণবাদমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে শেষ হয় দিনের কর্মসূচি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শামীম/এসডি-০৪
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.