পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী অবৈধ প্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার।
বুধবার (২০ মে) নবান্নে আয়োজিত একটি সাংবাদিক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই সংক্রান্ত আইন কার্যকর করার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতাভুক্ত নন, তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে। এরপর তাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের এক বছর আগের নির্দেশিকা মেনে রাজ্য প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী যৌথভাবে এই কাজ করবে। অবৈধ অভিবাসীদের রুখতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার মূলত ডিটেক্ট (চিহ্নিত করা), ডিলিট (মুছে দেওয়া) ও ডিপোর্ট (ফেরত পাঠানো)—এই নীতিতে এগোচ্ছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বৈধ পাসপোর্ট বা কোনো রকম আইনি নথি ছাড়া যারা ভারতে প্রবেশ করেছেন তারা এই আইনের আওতায় পড়বেন। এ ছাড়া যারা বৈধ নথি নিয়ে ভারতে প্রবেশ করার পর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও আর নিজের দেশে ফিরে যাননি। যেহেতু কেন্দ্রের আলাদা কোনো পুলিশ বাহিনী নেই, তাই অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা, গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ ও দেশছাড়া করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পুলিশ এবং অভিবাসন ব্যুরোর যুগ্ম ডিরেক্টরের হাতে দেওয়া হয়েছে।
অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াটি সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। কোনো বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা নাগরিক সীমান্তে ধরা পড়লে তৎক্ষণাৎ তার আঙুলের ছাপ, ছবি ও ব্যক্তিগত বিবরণ সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ‘ফরেনার্স আইডেন্টিফিকেশন পোর্টাল’-এ আপলোড করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; ইন্টারনেট না থাকলে এই তথ্য প্রথমে অফলাইনে সংগ্রহ করে পরে দ্রুত পোর্টালে তুলতে হবে। অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত ও আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতি জেলায় পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা শরণার্থী শিবির তৈরি করবে রাজ্য সরকার।
আটক কোনো ব্যক্তি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করলে ৩০ দিনের মধ্যে তার তথ্য যাচাই করা হবে এবং উপযুক্ত প্রমাণ না মিললে তদন্ত সাপেক্ষে তাকে কালো তালিকাভুক্ত বা ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ করা হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর রাজ্য পুলিশ উপযুক্ত আইনি কাগজসহ অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেবে।
তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ সীমান্ত পেরিয়ে এলে এবং তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলে, তাদের সরাসরি সীমান্তের রক্ষীবাহিনীর মাধ্যমে ফেরত পাঠানো হবে।
বাংলাদেশ সীমান্তের জন্য বিএসএফ এবং মায়ানমার সীমান্তের জন্য অসম রাইফেলস এই ফেরত পাঠানোর দায়িত্ব পালন করবে। কোনো অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তার হলে তার সমস্ত তথ্য রাজ্য সরকার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দিবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দেশের (বাংলাদেশ বা মায়ানমার) দূতাবাসের মাধ্যমে ওই ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাই করে নেবে।
বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গাদের আটক করা থেকে শুরু করে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া পর্যন্ত প্রাথমিক খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে, যা পরে কেন্দ্র ফিরিয়ে দেবে। তবে জেলাভিত্তিক শরণার্থী শিবির বা হোল্ডিং সেন্টার তৈরির যাবতীয় খরচ রাজ্য সরকারকেই দিতে হবে। ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের নামে ভারতে যাতে পরবর্তীতে কোনো পরিচয়পত্র (যেমন: আধার, ভোটার কার্ড বা পাসপোর্ট) তৈরি হতে না পারে, তা নিশ্চিত করবে নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রাজ্য সরকারকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে প্রতি মাসে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জমা দিতে হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রচার বা হইচই এড়ানোর জন্য কেন্দ্রের তরফ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
সূত্র : আনন্দবাজার
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.