সংগৃহিত
যদিও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাথে সিলেটের সীমান্ত নেই, তবু বড় আতঙ্কে আছেন সিলেটের গরুর খামারিরা। যখন তখন পানির দামে যদি ঢলের মতো ভারতীয় গরু দেশের বাজারে প্রবেশ করে তবে তার একটা প্রভাব বাজারে পড়বেই। তাছাড়া আসাম মেঘালয় ত্রিপুরার সীমান্ততো আছেই। তাই স্বস্তিতে নেই সিলেটের খামারিরা। তারা চরম আতঙ্কে আছেন। শেষ পর্যন্ত লাভের দেখা মিলবেতো!
এ বছর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কোরবানির ঈদে গরু জবাই নিয়ে নানান বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এতে সেখানকার মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন গরু বাদ দিয়ে অন্যান্য পশু কোরবানির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হাজার হাজার খামারি এখন পথে বসেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবাদে জানা যাচ্ছে, অনেকেই গরু রাস্তায় ছেড়ে দিয়ে প্রতিবাদ করেছেন।
তবে এরমধ্যেও একদল মানুষ অবৈধভাবে বাংলাদেশের চোরাকারবারীদের কাছে গরু বিক্রি করে সামান্য হলেও উপকৃত হওয়ার আশায় থাকবেন, এটা স্বাভাবিক। তাছাড়া শোনা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে হাজার হাজার গরু যখন তখন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। তেমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর যদি তা হয়, তাহলে গরুর দাম একেবারে পড়ে যাবে। তখন স্থানীয় খামারীদের মাথায় হাত পড়তেই পারে। আর যেকোনো সীমান্ত দিয়েই গরু প্রবেশ করুক না কেন, সিলেটের বাজারগুলোতে তা চলে আসা মোটেও অস্বাভাবিক নয়।
এদিকে আবার সিলেট সীমান্তে প্রতি বছর কোরবানীর দু’একদিন আগে হাজার হাজার ভারতীয় গরু নিয়ে আসে চোরাকারীরা। তার প্রভাবে শেষ মুহুর্তে বাজার একেবারেই পড়ে যায়। এ কারণে খামারীদের লোকসান গুনতে হয়। বেশি লাভের আশায় যারা শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত তাদের গরু নিয়ে বাজারে থাকেন, তাদের অশ্রু বিসর্জন দিয়ে ঘরে ফিরতে হয়।
এবার সেই আতঙ্ক আরও কয়েকগুণ বেড়েছে। কারণ, সেই পশ্চিমবঙ্গ আর সেই বিজেপি।
সিলেটের কানাইঘাট গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে যেসব গরু বাজারে প্রবেশ করে তা মোটামুটি জৈন্তাপুরের হরিপুর, দরবস্ত ও অন্যান্য বাজারে উঠে। তারপর অলিখিত নিয়মে তা বৈধ হয়ে যায় এবং চলে যায় বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন বাজারে।
শুক্রবার (২২ মে) বিকালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারাবছর যেমন কিছু ভারতীয় গরু সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে, এবার এখন পর্যন্ত তেমনটাই চলছে। ভারতীয় গরু আসছে বটে, তবে তা আতঙ্কিত হওয়ার মতো নয় এখনো। কিন্তু ঈদ যতই এগিয়ে আসছে, খামারিদের আতঙ্ক ততই বাড়ছে। তারা মনে করছেন, যখন তখন ভারত থেকে ঢলের মতো গরু প্রবেশ করতে পারে। আর তা হলে দেশীয় খামারীদের জন্য সেটি হবে চরম ক্ষতির।
গোলাপগঞ্জের জাহেদুর রহমান (৫৫) নামে এক খামারী জানান, এবার তার ৪টি বড় গরু সন্তোষজনক দামেই বিক্রি করেছেন। একটি ষাঁড় বিক্রির অপেক্ষায়। তার আতঙ্ক, মোটামুটি একটা লাভ পেলেই ষাঁড়টি তিনি বিক্রি করে ফেলবেন। শেষ সময়ের আর অপেক্ষা করবেন না। কারণ, সেই ভারতীয় গরুর আতঙ্ক!
সিলেট সদরের হাফিজুর রহমান (৪৫) গত প্রায় ১০ বছর ধরে গরুর খামার করছেন এবং এখন এটাই তার একাত্র পেশা। বললেন, এবার এখনো ভারতীয় গরুর বড় চালান বাজারে প্রবেশ করেনি। যদি করে তাহলে আমাকে পথে বসতে হবে। এখনো আমার অন্তত ১০/১২টি গরু বিক্রি করতে পারিনি।
খামারিদের দাবি, পুলিশ প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বিজিবি জোয়ানদের তৎপরতার উপরই এখন তাদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। যেকোনো মূল্যে ভারতীয় গরুর প্রবেশ ঠেকাতে হবে।
এ ব্যাপারে বিজিবির তৎপরতা জানতে বিজিবি সিলেট ব্যাটালিয়ন- ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. জেনারেল নাজমুল হক ও ১৯ বিজিবির অধিনায়কের লে. কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ারের মোবাইলে কল দিলেও তারা রিসিভ করেন নি।
তবে চোরাচালান ঠেকাতে সিলেট জেলা পুলিশ ও মহানগর পুলিশ তৎপর বলে জানিয়েছেন গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তারা।
সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সম্রাট তালুকদার বলেন, আমরা প্রতিটি রাস্তায় চেকপোস্ট করছি। সন্দেহজনক কিছু পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগামীতে চেকপোস্ট কার্যক্রম আর বাাড়নো হবে। আমরা কঠোর অব্সথান নিয়েছি।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মনজুরুল আলম বলেন, প্রতিটি থানাকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো বাজারে চোরাই গরু প্রবেশ করতে না পারে। এছাড়া বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আমরা অভিযান চালাতে প্রস্তুত। মহানগর পুলিশের আওতাধীন বিভিন্ন রাস্তায় আমরা চেকপোস্ট কার্যক্রম আরও জোরদার করেছি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইকে
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.