ছবি: সিলেট ভিউ গ্রাফিক্স।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা হিসেবে ২০২৩ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন। তবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার নথিতে তার নিয়োগসংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় কীসের ভিত্তিতে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন- তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় এবার তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
শনিবার (২৩ মে) স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. সগীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে মোহাম্মদ একলিম আবদীনকে এর ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মোহাম্মদ একলিম আবদীন ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু কোন প্রক্রিয়ায় তিনি ওই পদে নিয়োগ পেয়েছেন এবং কীভাবে সরকারি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন- সে বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের নথিতে কোনো তথ্যনেই।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বিষয়টি পরিষ্কার করতে তাকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের নিকট স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শাতে হবে। অন্যথায় পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, একলিম আবদীনের যোগদানের পর থেকেই সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বাড়তে থাকে। বর্জ্য শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বিভিন্ন সময় আলোচিত হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিসিকের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, মোহাম্মদ একলিম আবদীন প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকেই বর্জ্য শাখায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি সংঘটিত হয়ে আসছে। বর্জ্যবাহী গাড়ি থেকে নিয়মিত তেল চুরি, সিসিকের গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ভাড়া দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় মাটি ভরাটের কাজ পরিচালনা, ডে-লেবারদের প্রকৃত উপস্থিতির চেয়ে অতিরিক্ত দেখিয়ে ভুয়া বিল উত্তোলনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে এই শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, সিন্ডিকেটের সদস্যরা এতটাই প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন যে, তারা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করছেন। করপোরেশনের অনেকেই এসব অনিয়মের ব্যাপারে অবগত থাকলেও চাকরি হারানোর ভয় ও প্রশাসনিক হয়রানির আতঙ্কে প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস পাননি।
এই বিষয়ে সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন সিলেটভিউকে বলেন, ‘আমার কাছে এই সংক্রান্ত কোনো নোটিশ আসে নি। আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না। স্থানীয় সরকার থেকে কারণ দর্শানোর কোনো নোটিশ আসলে সেটা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলতে পারবেন।’ নোটিশের ব্যপারে জানতে চাইলে একলিম আবদীন আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫আগস্টের পর নতুন প্রশাসক আসলে তিনিও আমার কাগজপত্র দেখেন। এরপর নির্বাচিত সরকার আসার পর নতুন প্রশাসক আসলে তিনিও আমার কাগজপত্র দেখছেন। এখন যদি আবার বলা হয়, তাহলে আমি আমার কাগজপত্র দেখাবো।’
বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তিনি সিলেটভিউকে আরও বলেন, ‘একটি পক্ষ চাচ্ছে আমি যেন এখানে না থাকি। সিটি কর্পোরেশনের এলাকাগুলো এখন আগের থেকে পরিচ্ছন্ন তাই এগুলো একটি পক্ষ মেনে নিতে পারছে না। তারা বার বার বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন। তবে আমার কাছে যথেষ্ট প্রমাণাদি রয়েছে, যদি স্থানীয় সরকারকে সেগুলো দেওয়া লাগে আমি সেগুলো উপস্থাপন করবো।’
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে আমি এরকম কোনো চিঠি এখনও পাইনি। এরকম চিঠি আসলে অবশ্যই ওই কর্মকর্তা তার নিজ দায়িত্বে স্থানীয় সরকারকে জবাবদিহীতা করবেন।’ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তিনি সিলেটভিউকে বলেন, ‘সিসিকের বর্জ্য অপসারণের গাড়িগুলো শুধুমাত্র সিসিকের কাজে ব্যবহৃত হবে। সিসিকের নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্থানে ময়লা ফেলা হবে। কিন্তু মাটিসহ ময়লা নির্ধারিত স্থানে না ফেলে বিক্রি করা হলে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো। যদি এরকম কিছু হয়ে থাকে তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেটভিউকে বলেন, ‘আমি প্রশাসকের দায়িত্বে নতুন। আমি তো আপাতত নগরীর উন্নয়ন কাজ নিয়ে ব্যস্ত। তবে শুনেছি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার নামে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে কারন দর্শানোর নোটিশ এসেছে। যদি এরকম কোন নোটিশ আসে তবে তিনি এর জবাব দিবেন। আমার জানামতে, তার নিয়োগ সংক্রান্ত সকল নথিপত্র রয়েছে।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.