অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টির কারণে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ পানি সংকট দেখা দিয়েছে। দেশটির অন্তত ৫০০টিরও বেশি বাড়িতে স্বাভাবিক পানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তীব্র গরমে পানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও পূর্ব ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় মানুষকে প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জলাধার ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চলমান তাপদাহ। ফলে অনেক এলাকায় পানির চাপ কমে গেছে, কোথাও কোথাও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে সরবরাহ ব্যবস্থা। পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জরুরি ভিত্তিতে ট্যাংকারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পানি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের পর দিন তারা রান্না, গোসল ও দৈনন্দিন কাজের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন না। অনেক পরিবারকে বোতলজাত পানি কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে। কেউ কেউ দূরের এলাকা থেকে পানি সংগ্রহ করে আনছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে পরিবারগুলো বেশি সমস্যায় পড়েছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পানি না থাকাটা খুবই কষ্টকর। আমরা প্রতিদিন সীমিত পানি ব্যবহার করছি। অনেক সময় পানীয় পানিরও সংকট তৈরি হচ্ছে।”
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গরমের মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। ইংল্যান্ডেও গত কয়েক বছরে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সাময়িক ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমেই এ সংকট মোকাবিলা সম্ভব। নতুন জলাধার নির্মাণ, পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং অপচয় রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এদিকে পানি সংকট মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় পানি ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাগানে পানি দেওয়া, গাড়ি ধোয়া কিংবা অতিরিক্ত গৃহস্থালি কাজে পানি ব্যবহারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া পানি অপচয় না করার জন্যও প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তীব্র গরম ও পানি সংকট শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি ধীরে ধীরে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে। যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে আগামী দিনে আরও বড় ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে পারে ইংল্যান্ডের মানুষ।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিটি
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.