ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ এবং ব্যাপক জনসমাগমের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যে পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। দেশটির বিভিন্ন শহরের মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার ও খোলা ঈদগাহে হাজারো মুসল্লির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। যুক্তরাজ্যের অধিকাংশ মুসলিম সম্প্রদায় বুধবার, ২৭ মে ঈদুল আজহা উদযাপন করেন।
রাজধানী লন্ডন, বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টার, ব্র্যাডফোর্ড, নর্থাম্পটন লুটন ও ওল্ডহ্যামসহ বিভিন্ন শহরে সকাল থেকেই ঈদের আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলো। নতুন পোশাকে সজ্জিত নারী-পুরুষ ও শিশুরা ঈদের নামাজ আদায় শেষে একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ইস্ট লন্ডন মসজিদে মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতি
লন্ডনের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহাসিক মসজিদ East London Mosque-এ একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে হাজারো মুসল্লির উপস্থিতিতে মসজিদ ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি, বিশ্বশান্তি এবং মানবকল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। খুতবায় ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি, সহমর্মিতা এবং মানবসেবার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
কোরবানি ও পারিবারিক মিলনমেলা
ঈদের নামাজ শেষে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা কোরবানি, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং পারিবারিক আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটান। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অনুমোদিত স্লটারহাউসে ইসলামি বিধান অনুযায়ী কোরবানি সম্পন্ন করা হয়। অনেকেই দেশে থাকা পরিবার-পরিজনের জন্য কোরবানির ব্যবস্থা করেন এবং বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে অসহায় মানুষের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করেন।
ঈদ উপলক্ষে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ঘরোয়া আয়োজন, আপ্যায়ন এবং সাংস্কৃতিক মিলনমেলারও আয়োজন করা হয়। প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলো ঐতিহ্যবাহী বাংলা খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের খাবার পরিবেশন করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা জানান, প্রবাসে থেকেও ধর্মীয় উৎসবগুলো তাদের মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। অনেকেই ঈদের দিন ভিডিও কল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে দেশের স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিক বলেন, “প্রবাসে ঈদ মানেই একদিকে দেশের জন্য আবেগ, অন্যদিকে কমিউনিটির সঙ্গে মিলেমিশে আনন্দ উদযাপন। ঈদের জামাতে এত মানুষের উপস্থিতি আমাদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।”
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ আয়োজন
ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারে স্বেচ্ছাসেবক দল এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, পার্কিং ব্যবস্থাপনা এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়, ফলে উৎসবটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
ধর্মীয় মূল্যবোধ, ত্যাগের শিক্ষা এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে যুক্তরাজ্যের মুসলিম সমাজ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছে। প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও ঈদের এই আয়োজন মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা এবং মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করেছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শামীম/এসডি-১৫
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.