প্রকাশিত: ০২ জুন, ২০২৬ ০০:০০ (বৃহস্পতিবার)
স্থানীয় নির্বাচনেও অংশ নিতে পারছে না আ.লীগ

জাতীয় সংসদের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রার্থী হওয়ার পথ বন্ধ হতে যাচ্ছে। কারণ কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ দলগুলোর নেতাকর্মীরা যাতে প্রার্থী হতে না পারেন, সেজন্য নির্বাচন আচরণ বিধিমালাগুলোতে নতুন বিধি যুক্তের প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়। 

 

 


প্রস্তাবিত ওই বিধি হচ্ছে, নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিষিদ্ধ বা নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই-এই মর্মে ইসির তৈরি করা অঙ্গীকারনামায় সই দিতে হবে। 

 

 


সংশ্লিষ্টরা জানান, অঙ্গীকারনামায় সঠিক তথ্য না দিলে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে ইসির। এর ফলে পদধারী আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মীদের নির্বাচন থেকে দূরে থাকতে হবে। কারণ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ রয়েছে।

 

 


ইসির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ইসির খসড়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়রদের প্রচারে অংশ নেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। 

 

 

 

‘সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’র সংজ্ঞায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়রদের যুক্ত করা হচ্ছে। ফলে মন্ত্রী, এমপি ও সিটি করপোরেশনের মেয়রদের পাশাপাশি তারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবেন না। 

 

 


সম্প্রতি এসব বিধিমালার খসড়া তৈরি করেছেন ইসির কর্মকর্তারা। ঈদের ছুটি শুরুর আগে শেষ কর্মদিবস ২৪ মে রোববার ওই খসড়ার কপি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও চার কমিশনারকে দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এই খসড়া নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন নির্বাচন কমিশনাররা।

 

 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, ইউনিয়ন পরিষদের আচরণ বিধিমালার খসড়া ‘অনেকটা মডেল’ হিসাবে কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিধিমালায় যেসব সংশোধনী আনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন একমত হবে, সেই সংশোধনীগুলো সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের ধরন অনুযায়ী আচরণ বিধিমালায় যতটা সম্ভব সংযোজন বা বিয়োজন করা হবে। 

 

 

তারা আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের আইন সংস্কার কমিটির বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিচালনা বিধিমালা এবং আচরণ বিধিমালার সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকের পর এসব খসড়া তৈরি করা হয়। ওইসব খসড়া সংশোধনীর ওপর নির্বাচন কমিশনাররা মতামত দিলে এতে আবারও সংশোধনী আসতে পারে।

 

 

 

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়ার বিধান রাখব ইনশাআল্লাহ। এটা আমাদের রাখতে হবে।

 

 


 আওয়ামী লীগকে লক্ষ্য করে এ বিধি যুক্ত হচ্ছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো দল বা সংগঠনকে সামনে রেখে এটা করা হচ্ছে না। বাংলাদেশে কয়েকটা দল নিষিদ্ধ আছে। দেশে বিদ্যমান অন্যান্য আইন বিবেচনায় নিয়ে এটা করা হচ্ছে। কোনো দলকে টার্গেট করে নয়।

 

 


আরও জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে আয়োজন করতে জাতীয় সংসদে সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর সংশোধনী পাশ হয়েছে। ওই আইন অনুযায়ী, আচরণ বিধিমালা ও পরিচালনা বিধিমালা থেকে রাজনৈতিক দল সংশ্লিষ্ট অংশগুলো বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন ইসির কর্মকর্তারা। 

 

 


এই সংশোধনী আনতে গিয়ে আচরণ বিধিমালার কয়েকটি বিধি-উপবিধি থেকে ‘রাজনৈতিক দল’ শব্দ বিলুপ্ত করার কথা বলা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের চাঁদা বা অনুদান দিলে অথবা রাজনৈতিক ইস্যুতে নির্বাচনি এলাকায় সভা-সমাবেশ করলে তা আটকানোর ক্ষমতা হারাবে ইসি। এমনকি আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করলে রাজনৈতিক দলের যে দণ্ডের বিধান রয়েছে, তাও বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। 

 

 

 

এছাড়া নির্বাচনে কাগজের পোস্টারে প্রচার এবং ব্যানার ও ফেস্টুনসহ নির্বাচনি সামগ্রীতে রাজনৈতিক নেতাদের ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচার চালানোর বিধানসহ বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে।

 

 

 

নির্বাচনের সময়ে রাজনৈতিক দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ার প্রস্তাবিত বিধান ইসির জন্য আত্মঘাতী হওয়ার আশঙ্কা করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও পরোক্ষভাবে তাতে দলীয় প্রভাব থাকবেই। ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) কয়েকটি দল বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে তাদের প্রার্থী নির্ধারণ করেছে। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে অন্য দলগুলো তাদের তৎপরতা বাড়াবে। 

 

 

 


এ বিষয়ে ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও সাবেক নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলী বলেন, অতীতে অনেক নির্বাচনে দেখা গেছে, নির্দলীয় প্রতীকের নির্বাচনে অনেক রাজনৈতিক দল প্রার্থী মনোনয়ন না দিয়ে সমর্থন দিয়েছে। দলটির নেতাকর্মীরা প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে কাজ করেছে। নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করেছে। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন ও উপজেলা নির্বাচনে এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে দেখা গেছে। সামনের নির্বাচনগুলোতে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে না, এমনটি বলা যায় না। ইসি যদি দলগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ তুলে নেয়, তাহলে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হতে পারে।

 

 


নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার  বলেন, ইসি সচিবালয় খসড়া সংশোধনী তৈরি করেছে। সেখানে যেসব সংশোধনীর প্রস্তাব করেছে, ঈদের ছুটি থাকায় সেগুলো নিয়ে এখনো আলোচনা হয়নি। আমরা সব বিষয়ে আলোচনা করব। এরপর সিদ্ধান্ত নেব।

 

 

 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গণহারে মানুষ হত্যার দায়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এজন্য সন্ত্রাসবিরোধী আইনেরও সংশোধনী আনা হয়। বিএনপি সরকার গঠনের পর জাতীয় সংসদে ওই বিল পাশ করে। ফলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রার্থী হতে পারেননি। তখন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এবং আচরণ বিধিমালায় সংশোধনী আনা হয়। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমার বিধান বাতিল করা হচ্ছে। পাশাপাশি আচরণ বিধিমালায় ‘অঙ্গীকার’ নামক নতুন বিধি যুক্ত করা হচ্ছে। এতে নিষিদ্ধ বা নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকার অঙ্গীকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। ফলে আওয়ামী লীগসহ নিষিদ্ধ দলগুলোর পদধারী নেতাকর্মীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ রুদ্ধ হতে যাচ্ছে।

 

 

 

এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালায় ‘সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’র সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমানে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সংজ্ঞায় প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, সরকারের মন্ত্রী, চিফ হুইপ, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা তাদের সমপদমর্যাদার কোনো ব্যক্তি, সংসদ-সদস্য ও সিটি করপোরেশনের মেয়ররা রয়েছেন। তারা নির্বাচনি প্রচার চালাতে ও কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারেন না। এই সংজ্ঞায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ার‌্যান এবং পৌরসভার মেয়রদের যুক্তের প্রস্তাব করা হয়েছে। 

 

 


আরও জানা গেছে, কাজী রকিব উদ্দীন নেতৃত্বাধীন কমিশনের সময়েও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০১৫ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসাবে সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়ররা সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুবিধা পান কিনা-তা নিয়ে খোদ কমিশনের মধ্যেই প্রশ্ন উঠে। একপর্যায়ে ওই কমিশন এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে সরে আসে। পরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে।

 

 


বর্তমানে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় মেয়র এবং জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যান নেই। অনির্বাচিত প্রশাসকেরা স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে স্থানীয় সরকারের কোন প্রতিষ্ঠানে আগে ভোট হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইসির সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথমেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা হলে সেখানে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জনপ্রতিনিধি না থাকায় তাদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ কম। কিন্তু পরবর্তীতে যেসব নির্বাচন হবে সেগুলোতে প্রভাব বিস্তার রোধে এ প্রস্তাব আনা হয়েছে।

 

 


ইউনিয়ন পরিষদের প্রস্তাবিত খসড়া আচরণ বিধিমালা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১০টির বেশি বিধি-উপবিধি থেকে ‘রাজনৈতিক দল’ শব্দগুলো বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। আবার কয়েকটি বিধিতে ‘রাজনৈতিক দল’ শব্দগুলো বহাল রাখা হয়েছে। যেসব বিধি-উপবিধি থেকে ‘রাজনৈতিক দল’ শব্দগুলো বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে-২(১১), (১৩) ও (১৬), ৩, ৪, ৫, ৭, ১৩, ১৮, ২৯ এবং ৩১। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দেওয়ার বিধান বাতিল হওয়ার সঙ্গে কয়েকটি বিধি-উপবিধি সম্পৃক্ত। এ কারণে সেগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো বিধি থেকে ‘রাজনৈতিক দল’ শব্দগুলো বাদ দেওয়ার অন্যতম কারণ, ইসি দলগুলোর সঙ্গে বিরোধে যেতে চায় না।

 

 

 

পর্যলোচনায় দেখা গেছে, আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করলে বিধি ৩১ অনুযায়ী সাজা দেওয়া হয়। ওই বিধিতে দলীয় বা সাংগঠনিকভাবে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানার দণ্ড রয়েছে। খসড়া আচরণ বিধির ৩১(২) উপবিধি বাতিলের প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে বিধি লঙ্ঘনের পরেও কোনো দলকে ইসি কোনো দণ্ড দিতে পারবে না।

 

 

 

বিধি-৪ অনুযায়ী নির্বাচনের সময়ে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দল, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন পূর্ব সময়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের আওতাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্য বা গোপনে চাঁদা বা অনুদান দিতে পারে না। এ বিধি থেকে ‘রাজনৈতিক দল’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সংশোধনী অনুমোদন পেলে রাজনৈতিক দলগুলো কারও পক্ষে কার্যক্রম চালালে ইসির কিছুই করার থাকবে না। এছাড়া বিধি-৫ এ প্রচারণা চালানো, বিধি-৭ এ নির্বাচনি এলাকায় সভা-সমাবেশ আয়োজন করা, বিধি-১৩ তে যানবাহন নিয়ে শোডাউন করা, বিধি-১৮তে উসকানিমূলক বক্তব্য বা বিবৃতি দেওয়া এবং বিধি-২৯ এ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে অহেতুক ঘোরাফেরা না করার বিধান রয়েছে। এসব বিধি থেকে ‘রাজনৈতিক দল’ শব্দগুলো বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

 


বর্তমান নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদের ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালায়’ প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি যুক্ত করেছে। এতে কোনো প্রার্থী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করলে কমিশন তদন্ত করে ওই প্রার্থীর প্রার্থিতা পর্যন্ত বাতিলের ক্ষমতা রাখে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের আচরণ বিধিমালায় ইসির ওই ক্ষমতা প্রয়োগের বিধান যুক্ত করেনি ইসি।

 

 

 

এছাড়া অন্যান্য সংশোধনীর মধ্যে কাগজের পোস্টার ও রেক্সিনের তৈরি প্রচার সামগ্রী ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো কাপড় ও চটের তৈরি ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহার করা যাবে। ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে রাজনৈতিক নেতাদের ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। শুধু প্রার্থী ও প্রতীকের ছবি থাকবে। এমনকি দলীয় প্রধানের ছবিও ব্যবহার করা যাবে না। বিলবোর্ডের মাধ্যমেও প্রচার চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। সেক্ষেত্রে একটি ওয়ার্ডে একটি বিলবোর্ড স্থাপন করা যাবে।

 

 


নির্বাচনি প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। ফলে ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা যাবে। অনেকটা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আদলে এ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে কারও বিরুদ্ধে বিষোদগার করা যাবে না।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ ডেস্ক