প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০২৬ ১১:০৯ (শুক্রবার)
যে কারণে সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দর মহাসড়ক প্রকল্পে কমছে ব্যয়

বহুল আলোচিত সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দর চার লেন মহাসড়ক নির্মাণে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) গৃহীত প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা সংগৃহী

বাংলাদেশের বাস্তবতায় যে কোনো মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লে একই সঙ্গে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দর চার লেন মহাসড়ক প্রকল্প। শিগগিরই শুরু হওয়ায় এ মেগা প্রকল্পের ব্যয় কমেছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। এই উন্নয়ন প্রকল্পের পূর্ত কাজের জন্য গত ২০ মে দুই হাজার ৫০৬ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি।

প্রকল্পটির মূল অবকাঠামো উন্নয়নে আগের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল তিন হাজার ১০০ কোটি টাকা। সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ২০ শতাংশ ‘লেস’ ধরে প্রায় ৬শ কোটি টাকা কমিয়ে নতুন এ ব্যয় অনুমোদন করেছে।

সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দরের ৪২ দশমিক ৯৮৫ কিলোমিটারের মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল অনুমোদন করে। এর মেয়াদ নির্ধারণ করা ছিল ১ জানুয়ারি ২০২৩ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করতে না পারায় প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প দায়িত্বশীলরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দর চার লেন মহাসড়ক প্রকল্পের জন্য সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পাওয়ায় তিন লটে অবকাঠামোর উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এ মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। মহাসড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটি লটে মোট ৪৭টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৯টি দরপ্রস্তাব কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) সর্বনিম্ন দরদাতাদের সুপারিশ করে।

চূড়ান্তভাবে তিনটি পৃথক লটে তিনটি দরদাতা বা যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথম লটে যৌথ উদ্যোগে মনিকো লিমিটেড (বাংলাদেশ) এবং চায়না রেলওয়ে নম্বর চার ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডকে এক হাজার ৯৯ কোটি ৫১ লাখ ৮৪ হাজার ৪২৬ টাকায় কাজ দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় লট চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে ৮১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৫১ হাজার ৮৩০ টাকায় কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর তৃতীয় লটে যৌথ উদ্যোগে এনডিই (বাংলাদেশ) এবং আরবিসিজিকে (চীন) ৫৮৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকায় কাজ দেওয়া হচ্ছে। তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের আওতায় ২৪৭ দশমিক ১৩ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ৪২ দশমিক ৮০ লাখ ঘনফুট মাটির কাজ, ৪২ দশমিক ৯৮৫ কিলোমিটার পেভমেন্ট নির্মাণ, ১ হাজার ৫৭৫ জন মাস পরামর্শক সেবা, ৩১টি কালভার্ট, ৩টি সেতু তিনটি ফ্লাইওভার, ৬টি ওভারপাস, ৫টি আন্ডারপাস, ৪টি ফুটওভার ব্রিজ, ৭টি পথচারী পারাপার, একটি টোল প্লাজা নির্মাণ এবং প্রায় ৪৩ কিলোমিটার চার লেন এ মহাসড়কের উভয়পাশে ধীরগতির দুটি সার্ভিস লেন করা হবে।

এ ছাড়া গোলাপগঞ্জ পৌরশহরে ৬০০ মিটারের ফ্লাইওভার, চারখাই ও হেতিমগঞ্জ বাজারে দুটি পৃথক ৩০০ মিটারের ফ্লাইওভার এবং রানাপিং ও রামধা বাজারে ৫০ থেকে ৬০ মিটারের দুটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে কুশিয়ারা নদীর বর্তমান শেওলা সেতুর কাছে চার লেনে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।

সিলেট চারখাই শেওলা চার লেন মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক উৎপল সামন্ত বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে গত দুই বছরে নানা কারণে প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়ায় এই সময়ের মধ্যে প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। সেজন্য দায়িত্বশীলরা আরও দুই বছর মেয়াদ বাড়ানোর চিন্তা করছেন।

এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম বলেন, ‘সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের জায়গা অধিগ্রহণে আমাদের কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকায় সিলেট-চারখাই-শেওলা চার লেন মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণ কাজ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আমাদের কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। আশা করছি আগস্টের আগেই ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।’

সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দর চার লেন মহাসড়ক প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে সিলেটের বিয়ানীবাজার, দক্ষিণ সুরমা, গোলাপগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ এবং মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলাবাসী উপকৃত হবেন।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিটি