প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০২৬ ২০:০১ (শুক্রবার)
জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মুল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: ফখরুল ইসলাম

ছবি: সিলেট ভিউ।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার আগে ওয়াদা করেছিল তারা ক্ষমতায় গেলে ২ বছর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করবেনা। কিন্তু মাত্র ৩ মাসের মাথায় তারা অযৌক্তিকভাবে ৭৫ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি দেড় টাকা বৃদ্ধি করেছে। এমনিতেই দফায় দফায় জ্বালানী তেলের দাম এবং নিত্যপণ্যের উর্ধ্বগতির কারণে জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এমতাবস্থায় আবারো জ্বালানী তেল ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি জনগণের কাছে ‘মরার উপর খাড়ার ঘাঁ’এর মতো। অবিলম্বে গণবিরোধী এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।

 

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় গিয়ে একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তারা শপথ গ্রহণের পর থেকেই জনগণের সাথে প্রতারণা করছে। প্রথমে দুটি শপথ নেয়া থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে তারা প্রতারণা শুরু করে। এরপর পর্যায়ক্রমে গণভোট অস্বীকার, সংস্কার অস্বীকার ও জুলাই সনদ উপেক্ষার মাধ্যমে তাদের প্রতারণার মুখোশ জাতির নিকট উন্মোচিত হতে থাকে। সরকারের ৩ মাসের কর্মকান্ডে দেখে জনগণ ভাবতে শুরু করেছে- তারা ভোটে না, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার। তাই জনগণের প্রতি তাদের কোন দায়বদ্ধতা নেই।’

 

তিনি বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে সিলেট নগরীর ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্ট কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসুচীর অংশ হিসেবে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। দফায় দফায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান।

 

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নগরীর কোর্ট পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌহাট্টা পয়েন্টে গিয়ে সংক্ষিপ্ত পথসভার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে মহানগর, বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক জনশক্তি অংশ নেন।

 

মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেজন- মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী এডভোকেট মোঃ আবদুর রব, জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও মাওলানা ইসলাম উদ্দিন, সিলেট জেলা বারের বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট মোঃ আলিম উদ্দিন, মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এডভোকেট জামিল আহমদ রাজু ও জামায়াত নেতা মু. আজিজুল ইসলাম প্রমূখ।

 

সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। চুরি ডাকাতি খুন খারাবি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। ছোট্ট শিশুরাও নৃশংসতার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেনা। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধের কারণে ব্যবসায়ীরা দুর্বিষহ জীবনযাপন করেছে। তারা আর্থিক সংকটে পড়তে যাচ্ছে। এভাবে কোন দেশ চলতে পারেনা। ব্যবসায়ীদের সার্থে জামায়াত সবসময় পাশে থাকবে। সরকারকে গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় দায়িত্বশীল সংগঠন হিসেবে জামায়াত জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। 

 

অতিথির বক্তব্যে সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, এই সরকার ভোটের নয়, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সরকার। তাই তারা জনগণের উপর জুলুম শুরু করেছে। দফায় দফায় জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে তারা মানুষের জীবনযাত্রাকে সংকটে ফেলে দিয়েছে। মানুষ ঠিকমতো দু‘মুঠো ভাত খেতে পারছেনা। মানুষের জান মালের কোন নিরাপত্তা নেই। নারী ও শিশুরা পর্যন্ত ইজ্জত আব্রু রক্ষা করে চলতে পারছেনা। চাঁদাবাজি ও দখলবাজির কারণে মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ হলেও ইসলামী ব্যাংককে ডাকাতদের হাতে তুলে দিতে একের পর এক ষড়যন্ত্র করছে। এরমাধ্যমে তারা জনগণ নয়, ডাকাতদের সরকারে পরিনত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী জনগণের কল্যাণের রাজনীতি করে। তাই জনগণের সার্থে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছে। দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া