মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের রোগীদের খাবার সরবরাহের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতাকে পাশ কাটিয়ে রহস্যজনকভাবে তৃতীয় সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ প্রদানের প্রতিবাদে এবং উক্ত কার্যাদেশ বাতিলের দাবিতে উপ-পরিচালক (স্বাস্থ্য) সিলেট বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন টেন্ডার বঞ্চিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নাফি এন্টারপ্রাইজ।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক স্মারকে ইজিপি প্রক্রিয়ায় রোগীদের খাবার সরবরাহের জন্য টেন্ডার আহবান করা হয়। গত ১৬ মার্চে টেন্ডার খোলার পর দেখা যায়, মাহমুদ এন্টারপ্রাইজ ৩০ লক্ষ ২২ হাজার ২২০ টাকা দর দিয়ে প্রথম সর্বনিম্ন এবং নাফি এন্টারপ্রাইজ ৩০ লক্ষ ৫১ হাজার ৭৯০ টাকা দর প্রদান করে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে তালিকায় স্থান পায়।
অন্যদিকে জুনেদ জাহেদ ট্রেডার্স ৩০ লক্ষ ৫২ হাজার ১৭০ টাকা এবং আরিয়ান ট্রেডার্স ৩১ লক্ষ ৪৬ হাজার ৩০০ টাকা দর উল্লেখ করে যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে থাকে।
অভিযোগ উঠেছে, দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা 'নাফি এন্টারপ্রাইজ' থেকে ৩ শ ৮০ টাকা বেশি দর দেওয়া সত্তে¡ও নিয়ম বহির্ভ‚ত ভাবে তৃতীয় অবস্থানে থাকা জুনেদ জাহেদ ট্রেডার্সকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। টেন্ডার খোলার ১৫ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নিয়ম থাকলেও রহস্যজনক কারণে প্রায় ২ মাস ৮ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ঈদুল আজহার ছুটির ঠিক আগের দিন অত্যন্ত গোপনে ও তড়িঘড়ি করে এই কার্যাদেশ প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে নাফি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে আমার প্রতিষ্ঠান বিবেচনায় থাকার কথা থাকলেও রহস্যজনক কারণে কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। আমার ধারণা, অভ্যন্তরীণ কোনো গোপন আঁতাত বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে আমার প্রতিষ্ঠানকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমি কার্যাদেশ বাতিলসহ পূণরায় টেন্ডার আহবানের দাবী জানাচ্ছি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর দুলাল মিয়ার একক নিয়ন্ত্রণে চলছে হাসপাতালের অনেক কার্যক্রম। টেন্ডার প্রক্রিয়ার সাথে স্টোর কিপার জড়িত থাকার কথা থাকলে তিনি কিছুই জানেন না। স্যানিট্যারী ইন্সপেক্টর দুলাল মিয়া ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা: মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া একাই টেন্ডারের কাজ সম্পন্ন করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে যে, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এই কার্যাদেশটি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি টেন্ডার কমিটির অনেক সদস্যই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে গুঞ্জন উঠেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ভ‚ঁইয়া বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে টেন্ডার দেওয়ার নিয়ম আছে কি না তা খতিয়ে দেখবো।
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মামুনুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ব্যাক্তিকে প্রাথমিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহত দেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার জন্য বলা হয়েছে। পৃথকভাবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/জয়নাল/এসডি-০৮
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.